প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য ক্ষমতায় থেকেও সম্পদ বাড়েনি মহাজোটের অনেক শীর্ষ নেতার

ক্ষমতায় থেকেও সম্পদ বাড়েনি মহাজোটের অনেক শীর্ষ নেতার

342
ক্ষমতায় থেকেও সম্পদ বাড়েনি মহাজোটের অনেক শীর্ষ নেতার

ক্ষমতায় থাকলে বৈধ ও অবৈধ উপায়ে সম্পদ বাড়বে, থাকবে সম্পদের পাহাড়। ক্ষমতাসীর দলের কোন কোন নেতাদের সম্পদ বাড়ল তাই নিয়েই থাকে জল্পনা-কল্পনা ও সংবাদ। তবে ক্ষমতাসীন দলের অনেক র্শীষ নেতা যারা সরকারের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেও সম্পদের পাহাড় গড়েননি তাদের খবর চাপা পড়ে যায় অন্যদের সম্পদ বাড়ার খবরের নিচে।

এমনই অনেক র্শীষ নেতা রয়েছেন যারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং করছেন টানা দুই মেয়াদে সরকারের থাকা আওয়ামী লীগে, যাঁরা জনগণকে ভালোবেসে গণতন্ত্রের জন্য কাজ করছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের অনেক প্রার্থীর হলফনামা থেকে সম্পদের স্বচ্ছ হিসাব পাওয়া যায়, বাস্তবিক অর্থেও তাদের অবৈধ সম্পদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। টানা দুই সরকারে থাকা আওয়ামী লীগের র্শীষ নেতাদের এ তালিকায় রয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সমাজ কল্যানমন্ত্রী ও আওয়ামী জোটে থাকা বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। এছাড়া সম্পদ বাড়েনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতসহ অনেক র্শীষ নেতার।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সম্পদ বাড়েনি বরং স্ত্রীর নিকটই দেনা রয়েছে ৫ লাখ টাকা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসিম সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী। মন্ত্রিত্বের ভাতা ব্যতীত অন্য কোনো আয় নেই আওয়ামী লীগের এ নেতার। পেশায় ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক নাসিমের আয়ের উৎস শুধু মন্ত্রী হিসেবে প্রাপ্ত বেতন ও ভাতা বাবদ ৩২ লাখ ৮৭ হাজার ৫৮০ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের কাছে নগদ ৭ লাখ ২৮ হাজার ৫৭২ টাকা রয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ১ লাখ ১ হাজার ২৭৬ টাকা। গাড়ির মূল্য ৬৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৮ টাকা। স্বর্ণ ৩০ তোলা, যার মূল্য ৮ লাখ টাকা। আসবাবপত্র রয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার। ইলেকট্রনিক পণ্য ২ লাখ টাকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। দায়-দেনা অংশে তিনি স্ত্রীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন।

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা ড. হাছান মাহমুদের সম্পদ গত ৫ বছরে আগের চেয়েও কমেছে। নানা কারণে নিজের অনেক সম্পদ বিক্রি করেছেন তিনি। একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিজ আসনে রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরনীর হলফনামা থেকে জানা গেছে এসব তথ্য। গত ১০ বছর ধরে ড. হাছান মাহমুদ জাতীয় সংসদ সদস্য। প্রথমবার জয়ী হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন (৬ মাস), পরবর্তীতে সাড়ে ৪ বছর পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন। দ্বিতীয় দফা সাংসদ নির্বাচিত হয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

