প্রচ্ছদ স্পটলাইট জিয়া পরিবারকে মাইনাস করতে ভারতের কাছে ফখরুলের মুচলেকা?

জিয়া পরিবারকে মাইনাস করতে ভারতের কাছে ফখরুলের মুচলেকা?

94
জিয়া পরিবারকে মাইনাস করতে ভারতের কাছে ফখরুলের মুচলেকা?

নির্বাচনে জয়ী হলে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হবেন না, এরকম একটি মুচলেকা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল ৭ দফা আশ্বাসসহ মুচলেকা দিয়েছেন ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে।

সম্প্রতি বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা এই মুচলেকার খবর জেনেছেন। দলীয় ফোরামে কোনো রকম আলোচনা ছাড়া কীভাবে এই অঙ্গীকারনামা দেওয়া হলো, তা নিয়ে তোলপাড় চলছে বিএনপিতে।

জানা গেছে, নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিএনপি মহাসচিব ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ৭ দফা অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই অঙ্গীকারনামা তৈরি করা হয়েছে ড. কামাল হোসেনের মাতিঝিলের ল’ চেম্বারে। অঙ্গীকারনামায় যে ৭টি অঙ্গীকার করা হয়েছে, সেগুলো হলো:

১. জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে কোনো পরিস্থিতিতেই বেগম খালেদা জিয়া বা তারেক জিয়া প্রধানমন্ত্রী হবেন না। ২. জিয়া পরিবারের কেউ মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

৩. জামাতের যেসব ব্যক্তি বিএনপির প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে, তাদেরকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে না। ৪. জঙ্গিবাদ বা মৌলবাদি গোষ্ঠীকে আশ্রয়, প্রশ্রয় বা পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা হবে না।

৫. আওয়ামী লীগ বা অন্যকোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রতিহিংসামূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। বিদায়ী সরকারের নেতা-কর্মীদের ঢালাও গ্রেপ্তার থেকে বিরত থাকা হবে।

৬. আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া বেগম জিয়া বা তারেক জিয়াকে মুক্ত করার কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না। ৭. বিএনপি একা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে ঐক্যমতের ভিত্তিতে দেশ চালাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির সঙ্গে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে এইসব বিষয়ে বিএনপির সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। বিএনপি মহাসচিব এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন একাধিক বৈঠকে এ ব্যাপারে মৌখিক অঙ্গীকার করেন। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে লিখিত অঙ্গীকার চাওয়া হয়।

এ পরিপ্রেক্ষিতে, ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ইংরেজিতে লেখা এই মুচলেকা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সম্প্রতি বিএনপির চট্টগ্রাম অঞ্চলের একজন নেতা ভারতীয় দূতাবাসের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে নৈশভোজে মিলিত হলে ঐ অঙ্গীকারনামা প্রসঙ্গে কথা হয়।

বিএনপির ঐ শীর্ষ নেতা বলেন, এ ধরনের কোনো মুচলেকার কথা তিনি জানেন না। পরে ঐ নেতা বিষয়টি নিয়ে দলের সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলেন। এ নিয়ে বিএনপির নেতারা বিএনপি মহাসচিবকে জিজ্ঞেস করলে তিনি এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে বিএনপিতে এখন তোলপাড় চলছে।

সম্পাদক/এসটি