প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য সৈয়দ আশরাফ: ‘এই লোক এত ভালো কেন?’

সৈয়দ আশরাফ: ‘এই লোক এত ভালো কেন?’

72
সৈয়দ আশরাফ: ‘এই লোক এত ভালো কেন?’

সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা। রাষ্ট্রপতির ছেলে হয়েও রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধকালীন রাষ্ট্রপতির ছেলে হয়েও শুকনো রুটি খেয়েছেন, স্টেনগান হাতে মাটিতে বুকে ভর দিয়ে যুদ্ধ করেছেন।

ইন্ডিয়ার জেনারেল উবান স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে তার বইয়ে যে সাদামাটা, শান্ত আর বুদ্ধিদীপ্ত তরুণ যোদ্ধা আশরাফের কথা বলেছিলেন। তিনিই আমাদের এই সৈয়দ আশরাফ।

সেই সৈয়দ আশরাফ ৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বিলাতে চলে গিয়েছিলেন। সেখানে লেবার পার্টির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন।

সৈয়দ আশরাফ বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ছিলেন। অথচ হওয়ার কথা ছিল ব্রিটেনের লেবার পার্টির এমপি। ১৯৯৬ সালে উনাকে দেশে ফিরিয়ে আনেন শেখ হাসিনা। তারপর একাধারে ২২ বছর পার্লামেন্টারিয়ান। এক মেয়াদে প্রতিমন্ত্রী, দুই মেয়াদে মন্ত্রী।

শেখ হাসিনার নির্দেশে এমন এক এলাকায় নৌকার জয় ফিরিয়ে এনেছিলেন- যার রানিং এমপি ছিল আল বদর তাত্ত্বিক আতাউর রহমান খান, যে খালেদা জিয়াকেও পরোয়া করতো না। তারপর সৈয়দ আশরাফ ৯৬-এ বিমান প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন ওয়ান ইলেভেনের পর। শেখ রেহানার স্বামী ডক্টর শফিক সিদ্দিকী তার এক লেখায় বলেছিলেন- কিভাবে বিপর্যস্ত জিল্লুর রহমান শেখ রেহানাকে দিয়ে অনুরোধ করিয়েছিলেন সৈয়দ আশরাফকে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে অনুরোধ করেছিলেন। সেই দিন, এই দুইজনের জন্য বেঁচে গিয়েছিল আওয়ামী লীগ।

বই পড়তে ভীষণ ভালবাসতেন, প্রযুক্তিপ্রেমী আর কর্মীবান্ধব লোক ছিলেন উনি। দলের সাধারণ সম্পাদক থাকার সময়ে কাজ ভাগ করে দিয়েছিলেন ৩ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের হাতে। স্পষ্ট করে বলে দিয়েছিলেন, ক্যামেরাবাজির বাইরেও সেক্রেটারির কাজ থাকে। বাকী ৩ জন কেন আছে?

সৈয়দ আশরাফ কেমন সৎ? তিন মেয়াদে মন্ত্রী থাকার পরেও তার সম্পদ ক্রমাগত কমেছে। তার হলফ-নামাই সে কথা বলে। সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুর পর এই একটা কথা-ই মনে হয় সবার। ‘এই লোক এত ভালো কেন?’

এমনকি, কিশোরগঞ্জে উনার বিরোধী দলের লোকজনও অশ্রুসজল হচ্ছেন। সবার ভালোবাসা পেয়ে- ডান, বাম, লীগ- সুস্থ বিবেকবোধ সম্পন্ন সবার শ্রদ্ধা নিয়ে মরে যাওয়া- সহজ অর্জন নয়। সৈয়দ আশরাফ এমনটা করতে পেরেছিলেন।

হয়তো শত বছরেও এমন একজন রাজনীতিবিদ এই ভূখণ্ডে আসবেন না।

সম্পাদক/এসটি