প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত মওলানা সাঈদী ও জাফরির আসল রূপ

মওলানা সাঈদী ও জাফরির আসল রূপ

767
মওলানা সাঈদী ও জাফরির আসল রূপ

কায়সার আহমেদ

দেশ বিখ্যাত আলিম মাওলানা কামাল উদ্দিন জাফরির সাথে অনেক বছর আগে ইংল্যান্ডে খুব ঘনিষ্ট ভাবে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। তিনি আমার বড় ভাইয়ের বাসায় দুইদিন থেকেছিলেন।

আমার ভাই জামাতে ইসলামীর ইংল্যান্ডের সংগঠন ‘ইসলামিক ফোরাম’এর নেতা। এই সুবাদে মাওলানা সাঈদীও আমাদের বাসায় থেকেছেন। আমি থাকতাম তখন ভাইয়ের বাসায়। তাই প্রখ্যাত এই দুই আলিমের সাথে খুবই কাছের পরিবেশে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল একসময়।

উনাদের সম্পর্কে আমার ধারণা অনেক বড় ছিল, ছিল অনেক পবিত্র। কিন্তু কাছ থেকে দেখার পর সেই ধারণা অনেকটাই উবে গেছে। উনাদের কথাবার্তায় বেশির ভাগই লক্ষ করেছি অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি ঘৃণা আর ব্যঙ্গ বিদ্রুপ। বিশেষ করে কামাল উদ্দিন জাফরী সাহেব।

তিনি কথা প্রসঙ্গে আমাকে বলছিলেন, ইংল্যান্ডে ইংলিশদের কুকুরের প্রতি যে ভালোবাসা, তাদের নিজের সন্তানের প্রতিও সেটুকু ভালোবাসা নেই। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, সেটি কিভাবে হুজুর? তিনি বললেন, রাস্তায় দেখবে বাচ্ছাকে পুশ চেয়ারে বসিয়ে আর কুকুরকে কোলে নিয়ে হাঁটছে। আমি বললাম, হুজুর সেটা তো ওরা বাচচার সেফটির জন্য করে? বাচচাকে কোলে নিয়ে রাস্তায় হাঁটা স্বাস্থসম্মত নয়? তিনি বিরক্তির সুরে বললেন, না না, ওসব তুমি বুঝবে না। এরা নাসারা, বিধর্মী- তাই এমনটি করে।

এরপর তিনি প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে শুয়োরের রং আর ইংলিশ মানুষের চামড়ার রঙের কথা তুললেন। বললেন, খেয়াল করে দেখবে, ইংলিশ মেয়েরা যখন বুড়ো হয়, তখন ওদের মুখের চামড়া কুঁচকে গিয়ে শুয়োরের রং ধারণ করে। দেখতেও অনেকটা শুয়োরের মতো লাগে। এই কথার উপর আমি তখন তার ফর্সা মুখের বুড়ো লালচে চামড়াকে একটু বাড়তি নজরে খেয়াল করলাম। মনে হলো, আমিও যেন একটি শুয়োরের প্রতিচ্ছবি দেখছি তার মুখমণ্ডলে।

যে দুই মাওলানার তাফসীর শুনার জন্য সিলেটে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম দেখেছি সবসময়। এদের ভিতরের আসল রূপ আর মানসিকতা দেখার পর রীতিমতো ‘ভিমরি’ খেয়েছি তখন থেকেই। দীর্ঘ দশ/বারো বছর পরে এখন পত্রিকায় দেখছি মাওলানা জাফরীর সকল কীর্তিকলাপ। তিনি ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কলিগের বৌয়ের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে চার নম্বর বিবি হিসাবে বিয়ে করেছেন ৭৩ বছর বয়সে। মহিলার বয়স ৩৩। মহিলার স্বামীর স্বল্পকালীন বিদেশ ভ্রমণের অনুপস্থিতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি দুই বাচচা সহ মহিলাকে মিশরে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছেন। উনার তিন নম্বর বিবিও ছিলেন তার ঘরের এক ভাড়াটে প্রবাসীর স্ত্রী, যার সাথে সুহবতের সম্পর্ক স্থাপন করে তিনি ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছেন বলেই পত্রিকায় প্রকাশ।

এইসব ঘটনার পর তিনি জামায়াতে ইসলামীর সূরা সদস্য, ইসলামিক ব্যাংকের শরিয়া অ্যাডভাইজারের পদ থেকেও বহিষ্কৃত হয়েছেন! মাওলানা সাঈদীর তরুণী যুবতীর সাথে টেলিফোন স্ক্যান্ডালের ভিডিওটি আমি শুনেছি। আমি শতভাগ নিশ্চিত, এটা সাঈদীর কণ্ঠ। এরপরেও কেউ যদি গলা নকল করে এমনটি করে থাকে, এক্ষত্রে আমার মন্তব্য করা অনুচিত হবে। আপনারা ভিডিওটি শোনার অনুরোধ থাকলো।

আমি জানি এই লেখা অনেক জামাতীদের গায়ে ফোস্কা ফেলবে। আমি জামাত-বিএনপি-আলীগ বিচার করে কিছু বলি না। আমি ঘটনার চরিত্র এবং লেখার বিষয়কে ‘ফোকাস’ করেই কিছু লেখি। কামাল উদ্দিন জাফরী এবং মাওলানা সাঈদী দুই বিখ্যাত ব্যক্তি বলেই উনাদের আড়ালের চরিত্র সম্পর্কিত কিছু অভিজ্ঞতাকে শেয়ার করতে হলো।

অঘা মঘা চুনোপুটি টাইপের কেউ হলে এই লেখার দরকার পড়ত না। ধর্মের ‘সত্য-মিথ্যা’ যাচাই করা আমার বিভিন্ন লেখার মূল বিষয় নয়। মূল বিষয়, মানুষকে ‘ধার্মিক’ বা সৎ অসৎ বিচার করার ক্ষেত্রে ‘ধর্মীয় লেবাস’ বা তার ধর্ম চর্চার বিষয়টি কখনোই কোনো বিশ্বাসের মাপকাঠি হতে পারে না।

রাজাকার সাঈদীর ফোনসেক্সের অডিও শুনুন