প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য ৬ ডিসেম্বর এরশাদ পতন দিবস: স্বৈরাচারের দোসররা কে কোথায়?

৬ ডিসেম্বর এরশাদ পতন দিবস: স্বৈরাচারের দোসররা কে কোথায়?

308
৬ ডিসেম্বর এরশাদ পতন দিবস: স্বৈরাচারের দোসররা কে কোথায়?

নব্বইয়ের ৬ ডিসেম্বর যখন স্বৈরাচারী এরশাদের পতন ঘটে তখন যারা তাঁর দোসর ছিল পালিয়ে বেঁচেছিল। কিন্ত সেলুকাস! কি নির্মম। কি বিচিত্র এই দেশ। স্বৈরাচার পতনের পর যারা পালিয়েছিল, জনগণ যাদের ধাওয়া দিয়েছিল তাঁরা এখন রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয়েছে।

পৃথিবীর কোনো দেশেই এরকম পাওয়া যায় না। মারকেজের পতন হলে তাঁর দোসররা আর রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয়নি। গাদ্দাফি কিংবা সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর তাঁর দোসরদেরও খুঁজেও পাওয়া যায়নি। কিন্তু বাংলাদেশ অদ্ভুত এক দেশ। সব সম্ভবের এই দেশে স্বৈরাচারী এরশাদের পতন হলেও এরশাদ এবং তাঁর দোসররা রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয়ে ‘স্বৈরাচারের’ যে দুর্গন্ধ সেই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ: এরশাদের ওই সময়ের সহযোগীদের মধ্যে একজন ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি জাপার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এরশাদের যখন পতনের মুহূর্তেও তিনি টেলিভিশনে বক্তব্য দিচ্ছিলেন যে কীভাবে তিনি ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হবেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়ে তিনিও এখন গণতন্ত্রের ছবক দেন।

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন: দুর্গন্ধযুক্ত কথার জন্য বিখ্যাত ছিলেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। এরশাদের সময় তিনি উপপ্রধানমন্ত্রী এবং শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এখন তিনি বিএনপির বড় নেতা।

আ স ম আব্দুর রব: আ স ম আব্দুর রবকে বলা হতো এরশাদের গৃহপালিত বিরোধী দলের নেতা। ১৯৮৮’র নির্বাচনে কোনো দলই অংশগ্রহণ করেনি। তিনি কোথা থেকে দলবল, লোকজন নিয়ে একটা বিরোধী দল করেছিলেন। তাঁর কাজ ছিল এরশাদের পদলেহন। এ কাজ করে তিনি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা আদায় করে নিয়েছিলেন। ৯০ এর নির্বাচনের পর স্বৈরাচারের পতনের পর জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য তিনি পালিয়ে ছিলেন এবং তাঁর বাড়ি আক্রান্ত হয়েছিল। সেই আ স ম রবও এখন জাতিকে গণতন্ত্র শেখান।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ছিলেন এরশাদের আরেকটি একজন দোসর। এরশাদের মন্ত্রিসভার মন্ত্রী ছিলেন তিনি। কিন্তু এখন তিনি আর এরশাদের সঙ্গে নেই। জেপি নামে নতুন একটি দল করেছেন। জেপি করে মহাজোটে যোগ দিয়ে তিনি মহাজোটের মন্ত্রী হয়েছেন।

আনিসুর ইসলাম মাহমুদ: আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এখনো জাতীয় পার্টিতে আছেন। এরশাদের সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এখন মহাজোটের সঙ্গে আছেন।

জাফর ইমাম: তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী জাফর ইমাম এখনো জাতীয় পার্টিতে আছেন।

শেখ শহিদুল ইসলাম: শেখ শহিদুল ইসলাম এরশাদের আমলে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন তিনি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জেপিতে আছেন।

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু: জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু এখনো এরশাদের ঘনিষ্ঠ। তৎকালীন সময়ে তিনি এরশাদের খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পলায়ন করেছেন।

কাজী ফিরোজ রশীদ: এরশাদের শাসনামলে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন কাজী ফিরোজ রশীদ। এখনো এরশাদের ঘনিষ্ট হিসেবেই আছেন।

রুহুল আমিন হাওলাদার: রুহুল আমিন হাওলাদার ছিলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী। এরশাদের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা দীর্ঘদিনের। দুইদিন আগ পর্যন্তও তিনি জাতীয় পার্টির মহাসচিব ছিলেন।

একে খন্দকার: এরশাদের পরিকল্পনামন্ত্রী একে খন্দকার এখন আওয়ামী লীগে আছেন। মেজর মঞ্জুর কাদের: এরশাদের সেচমন্ত্রী মেজর মঞ্জুর কাদের এখন বিএনপিতে। নিতাই রায় চৌধুরী: এরশাদের আইন প্রতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এখন বিএনপি করেন।

আমরা স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি কিন্তু স্বৈরাচারের দোসররা এখন সব জায়গায় মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। এখন আলাদা করে স্বৈরাচার খোঁজা ‘লোম বাছতে কম্বল উজাড় হয়ে যাওয়া’র মত হয়ে গেছে।

সম্পাদক/এসটি