প্রচ্ছদ শিক্ষাঙ্গন বিকেএসপিতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি: আবেদনের প্রক্রিয়া

বিকেএসপিতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি: আবেদনের প্রক্রিয়া

25
বিকেএসপিতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি: আবেদনের প্রক্রিয়া

দেশের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি)’ ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। এই মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত আবেদন পত্র জমা দেয়া যাবে। এক নজরে দেখে নেয়া যাক আবেদনের প্রক্রিয়াগুলো:

কেন বিকেএসপি?: ক্রীড়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। কয়েক দশক আগেও এই ক্ষেত্রটি শুধু মানুষের শখের বিষয় ছিল। কিন্তু আজ সাকিব-মুশফিক-এমিলিদের দেখে এদেশের লক্ষ-কোটি মানুষের চোখে স্বপ্ন ভাসে যে ক্রীড়াজগতে নিজের খুঁটি গাড়তে; দেশের জন্য, জাতির জন্য কিছু একটা করতে। আর সে স্বপ্ন পূরণের অন্যতম মাধ্যম দেশের এই ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

ভর্তির নিয়ম ও প্রাথমিক বাছাইপর্ব: প্রথমেই অনলাইনে আবেদন করতে হয়। বিকেএসপির নিজস্ব ওয়েব সাইটে bksp.gov.bd প্রবেশ করে নির্দেশন অনুযায়ী ফরম পূরণ করতে হয়। অনলাইনে পূরণকৃত এই ফরম বিকেএসপির জানানো নির্দিষ্ট দিনে সঙ্গে করে আনতে হয়।

আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ জানুয়ারি। এরপর ৪ দিনব্যাপী চলবে বাছাই প্রক্রিয়া। ক্রিকেট, হকি, ফুটবল ছাড়াও আরও ১৩টি খেলায় ভর্তির সুযোগ আছে সেগুলো হলো আর্চারি, অ্যাথলেটিকস, বাস্কেটবল, সাঁতার, টেবিল টেনিস, টেনিস,তায়কোয়ান্দো, বক্সিং, জুডো, শুটিং, উশু, কারাতে ও ভলিবল।

নিয়মকানুন: বিকেএসপি’র নিয়ম অনুযায়ী ৪র্থ থেকে ৭ম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া হয়। তবে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোররা ভর্তির সুযোগ পায় এখানে। আবেদন করার পর নির্দিষ্ট দিনে বিকেএসপির প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রশিক্ষণার্থীদের চূড়ান্ত ভর্তির জন্য বাছাই করা হয়। এসময় তিন ধাপে প্রশিক্ষণার্থী চূড়ান্ত করা হয়।

১ম পর্বে, স্বাস্থ্য ও বয়স পরীক্ষা করা হয়।

২য় পর্বে, শারীরিক সক্ষমতা দেখা হয়।

৩য় পর্বে, শিক্ষার্থীকে মাঠে পাঠানো হয় এবং ভর্তির বিষয় অনুযায়ী ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া হয়।

এই তিন পর্বে শুধু উত্তীর্ণদেরই পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে বাছাই ক্যাম্পে হাজির হতে বলা হয়। সেখানে সপ্তাহব্যাপী অনুশীলনের পর নেওয়া হয় ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা। পরীক্ষার বিষয় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান।

১ম ধাপ (স্বাস্থ্য পরীক্ষা): এই ধাপে প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসকেরা প্রশিক্ষণার্থীদের পরীক্ষাকরে। আবেদনকারীর বয়স, উচ্চতা, ওজন ও শারীরিক কোন সমস্যা থাকলে সেটা যাচাই করে। এখান থেকে ছাড় পেলেই ২য় ধাপে যাওয়া যায়। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের স্ব স্ব বিষয় সংশ্লিষ্ট মাঠে প্রেরণ করা হয়।

২য় ধাপ (শারীরিক সক্ষমতা): আবেদন অনুযায়ী স্ব স্ব গ্রাউন্ডেই হয়ে থাকে শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা। এখানে বিভিন্ন টেস্ট দিয়ে স্পিড (গতি), স্ট্রেংথ (শক্তি), অ্যান্ডুরেন্স (দম), এজিলিটি (ক্ষিপ্রতা), ব্যালান্স (ভারসাম্য), ফ্লেক্সিবিলিটি (নমনীয়তা) যাচাই করা হয়।

৩য় ধাপ (ব্যবহারিক পরীক্ষা): এই ধাপটাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন। আবেদনকারীদের খেলার বিষয় অনুযায়ী ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া হয়। এই তিনটি ধাপই এক দিনে অনুষ্ঠিত হয়। এখান টিকে গেলে সাত দিনব্যাপী বাছাই পরীক্ষার ডাকা হয়।

৭ দিনের আবাসিক ক্যাম্প: সাত দিনের এই আবাসিক ক্যাম্পে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নিজস্ব হোস্টেলে চূড়ান্ত নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু করা হয়। টানা ৭ দিন বিভিন্ন অনুশীলনে তাদের মেধা ও দক্ষতা যাচাই করা হয়। সঙ্গে লক্ষ্য করা হয় আবেদনকারীর আচার-আচরণ ও ব্যবহার।

এই পর্বের শেষ দিনে হয় ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা। যেখানে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। লিখিত পরীক্ষার্থীদের সিলেবাস হয় পূর্ববর্তী ক্লাশের পাঠ্যসূচি অনুযায়ী। অর্থাৎ ৭ম শ্রেণিতে ভর্তি হতে চাইলে ৬ষ্ঠ শ্রেণির সিলেবাসে পরীক্ষা দিতে হবে, ৪র্থ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চাইলে ৩য় শ্রেণির সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা হবে। এই ক্যাম্পের পর চূড়ান্ত তালিকা প্রদান করা হয়।

সম্পাদক/এসটি