প্রচ্ছদ বাংলাদেশ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঢাকা-৩ আসনে মন্ত্রী নসরুল ও গয়েশ্বরের লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

ঢাকা-৩ আসনে মন্ত্রী নসরুল ও গয়েশ্বরের লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

129
ঢাকা-৩ আসনে মন্ত্রী নসরুল ও গয়েশ্বরের লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

এবারের নির্বাচনে যে আসনগুলোতে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই হবে তার মধ্যে একটি ঢাকা-৩ আসন। এই আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন নসরুল হামিদ বিপু। তিনি আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

দুজনই তাদের নিজ দলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। নিজেদের নির্বাচনী এলাকাতেও তাদের দুজনেরই ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। একারনে ঢাকা-৩ আসনের নির্বাচনি লড়াইকে সেয়ানে সেয়ানে টক্কর হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

ঢাকা-৩ সংসদীয় আসনটি জাতীয় সংসদের ১৭৬ নং আসন। আসনটি কেরানিগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই নির্বাচনী এলাকার ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৪৭ জন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৩ আসনে জয় পান আওয়ামী লীগ প্রার্থী বোরহান উদ্দিন আহমেদ গগন। এরপর থেকে কয়েক দশক এই আসনে জয়বঞ্চিত ছিল আওয়ামী লীগ।

১৯৭৯-তে বিএনপির প্রার্থী শামসুল হক এই আসনে জয়লাভ করেন। এরপর ১৯৮৬ ও ৮৮ পরপর দুটি নির্বাচনে ঢাকা-৩ আসনটি নিজেদের দখলে নেয় জাপা। নব্বইয়ে স্বৈরশাসনের পতনের পর ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই আসনে বিএনপির আমানুল্লাহ আমানের একক আধিপত্য ছিল। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ পরপর তিনটি নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পরাজিত করেছিলেন। এরমধ্যে ২০০১ এ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর কাছে হেরে যান নসরুল হামিদ।

নির্বাচনের মাঠে দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি হচ্ছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নসরুল হামিদ। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে সরাসরি লড়াই হয়েছিল তাদের। ওই নির্বাচনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে প্রায় ৪২ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সাংসদ হন তিনি। সেসময় নসরুল হামিদ পেয়েছিলেন ১ লাখ ১২ হাজার ৬২৩টি ভোট আর গয়েশ্বর ৭০ হাজার ৬৮০টি ভোট পেয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনেও তিনি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। দেশের অধিকাংশ আসনেই আওয়ামী লীগের মধ্যে আন্তকোন্দল থাকলেও ঢাকা-৩ আসন এর ব্যতিক্রম। এলাকার নেতা কর্মী সকলেই নসরুল হামিদকে সমর্থন দিয়েছেন।

তাছাড়া টানা দুই মেয়াদে এই আসনের সাংসদ নির্বাচিত হয়ে নসরুল হামিদ এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নকাজ করেছেন। একারণে টানা তৃতীয়বারের মতো ঢাকা-৩ এর দায়িত্ব নিতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী নসরুল। অন্যদিকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী হলেও এর আগে কখনোই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হননি তিনি।

এমনকি ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি কখনো এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়নও পাননি। ২০০৮-এর নির্বাচনে মনোনয়ন পেলেও হেরে যান তিনি। এরপর ২০১৪ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে অংশই নেননি গয়েশ্বর। এ কারণে এবারের নির্বাচনটি তাঁর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জই বলা যেতে পারে।

কেরানীগঞ্জে এবারের নির্বাচনী যুদ্ধে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটাররা সবথেকে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নিজেও একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী। সংখ্যালঘু ভোটারদের মাঝে তাঁর জনপ্রিয়তাও রয়েছে। তবে বিএনপি জামাত জোটের প্রার্থী হওয়ায় তাকে নিয়ে ভোটারদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষও কাজ করে।

এবারের নির্বাচনে তাঁর অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন তাঁর পুত্রবধূ নিপুণ চন্দ্র রায়। নিপুন নিজে একজন বিএনপি নেত্রী। তাঁর বাবাও কেরানীগঞ্জের শক্তিশালী বিএনপি নেতা। ঢাকা-৩ আসনে গয়েশ্বর পারিবারিকভাবেই বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

অন্যদিকে নসরুলও রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। সব দিক থেকেই তারা প্রায় সমানে সমান। দুজনই জয় পেতে বদ্ধ পরিকর। গয়েশ্বর এক দশক আগের হারের প্রতিশোধ নেবেন নাকি নসরুল তাঁর রাজত্ব ধরে রাখবেন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

সম্পাদক/এসটি