প্রচ্ছদ বাংলাদেশ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রাপ্তরা ‘বহিরাগত’, বিদ্রোহ বিএনপির তৃণমূলে

ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রাপ্তরা ‘বহিরাগত’, বিদ্রোহ বিএনপির তৃণমূলে

239
ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রাপ্তরা ‘বহিরাগত’, বিদ্রোহ বিএনপির তৃণমূলে

নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের হারাতে দুই জোট গঠন করেছে বিএনপি। বৃহত্তর ত্যাগ স্বীকারের কথা বলে দুই জোটের শরিকদের জন্য অন্তত ৭০টি আসন ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের শীর্ষ নেতারা। কিন্তু তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এদের বলছেন ‘বহিরাগত’।

শুধু শরিকদের নয় দলে যাঁরা নির্বাচনের জোয়ারে ভেসে এসেছেন সেই নবাগত এবং সংস্কারপন্থীদেরও প্রতিহতের ডাক দিয়েছে বিএনপি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভোট যুদ্ধ ছেড়ে, এখন নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত বিএনপি।

মৌলভীবাজার-২ আসনে বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে মনোনয়ন দিয়েছে। সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে প্রতিহতের ডাক দিয়েছে স্থানীয় বিএনপি। দলের মহাসচিবের কাছে ঐ আসনের স্থানীয় বিএনপির নেতারা চিঠি লিখেছেন। ঐ চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এই এলাকায় সারাজীবন বিএনপিকে খুনিদের দল বলেছেন।

খালেদা জিয়াকে নোংরা ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তারেক জিয়াকে শ্রেষ্ঠ দুর্নীতিবাজ বলেছেন। এখন তাঁকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না।’ স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা সভা করে সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে প্রতিহতের ডাক দিয়েছেন।

লক্ষ্মীপুরের সবকটি আসন ঐতিহাসিক ভাবেই বিএনপির। ২০০৮ এর নির্বাচনেও বিএনপি লক্ষ্মীপুরের সব আসনে জয়ী হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘এখানে কলাগাছকে ধানের শীষ দেওয়া হলে সেও জিতবে। সেই লক্ষ্মীপুরের-৪ আসনে জেএসডির আসম আবদুর রবকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ায় এখন বিদ্রোহ চলছে। স্থানীয় বিএনপি বলছে, রবের কোনো দল নেই। কোনো সমর্থক নেই। ধানের শীষ প্রতীক না পেলে, তার জামানত থাকবে না।

গত ১ ডিসেম্বর স্থানীয় বিএনপি এক কর্মীসভা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বহিরাগতদের প্রতিহত করা হবে। ঐ আসনে বিএনপির একটি অংশ আসম আবদুর রবকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে।

বগুড়া-২ আসনটি বিএনপি জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ছেড়ে দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে বিএনপি স্থানীয় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে প্রার্থী করেছে।

পটুয়াখালী-৩ আসনে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া গোলাম মাওলা রনিকে ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করছে স্থানীয় বিএনপি। তাঁকে এলাকায় ‘টাউট’ রাজনীতিবিদ হিসেবেই ডাকা হয়। স্থানীয় ছাত্রদল লিখিত চিঠি দিয়ে রনির সঙ্গে কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়া বহিষ্কার করেছিলেন জহির উদ্দিন খান স্বপনকে। ওয়ান ইলেভেনে স্বপন নিজে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারে মদদ দিয়েছেন। সেই স্বপনকে এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বরিশাল-১ আসনে। কর্মীরা বিক্ষুব্ধ। জেলা বিএনপি ইতিমধ্যে স্বপনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে।

সব এলাকাতেই বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছে, গত ১২ বছর যাঁরা দলের জন্য কষ্ট স্বীকার করেছে, জেল জুলুম নির্যাতন স্বীকার করেছে, তাদের মধ্য থেকে যাঁকে ইচ্ছে মনোনয়ন দেয়া হোক আপত্তি নেই। কিন্তু বহিরাগত এবং সুবিধাবাদীদের মনোনয়ন দেওয়া হলে তা প্রতিহত করা হবে। বিএনপিতে এখন এমন নেতা নেই, যার নির্দেশে কর্মীরা সব মেনে নিয়ে শান্ত হবে।

সম্পাদক/এসটি