হলফনামা সূত্রে জানা যায়, একাধিকবার মন্ত্রী এমপি হলেও ড. হাছান মাহমুদের নিজস্ব কোন বাড়ি বা ফ্ল্যাট নেই ঢাকা ও চট্টগ্রামে। ঢাকায় সাড়ে ৩ হাজার বর্গফুটের একটি অফিস ফ্লোর থাকলেও সম্প্রতি এটিও তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন আর্থিক প্রয়োজনে। এছাড়া রাজনীতির বাইরে চট্টগ্রামে বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিস নামে একটি ব্যাক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ড. হাছান মাহমুদ ও তার স্ত্রী এর যৌথ মালিকানায়। এই প্রতিষ্ঠানের নামে রাঙ্গুনিয়ায় ৩ একর জায়গা কেনা হয়। বর্তমানে সেই জায়গার বড় একটি অংশ দান করে দিয়েছেন এতিমখানার জন্য। ড. হাছান মাহমুদের বার্ষিক আয় ২৬ লাখ ৬২ হাজার ৬০৩ টাকা। এর মধ্যে তার গাড়ি কেনার ঋণ এবং অন্যান্য পাওনাদারের কাছে ঋণ হিসেবে দেনা রয়েছেন এক কোটি ২১ লাখ টাকা। তার নিজের স্থাবর সম্পদ বলতে পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া চট্টগ্রাম শহরে এবং গ্রামের বাড়িতে দুটি বাড়ি। এগুলো মালিকানায় হাছান মাহমুদসহ তার সব ভাই-বোন।

স্থাবর সম্পদ বাড়েনি রাখেদ খান মেননের। পত্রিকায় লেখা ও টিভি টকশো বাবদ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আয় দেখালেও একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচনে এ সংক্রান্ত কোনো আয় নাই সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের। এছাড়া একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার আসবাবপত্র, ইলকট্রিক সামগ্রী ও হাতে ঋণ কমেছে। তবে, নগদ টাকা বেড়েছে মন্ত্রীর। দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের হলফনামা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় পেশা হিসাবে রাজনীতিকে উপস্থাপন করেন মন্ত্রী। কিন্তু দশম সংসদ নির্বচানে পেশা হিসাবে সুদীপ্ত প্রিন্টার্স অ্যান্ড প্যাকেজেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও গেন্ডাব ট্রাভেলস (প্রা.) লিমিটেডের চেয়্যারম্যান (অবৈতনিক) হিসাবে ঘোষণা করেন। ওই সময় ব্যবসা থেকে তিনি ৬ লাখ টাকার আয় দেখান হলফনামায়। কিন্তু একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি ব্যবসা থেকে কোনো আয় নাই বলে জানান।

কয়েক বছরের ব্যবধানে সম্পদ দ্বিগুণ বাড়লেও চোখে পড়ার মত সম্পদ বাড়েনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের। তবে স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খানের সম্পদ বেড়েছে সাত গুণের বেশি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আসাদুজ্জামান কামাল যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, তা বিশ্লেষণে এই তথ্য পাওয়া যায়। ২০০৮ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হওয়া আসাদুজ্জামান কামাল দশম সংসদ নির্বাচনে পুননির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং পরে মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। হলফনামায় তিনি নিজের সম্পদের মূল্যমান দেখিয়েছেন ৫ কোটি ৭২ লাখ ২৪ হাজার ১৩৭ টাকা। দশম সংসদ নির্বাচনের সময় দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তখন আসাদুজ্জামান কামালের সম্পদ ছিল তিন কোটি ১১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৬৩ টাকার। তার স্ত্রীর সম্পদ ছিল ২৮ লাখ ৮০ হাজার ১৫৬ টাকার। সময়ের ব্যবধানে কামালের সম্পদ বেড়েছে দুই কোটি ৬০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৪ টাকা।

এছাড়াও মন্ত্রী-সাংসদ হিসেবে পারিতোষিকের বাইরে উল্লেখ করার মতো আয় বা সম্পদ বাড়েনি অনেকেরই। প্রয়াত স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পদ নিজের নামে যোগ হওয়ায় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর মোট সম্পদ ও আয় কিছুটা বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মন্ত্রী হিসেবে পাওয়া সম্মানী।

টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পরও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক র্শীষ নেতা সম্পদের পাহাড় গড়েননি। কাজ করছে জনগনের জন্য দেশের জন্য।