প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দুদের দেখে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে জামায়াত: শাহরিয়ার কবির

হিন্দুদের দেখে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে জামায়াত: শাহরিয়ার কবির

85
হিন্দুদের দেখে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে জামায়াত: শাহরিয়ার কবির

ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, জামায়াত যথেষ্ট পরিমানে সক্রিয় এবং তারা বিশেষ করে হিন্দুদেরকে ‘নির্বাচনের পরে দেখে নেবো, ভোটকেন্দ্রে গেলে খবর আছে’ এ ধরণের হুমকি দিচ্ছে।

বুধবার চ্যানেল ২৪-এর মুক্তবাক অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ করে যেসব স্থানে পুলিশ পৌঁছাতে দুই চার ঘন্টা সময় লাগে ওসব স্থানে অস্থায়ীভাবে হলেও পুলিশফাঁড়ি বসানো জরুরি। অনেক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘুরে আমি যেটা দেখেছি, বিশেষ করে হিন্দুরা বেশ আতঙ্কে আছে।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে যে ম্যাসাকার হয়েছিলো, ওইসময় কালিগঞ্জের সরকার বাড়ির মহিলারা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলো। তারা বলেছেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান গফুরের নেতৃত্বে তখন ম্যাসাকার হয়েছিলো। জামায়াত তাদেরকে এখনো হুমকি দিচ্ছে যে, নির্বাচনের পরে তোদেরকে দেখে নেবো। ভোটকেন্দ্রে গেলে খবর আছে। ঐ বাড়ির এক ছেলে বললো, আমাদেরকে কি আবারো দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে? ২০০১ সালে একবার এলাকাছাড়া হওয়ার পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা ফিরে এসেছে। এধরনের ঘটনা কিন্তু জামায়াত অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেই স্বাভাবিকভাবে বেশি ঘটে।

তিনি আরো বলেন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয়েছে বিশেষ করে হিন্দু সমাজ। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে এ পর্যন্ত আমরা ৬১টি নির্বাচনী এলাকার লিস্ট করেছি এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছি। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন। সেসব এলাকাগুলোকে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ বলছি, যেখানে জামায়াত বা মৌলবাদী জঙ্গী-গোষ্ঠীরা অপেক্ষাকৃত বেশি সংগঠিত।

এসব এলাকায় ২০০১ এবং ২০১৪ সালে আমরা দেখেছি, ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। কিছু এলাকা আছে, পুলিশ খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগে দুই-আড়াই ঘন্টা বা চার পাঁচ ঘন্টার চেয়ে বেশি। ততক্ষণে গ্রাম পুড়ে ছাই, সন্ত্রাসীরাও চলে গেছে। সেখানে অবিলম্বে পুলিশফাঁড়ি বসানোর প্রস্তাব দিয়েছি এবং প্রত্যেক ফাঁড়িতে দুইজন করে পুরুষ-মহিলা চিকিৎসক রাখার অনুরোধ করেছি।

জঙ্গি-তৎপরতা একটি চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে শাহরিয়ার কবির বলেন, নির্বাচনের সময় এটি বাড়বে খুবই স্বাভাবিক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাফল্যের সাথে মাঠ-পর্যায়ের ক্ষুদ্র জঙ্গিদের ধরেছে। তবে রাঘব-বোয়ালরা এখনো পর্দার আড়ালে রয়ে গেছে। আমরা জানি যে, জামায়াত জঙ্গিদের গডফাদার। তারা এবার নির্বাচনে যাচ্ছে। এইচটি ইমাম সাহেবও কথাটি বলেছেন। আফগান-ফেরত জঙ্গিদের কেউ কেউ প্রার্থী হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। ৯ তারিখের পর এ বিষয়টি পরিষ্কার জানতে পারবো।

খুলনা বিভাগ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেন শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, খুলনা বিভাগীয় জেলা-প্রশাসকের সঙ্গে আমরা বসেছি। নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও বসেছি। জামায়াতের তৎপরতা খুলনা বিভাগে বেশি। অন্যান্য মৌলবাদীর তৎপরতাও বেশি। আজকেই বাগেরহাটের কোমরপুর থেকে টেলিফোনে একজন জানালো ঠাকুরবাড়ীতে তাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। পুলিশকে খবর দেয়ার পর সাথেসাথে পুলিশ এসেছে এবং দেখে চলে গেছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে- সামনে আরো একমাস সময় পড়ে আছে ততদিনে কী না কী হয় তার জন্য তারা আতঙ্কিত।

সম্পাদক/এসটি