প্রচ্ছদ প্রবাস ১৯ ডিসেম্বর শুনানি, তারেককে ফেরত পাঠাচ্ছে বৃটেন?

১৯ ডিসেম্বর শুনানি, তারেককে ফেরত পাঠাচ্ছে বৃটেন?

389
১৯ ডিসেম্বর শুনানি, তারেককে ফেরত পাঠাচ্ছে বৃটেন?

খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বাধার মতো এমন অনেক বিষয় নিয়ে বিএনপি এখন বেসামাল অবস্থায়। এমন সময় বিএনপির জন্য আরেকটি ধাক্কা এসে উপস্থিত। বিএনপির পলাতক ভারপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়াকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে কিনা তা নিয়ে শুনানি দাখিল হয়েছে। এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ ডিসেম্বর বুধবার।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের নতুন হাই কমিশনার সাদিয়া তাসনিম মুনা দণ্ডিত ও পলাতক তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। সম্প্রতি তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। দায়িত্ব গ্রহনের পর এটাই ছিল তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর এ ব্যাপারে শুনানি ধার্য করেছে। এ শুনানিতে যে শর্তে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেছেন সেটা যদি মিথ্যে প্রমাণিত হয়, তাহলে তাকে ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী ডিপোর্ট করা হবে। এটা যদি করা হয়, তাহলে নির্বাচনের আগে বিএনপির জন্য হবে আরেকটি বড় ধাক্কা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার তারেককে ফিরিয়ে আনার জন্য যে আবেদন করেছেন, সে আবেদনে ৫টি অভিযোগ তারেকের বিরুদ্ধে করা হয়েছে। অভিযোগগুলো হলো:

১. তারেক জিয়া বাংলাদেশে দুটি মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন এবং কোন মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি। এ দুটি মামলা এখন উচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী উচ্চ আদালতে আপিল করতে গেলে নিম্ন আদালতেই আত্নসমার্পন করতে হয়। ন্যায় বিচার এবং সত্য প্রমাণের স্বার্থে তারেক জিয়াকে এখন দেশে পাঠানো জরুরি।

২. তারেক জিয়া যুক্তরাজ্যে বসে রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত। তিনি বাংলাদেশ সরকার উৎখাত, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা এবং নানা রকমের অপপ্রচারে লিপ্ত। যেটা ব্রিটিশ রাজনৈতিক আশ্রয়ের যে শর্তাবলী, তার সুস্পষ্ট লংঘন।

৩. রাজনৈতিক আশ্রয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম শর্ত হল যে, আশ্রিত ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক তৎপরতায় যুক্ত হতে পারবেন না। কিন্তু তারেক জিয়া শুধু রাজনৈতিক আশ্রয়ে যুক্তই নন। তিনি নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে বহাল রেখেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপিতে যে মনোনয়ন হয়েছে। সে মনোনয়ন চুড়ান্ত করার যে নীতি নির্ধারনী বোর্ড, সে বোর্ডের বৈঠকে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন স্কাইপির মাধ্যমে। এটা সুস্পষ্টভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের নীতিমালার লংঘন।

৪. তারেক জিয়া জঙ্গিবাদে মদদ এবং উস্কানি দেয়। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বেশকিছু তথ্য-প্রমাণ ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরে দেয়া হয়েছে। তাতে দেখা গেছে যে, তারেক জিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে। তাছাড়া একুশে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার মামলার রায়ের একটা সত্যায়িত কপিও ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দপ্তরে দেওয়া হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে, তারেকের সঙ্গে আফগান এবং পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলোর যোগসূত্রতা রয়েছে। এই যোগসূত্রের জন্য ব্রিটেনের নাগরিকদের রক্ষার স্বার্থেও তারেক জিয়াকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো জরুরি।

৫. তারেক জিয়া রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের যে আবেদন করেছিলেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরে। সেখানে তিনি মিথ্যে তথ্য দিয়েছেন বলে বাংলাদেশের হাইকমিশন থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এ মিথ্যে তথ্যের মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশে তার জীবন নিরাপদ নয়। তিনি হুমকির মুখে। তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। তার সুষ্ঠ বিচার হবে না। কিন্তু বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন এবং তাকে আইনের আওতায় সুষ্ঠু ন্যায় বিচার করা হয়েছে। এখনো তার আইনের আশ্রয় লাভের সুযোগ আছে। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী প্রত্যেকটা নাগরিকের আইনের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ রয়েছে। কাজেই আইনের আশ্রয় লাভের জন্য তার বাংলাদেশে প্রত্যার্পণ করতে হবে।

ব্রিটিশ আইন আনুযায়ী জানা গেছে যে, এ ব্যাপারে শুনানি হলে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। তারেক জিয়া নিজে এসে তার আইনজীবির মাধ্যমে তিনি শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অন্যদিকে ব্রিটেনে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে একজন আইনজীবি এ শুনানিতে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।

ব্রিটিশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত দুইদিন কর্মদিবসের মধ্যে এই শুনানি সম্পন্ন হয়ে যায়। কিন্তু ২১ শে ডিসেম্বর থেকে ব্রিটেন দীর্ঘ ছুটিতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রিসমাস এবং নতুন বছরের ছুটি। এই ছুটি শেষে ২রা জানুয়ারি আবার কার্যক্রম শুরু হবে। তাই নির্বাচনের আগে তারেক জিয়ার দেশে প্রত্যার্পণ বিষয়টি ব্রিটেনে সুরাহা হবে কিনা সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সম্পাদক/এসটি