প্রচ্ছদ বাংলাদেশ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঢাকা-১৯ আসনে এনাম ও সালাউদ্দিনের লড়াই, কে এগিয়ে?

ঢাকা-১৯ আসনে এনাম ও সালাউদ্দিনের লড়াই, কে এগিয়ে?

59
ঢাকা-১৯ আসনে এনাম ও সালাউদ্দিনের লড়াই, কে এগিয়ে?

আসন্ন নির্বাচনে যে আসনগুলোতে বড় দুটি দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই হবে তার একটি হলো ঢাকা-১৯। জাতীয় সংসদের ১৯২ নং আসনটিতে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ডা. এনামুর রহমান এনাম। তিনি আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য। অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

২০০৮ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাভার উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে ঢাকা-১৯ আসনটি গঠন করা হয়। সাভার একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে বর্তমানে ঢাকা-১৯ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে আছে। এরমধ্যে ২০০৮ সালে এই আসন থেকে জয় পান তৌহিদ জং।

এরপর ২০১৪ সালে ডা. এনামুর রহমান এই আসনের সাংসদ হন। সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজের কর্ণধার তিনি। মাত্র এক মেয়াদে সাংসদ থেকেই তিনি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। রানা প্লাজা ট্রাজেডির সময় এনাম মেডিকেল কলেজ প্রথম আলোচনায় আসে। সেসময় আহত পোশাক শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুনাম কুড়িয়েছিল তারা। কিন্তু এরপর বিভিন্ন সময়ে মেডিকেল কলেজটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও চিকিৎসায় গাফেলতির অভিযোগ উঠতে শুরু করে। গত সেপ্টেম্বরে এই মেডিকেলে পর পর তিনবার ভুল অপারেশনের ফাঁদে পড়ে রোকসানা নামের এক প্রসুতির মৃত্যু হয়। এরপর মৃতের লাশ আটকে রেখে তার পরিবারের কাছ থেকে বিল বাবদ ৩ লাখ টাকা আদায় করে নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ আছে, ডা. এনামের কারণে প্রশাসন কখনোই এই মেডিকেলটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। অনেকে এমনটাও বলে থাকেন যে ডা. এনাম মূলত কোনো রাজনীতিবিদই নন। তিনি আওয়ামী লীগের মুখোশ পড়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করে নিচ্ছেন।

ঢাকা-১৯ আসনের এনামুর রহমান বিভিন্ন কারনেই একজন বিতর্কিত প্রার্থী। তবে এই আসনের বিএনপি প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে আছেন। দুর্নীতি ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে ভূমিদস্যুতা ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তারেক জিয়া হাওয়া ভবনে যে সমান্তরাল সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাঁর অন্যতম সহযোগী ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। সেসময় তারেকের কমিশন বাণিজ্য, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ সব অপকর্মের সাহায্যকারী ছিলেন এই সালাউদ্দিন।

ঢাকা-১৯ আসনের দুজন প্রার্থীই নানা অভিযোগে অভিযুক্ত। একারণে এই আসনের নির্বাচনকে দুই দুষ্টের লড়াই হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। নির্বাচনী এলাকাটির জনগণ এবার মন্দের ভালো হিসেবে কাকে বেছে নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।

সম্পাদক/এসটি