প্রচ্ছদ চিলেকোঠা কবিতা শিশির আজম-এর ১০টি কবিতা

শিশির আজম-এর ১০টি কবিতা

56
শিশির আজম-এর ১০টি কবিতা

শিশির আজম-এর কাবিতাগ্রন্থ: ছাই, ২০০৫। দেয়ালে লেখা কবিতা, ২০০৮। রাস্তার জোনাকি, ২০১৩। ইবলিস, ২০১৭। চুপ, ২০১৭। মারাঠা মুনমুন আগরবাতি।

১. পোকা

বিশ্রী পোকাটাকে এক পায়ে পিষে মেরে ফেললাম।
কি ভাষা কি সমাধিফলক জ্বলে আমলকি রঙের নাভি
এতো কীটপতঙ্গ পাখি নোংরা লোকজন
এদের কী দরকার এরা কেন

সবকিছুতে নিয়ম দরকার, না হলে টেকে না।
ও কি জানে তুলনামূলকভাবে ওর পেটটা মোটা
ঘুমোনোর সময় কেন ওর শুঁড়টা শুঁড়ের জায়গায় থাকে না
ঐ তো বাবা সূর্য ঐ বাঁশবাগান পেরিয়ে ধানক্ষেতের ওপর

এই পোকাদের আমি চিনি
কীভাবে এরা জীবন যাপন করে গা ঘিনঘিন
জিগ্যের করো এরা বলতে পারবে না ‘জীবন কী’
আর নিজেদের মরার জায়গাটা ঠিক কোথায়

২. টেরাকোটা

দেখছো আমার হাত নেই ঠোঁটে সেলাই।
দারোয়ান নেই। বন্ধ দরোজা ঠেলে কানে আসছে
পুলিশের গুতোগুতি ঠাট্টামশকরা
এই রাত সাড়ে ১২ টায়, ১৩ নম্বরে, মেয়েদের ঘরে।

পাহাড়ী বায়ুর অভিঘাত। শ-খানেক পিরামিড
পাঁচটা বইয়ের ভিতর
ঘুমিয়ে পড়তে পারে, যে বইগুলো লেখা হয়নি।
কেবল বিরামহীন তাদের হাড় চিবোনোর শব্দ।

এই অন্ধকার টেরাকোটা, দেয়ালের গভীর উচ্চতায়
এই বাগানের গুঞ্জন।
এখন শুরু হবে আমার ওড়া
পায়রার ঠোঁটে বীজের মতো।

৩. সাচ্চা সমালোচকদের জন্য

সমালোচকদের রুটিরুজির কথা মাথায় রেখে
এবারের প্রকাশনাটা হবে একটু অন্যরকম:
অঁরি মাতিসের কবিতা
শিশির আজমের ড্রইং।

৪. কাটা মাথার যন্ত্রণা

আমি আমার মাথাটা ফেলে এসেছি
এখন কী করা যাবে

অন্ধকার স্টেডিয়ামে একাকী এক দর্শক মশগুল
উড়াল পিরামিডের ভিতরটায় যা এক মস্তিষ্কের মতো

আমি তো তোমাদের কুকুরটার সঙ্গেই
গলাগলি করে ঘুমিয়ে ছিলাম

তোমরা বিরক্ত হোচ্ছ ঐ কালো মাছিটাকে নিয়ে
যা এতদিন আমার চোখের ভিতর শান্তিতে ছিল

আমি শুয়ে পড়েছি প্রজাপতির ঝর্ণায়
পান করছি পাখনাওলা এক চুমুক নক্ষত্র

যত গন্ডগোলের হোতা
তা ছিল আমার ঐ মাথাটাই
আর তার দোষ নিয়েছি আমি
এমন কি মাথাটা কেটে ফেলার পরও

মাথাটা কেউ না কেউ কুড়িয়ে পেয়েছে
এ তো ঠিক কারো না কারোর ঘাড়ের সঙ্গে
তা সেঁটে রয়েছে
আমরা দেখতে পাচ্ছিনে

৫. কালিপদ

কালিপদ নাপতির খুরে
ধার ঢের।

ছেলে বুড়ো পাড়ার মাস্তান
উঠতি কবি
শাসক দলের ওয়ার্ড সভাপতির ছেলে
সকলেই ঢোকে
কালিপদর দোকানে।

কালিপদ প্রতিবারই খুরের ধার
ঠিকঠাক দেখে নেয়।
এতে খদ্দেররা আরাম বোধ করে।

কালিপদ দেখে নেয় খুরের ধার
একটু ঝিমোয়
পাঁচ বছরের মেয়েটার খোড়া পা
হয়তো ঠিক হবে না।

আলা মাস্টার খবরের কাগজে জোরে জোরে পড়ছে:
কিশোরী তৃষার আত্মহত্যা
মাইকিং করে রামুর বৌদ্ধমন্দির ধ্বংস।

চালের দাম দ্বিগুন বেড়েছে
আরও বাড়বে
তেল-লংকা সাধ্যের বাইরে
এক টুকরো কাপড়ে বাইরে বেরোতে
বউটা লজ্জা পায়।

কালিপদ প্রতিবারই
খুরের ধার
ঠিকঠাক দেখে নেয়।

৬. বিছানা

তোমার তপ্ত কাঁঠালকাঠে আমি আধঘন্টা ঘুমোই আধঘন্টা পড়ি
আধঘন্টা শূন্যতার ভিতর গোঙাই আধঘন্টা বরফযুগ
আধঘন্টা মরুশেয়ালের অনুদ্ঘাটিত বীজতলা
দাঁতালো বাড়িগুলো গড়াতে গড়াতে আমার দিকেই আসছে

আমি তোমার আকাশ ধরবো তোমার রাখালের চিরস্থায়ী অসুখের পাশে
কিন্তু ওটা পুকুর ওটা কমবেশি ভীত
কেউ ওটাকে আঘাত করেছে
কেউ চুষেছে নাম না জেনে সময় না মেনে

হয়তো আবার আমি ঘুমোতে যাবো তোমার কাঠের বিষয়বস্তু না বুঝেই
তোমার বাদামি খড়ের গাদায়
বড় বড় বাতাসের খিয়েটারে
আমি ভীত হবো আর আঁকড়ে ধরবো তোমার কাঁকড়া

 

৯. এ্যান্টিকিউবিক

এইসব
অশুদ্ধ
কবিতা
এইসব
এই
অশুদ্ধ

 

১০. ইসরাইলি সৈন্য

দিনের পর দিন
বন্দুক তাক করে আছে ছেলেটা
বয়স কম
মা তার জন্য অপেক্ষা করছে।

মুত্যুর খবর আসছে—
সংখ্যায়
ওরা অনেক গুণ বেশি।

বন্দুক তাক করা—
মানুষ
এক ভাষা এক কাঁটাতার,
কেউ না কেউ মরছে।

একদিন, যদি এমন হয়
যে মরার মতো আর কেউ অবশিষ্ট নেই,
তখন?

বন্দুক নিরীহ কোন বস্তু না।
কে বলবে
ধৈর্য হারিয়ে
সে ঘুরে দাঁড়াবে না?