প্রচ্ছদ বাংলাদেশ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নৌকা ৬, ধানের শীষ ২টি আসন পাবে যশোর ও মাগুরাতে

নৌকা ৬, ধানের শীষ ২টি আসন পাবে যশোর ও মাগুরাতে

77
নৌকা ৬, ধানের শীষ ২টি আসন পাবে যশোর ও মাগুরাতে

প্রতিবেশী দুই জেলা যশোর ও মাগুরায় নির্বাচনী আসন মোট ৮টি। যশোরে ভোটার সংখ্যা ২০ লাখ ৯১ হাজার ২৮৪।

জেলাটিতে নারী ভোটার ১০ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৭ এবং পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৭। অন্যদিকে মাগুরায় মোট ভোটার ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭২। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৯৫। আর নারী ভোটার ৩ লাখ ৪২ হাজার ৭৭। অতীত নির্বাচনগুলোর ফলাফল এবং ভোটের মাঠের নানা হিসাব-নিকাশ করে প্রেডিক্ট করা হয়েছে এই এলাকায় নৌকা ৬টি এবং ধানের শীষ ২টি আসনে জিতবে।

যশোর-১: যশোর-১ আসনে ১৭ বছর পর আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপির প্রার্থীদের সরাসরি লড়াই হচ্ছে। এখানে এবার আওয়ামী লীগের শেখ আফিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিএনপির মফিকুল হাসান তৃপ্তি। শেখ আফিল উদ্দিন আফিল গ্রুপের কর্ণধার এবং এই আসনের বর্তমান সাংসদ। ২০০৮ সালেও তিনি এখান থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিগত ১০ বছরে তিনি এলাকায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরী করেছেন। আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা এলাকায় সংঘবদ্ধ হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপি কিছুটা নিশ্চুপ অবস্থানে রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এখানে নৌকার জয়ের পাল্লাই ভারি।

যশোর-২: এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাসির উদ্দিন। অন্যদিকে বিএনপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ‍মুহাদ্দিস আবু সাইদ। আবু সাইদ ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়েতের প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে জয় পেয়েছিলেন। কয়েকদিন আগে তিনি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। একারণে তিনি সাধারণ জনগণের সহানুভূতি পেতে পারেন। এখান থেকে তাঁর জয়ের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছি আমরা। কারণ এই আসনের নৌকার প্রার্থী নাসির উদ্দিন এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি কিছুটা অনভিজ্ঞ। তাছাড়া এই এলাকায় আওয়ামী লীগ একতাবদ্ধ নয়।

যশোর-৩: যশোর-৩ আসন থেকে এবার নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছেন দুই দলের দুই তরুণ প্রার্থী। ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তার বিরুদ্ধে লড়ছেন নৌকার প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ। নাবিল আহমেদ জেমকন গ্রুপের কর্ণধার। তিনি এলাকার বর্তমান সাংসদ হলেও এলাকায় তার জনসমর্থন কম। অন্যদিকে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সদ্য প্রয়াত বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের ছেলে। যশোরে তরিকুল ইসলাম অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাঁর সন্তান হিসেবে অমিত এলাকাবাসীর অকুন্ঠ সমর্থন এবং ভালোবাসা পাচ্ছেন। একারণে এই আসনে ধানের শীষের জয় দেখছি আমরা।

যশোর-৪: এখানে আওয়ামী লীগের রণজিৎ কুমার রায়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির টি এস আইয়ুব। রণজিৎ কুমার রায় এই আসনের গত দুই মেয়াদের সংসদ সদস্য। এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির টি এস আইয়ুব ২০০৮ সালে এখান থেকে নির্বাচন করে হেরে যান। এবারেও তিনি জয় পেতে ব্যর্থ হবেন বলে মনে করছি আমরা। কারণ বিএনপির নেতা কর্মীরা একের পর এক অভিযোগ করলেও নির্বাচনের মাঠে তারা একেবারেই তৎপর নন।

যশোর-৫: এই আসনে আওয়ামী লীগের স্বপন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে লড়ছেন ইসলামি ঐক্যজোটের মুফতি ওয়াক্কাস। মুফতি ওয়াক্কাস ২০০১ এর নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়ে জয় পেয়েছিলেন। অন্যদিকে স্বপন ভট্টাচার্য ২০১৪ সালে এই আসন থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয় পান। এলাকায় তিনি জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী। অন্যদিকে মুফতি ওয়াক্কাস এবার ব্যাকফুটেই রয়েছেন। ধানের শীষে লড়লেও স্থানীয় বিএনপির সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছেন না তিনি। এ কারণে এই আসনে নৌকা জিতবে বলে মনে করছি আমরা।

যশোর-৬: এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইসমাত আরা সাদেক। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবুল হোসেন। এই এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রভাব বেশি। ১৯৯৬ সাল থেকেই এই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে। ইসমাত আরাও এই এলাকায় পারিবারিকভাবেই অত্যন্ত প্রভাবশালী। এই আসনের বর্তমান সাংসদ এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী তিনি। এখানকার তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝেও তিনি তুমুল জনপ্রিয়। বিগত ৫ বছরে তিনি এই নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। এসব কারণে এই আসনে নৌকার জয় দেখছি আমরা।

মাগুরা-১: মাগুরা-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব সাইফুজ্জামান শিখর। তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোয়ার হোসেন। এরা দুজনই এবারই প্রথম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। শিখর নতুন প্রার্থী হলেও দীর্ঘ ১০ বছর ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। একারণে মাগুরায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে তাঁর প্রভাব এবং জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই আসনে সংঘবদ্ধ হয়েই কাজ করছে আওয়ামী লীগ। এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বিএনপি শিবিরে। তারা যুদ্ধে নামার আগেই হাল ছেড়ে দিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ কারণে এখানে নিশ্চিতভাবেই নৌকার জয় হবে বলে মনে করছি আমরা।

মাগুরা-২: এবার মাগুরা-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এড. নিতাই রায় চৌধুরী। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী আলহাজ মুফতি মস্তোফা কামালও এই আসন থেকে ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। ত্রিমুখী লড়াই হলেও অতীত নির্বাচনগুলোর হিসাব-নিকাশ এবং বর্তমান পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের জয়ের আভাস দিচ্ছে।