প্রচ্ছদ বাংলাদেশ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের ৩৩ নির্বাচনী এলাকা ৬ পরিবারের নিয়ন্ত্রণে

দেশের ৩৩ নির্বাচনী এলাকা ৬ পরিবারের নিয়ন্ত্রণে

104
দেশের ৩৩ নির্বাচনী এলাকা ৬ পরিবারের নিয়ন্ত্রণে

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক পরিবার থেকে একাধিক ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। শুধু পরিবারের সদস্য নন, সেই সাথে শীর্ষ নেতৃত্বের আত্মীয়-স্বজনরাও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

সাধারণত উপমহাদেশের রাজনীতি পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। একইভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি অনেকটাই পরিবার-আত্মীয়দের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত তিন-চারটি পরিবারের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত। সেই হিসেবে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবার নিয়ন্ত্রণ করে বিএনপি। এরশাদ নিয়ন্ত্রণ করেন জাতীয় পার্টি।

এছাড়া এই দলেও বাইরেও ছোট কিছু দল নিয়ন্ত্রণ করে টাঙ্গাইলের সিদ্দিকী পরিবারসহ আরো অনেক পরিবার রয়েছে। পাশাপাশি বড় দলগুলোর বিভিন্ন এলাকাও দুই একটি পরিবার নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবার।

দেখা গেছে, এবার সংসদীয় ৩০০টি আসনে নিচের ৬টি পরিবার (রক্ত ও বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ) মোট ৩৩টি আসনে প্রার্থী হয়েছেন।

তবে এবার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাত্র এক আত্মীয় প্রার্থী রয়েছেন। নীলফামারী-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি খালেদা জিয়ার ছোট বোন সেলিনা ইসলাম বিউটির স্বামী।

এবার ১৯ আসনে প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর আত্মীয়-পরিজন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ-৩-এ, বঙ্গবন্ধুর চাচাত ভাই শেখ আবু নাসেরের ছেলে শেখ হেলাল উদ্দীন বাগেরহাট-১ এবং তার ছেলে শেখ সারহান নাসের তন্ময় বাগেরহাট-২। আর তার মেঝ চাচা শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল লড়বেন খুলনা-২ আসনে। প্রধানমন্ত্রীর ফুফাতো ভাই আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ বরিশাল-১-এ, তার ছোট বোনের দেবর মাহবুব উল আলম হানিফ কুষ্টিয়া-৩ আসনে। প্রধানমন্ত্রীর আরেক ফুফাতো ভাই সাবেক এমপি প্রয়াত ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর বড় ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) মাদারীপুর-১ লড়বেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরেক ফুফাতো ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিম গোপালগঞ্জ-২-এ, জামালপুর-১ শেখ সেলিমের ভায়রা আবুল কালাম আজাদ। শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা-১০ আসনে। শেখ হাসিনার প্রয়াত স্বামীর বড় বোনের নাতনি মাহবুব আরা গিনি গাইবান্ধা-২-এ লড়বেন।

ফরিদপুর-৩-এ প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তার মেয়ের জামাই অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না সিরাজগঞ্জ-২-এ লড়বেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার খালা শাশুড়ি হচ্ছেন আইভী রহমান। আইভী রহমানের সন্তান নাজমুল হাসান পাপন কিশোরগঞ্জ-৬-এ লড়বেন। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু নির্বাচন করবেন ঝালকাঠি-২ আসনে। তিনি সম্পর্কে শেখ হাসিনার ফুফা। জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ একদিকে শেখ হাসিনার ভাগ্নে। অন্যদিকে, শেখ হাসিনা হচ্ছেন পার্থের ফুফা শাশুড়ি। কেননা পার্থের আপন মামা হচ্ছেন শেখ সেলিম। আর বাগেরাটের শেখ হেলাল হচ্ছেন তার শ্বশুর। তিনি লড়বেন ঢাকা-১৭ থেকে।

শেখ সেলিমের বেয়াই বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তার স্ত্রী রোমানা মাহমুদ বিএনপির প্রার্থী। আরেক মেয়ের জামাই ববি হাজ্জাজ হারিকেন প্রতীক নিয়ে ঢাকা-৬-এ নির্বাচন করছেন।

নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবার থেকে নারায়ণগঞ্জ-৪-এ আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমান। তার ভাই একেএম সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫-এ জাতীয় পার্টির প্রার্থী।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঢাকা-১৭ ও রংপুর-৩ থেকে নির্বাচন করবেন। তার ভাই জিএম কাদের লালমনিরহাট-৩ আসনে। আর এরশাদের স্ত্রী প্রধান রওশন এরশাদ ময়মনসিংহ-৪ ও ময়মনসিংহ-৭ আসনে। এরশাদের ভাগনি জামাই জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু রংপুর-২ থেকে নির্বাচন করছেন।

কাদের সিদ্দিকীর বড় ভাই আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ আসনে এবং ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৫ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। মাহী বি. চৌধুরী মহাজোট থেকে মুন্সীগঞ্জ-১-এ নির্বাচন করছেন। টাঙ্গাইল-৮ ব্যারিস্টার কুঁড়ি সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল-৪ কাদের সিদ্দিকীর ছোট ভাই আজাদ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

সম্পাদক/এসটি