প্রচ্ছদ বাংলাদেশ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১/১১-এর মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা: বিএনপিকে আ’লীগের হুঁশিয়ারি

১/১১-এর মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা: বিএনপিকে আ’লীগের হুঁশিয়ারি

286
১/১১-এর মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা: বিএনপিকে আ'লীগের হুঁশিয়ারি

প্রকাশ্যে দুই দলের যুদ্ধংদেহী অবস্থান। আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণ। আর গোপনে এখনো তারা আলাপ আলোচনা করছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিএনপিকে থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যানকে বলেছেন, ‘নির্বাচন না করলে কিছুই পাবেন না। খালেদা জিয়ার মুক্তিও হবে না।’ অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘পুলিশকে থামান।’ গত ১ ডিসেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অন্তত ৪টি বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে। এসব বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর অন্য একজন উপদেষ্টা এবং একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ এবং আবদুল আউয়াল মিন্টু অংশ নিয়েছেন। তবে দুপক্ষ থেকেই বলা হয়েছে, এসব আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়, স্রেফ সামাজিক অনুষ্ঠানে আলাপচারিতা। তবে এসব আলাপচারিতায় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু যে আলোচনা হয়েছে তা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, ‘আমরা বিএনপিকে প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়ের কথা জানিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চান একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, যেখানে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হবে।’ ড. রিজভী বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে নির্বাচন করতে সংকল্পবদ্ধ।’

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোতে বলছি, নির্বাচনে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।’ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকে বিএনপি পুলিশের বাড়াবাড়ি নিয়েই সবচেয়ে বেশি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, আওয়ামী লীগের অন্তত দু’জনকে বলেছেন, ‘পুলিশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাঠে বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাঁড়াতেই দিচ্ছে না। এরকম পরিস্থিতি হলে, বিএনপির নির্বাচনে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।’

সূত্রমতে, বিএনপি নির্বাচনে যাবার ব্যাপারে সরকারকে ৪টি শর্ত দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই শর্তগুলো হলো:

১. নির্বিচারে গণগ্রেপ্তার, হয়রানি বন্ধ করতে হবে। নির্বাচন পর্যন্ত গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে। ২. নির্বাচনে যেসব প্রার্থী জেলে আছেন তাদের মুক্তি দিতে হবে।

৩. সারাদেশে বিএনপির নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত করতে হবে। ৪. আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই এই ৪টি বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে কথা বলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি মহাসচিবকে ‘বিষয়টি দেখবেন’ বলে আশ্বস্ত করেছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিএনপিকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে, নির্বাচনের পর বেগম জিয়ার জামিনসহ অন্যান্য বিষয়গুলো দেখা হবে।

আওয়ামী লীগ অগণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গে হাত না মেলাতেও বিএনপিকে অনুরোধ করেছে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বিএনপি মহাসচিবকে বলেছেন, ‘আরেকটা ওয়ান ইলেভেনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে, খালেদা জিয়া কোনোদিনই মুক্তি পাবেন না।’

সম্পাদক/এসটি