প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য রাজধানীর পল্লবীর এফ ব্লকে তারেক জিয়ার বালাখানার গল্প

রাজধানীর পল্লবীর এফ ব্লকে তারেক জিয়ার বালাখানার গল্প

1327

শঙ্কিত মুখের অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন অসহায় বৃদ্ধ একটা সত্য ঘটনা গল্পের ঢংয়ে বলতে চান। নাম বলতে ভয়ে দুমড়ে মুচড়ে যান তাঁরা। থাকেন ঢাকা শহরের উত্তর পশ্চিম কর্নারে ইস্টার্ন হাউজিং-এর আবাসিক প্রকল্পে।

নাম পল্লবী ২য় পর্ব, অনেকে এটাকে বলেন ইস্টার্ন হাউজিং। তখন ২০০১ সালের পরের দফায় বিএনপি ক্ষমতায়। অবকাঠামোগত সুবিধার কাজ তখনো শেষ হয়নি এই প্রকল্পে। তবুও পল্লবী ২য় পর্বের এল ব্লকের মাঠের ভিতর ফাঁকা জায়গায় রাতারাতি তাড়াহুড়ো করে বাড়ি করেছেন জ্যাজ ডিস্টিলারি হাইডিং পার্টনার ফরহাদ সাহেব। ফরহাদ সাহেবের নাম শুনলেই হাউজিংয়ের প্রকল্প কর্মকর্তারা হয়ে পড়েন তটস্থ। আশেপাশের লোকেরা জানতে পারেন যে, পান থকে চুন খসলেই ফরহাদ সাহেব পিস্তল বের করেন। খুব ক্ষমতাশালী মানুষ তিনি।

এ কারণে শুধু এল ব্লকের এই জমি শুধু নয় সাথে তাঁর নামে দেওয়া হয়েছে আরও ২টা প্লট, কোন এক চরম প্রভাবশালীর কথায়। কিন্তু কীভাবে তা কেউ জানেন না। তড়িঘড়ি করে রাতারাতি এল ব্লকে দেওয়া হল সব ইউটিলিটি সার্ভিসের সুবিধা- মানে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের লাইন- যদিও ৩/৪টা বাড়ি আছে আগে থেকেই ছিল কিন্তু তাঁরা এতদিন পেতেন না পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের লাইনের পুরো সুবিধা।

ছয় তলা বাড়ির কাজ শেষ হলো। একটা ফ্লোর হলো ভিন্ন স্বাদে, গুলশান বা বারিধারার ষ্ট্যান্ডার্ডে; বিশেষ করে লিভিং রুম আর গোসলখানা তো নয় যেন ফাইভ স্টার হোটেলের চেয়ে উন্নত কোন হোটেলের স্বচ্ছ কাচ দিয়ে ঘেরা বালাখানা। ফরহাদ সাহেব তাঁর এক বা একাধিক বউ নিয়ে এখানে থাকেন, এটা তাঁর কয় নং বউ তা কেউ জানেন না, জিজ্ঞাসা করার সাহসও নেই কারো।

চারিদিকে ফাঁকা, রাতে হয়ে যায় সুনসান নীরবতা। মাঝে মাঝে ঐ বাড়িতে আসে বিশেষ গাড়িতে বিশেষ কেউ, সাথে অস্ত্রধারীরা। বিশেষ ঐ ব্যক্তির সেবায় থাকে ফরহাদ সাহেবের স্ত্রী, শ্যালিকারা। কিন্তু প্রথন দিনেই হলো বিপত্তি, বাসার মধ্যে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। তাই পরের দিনেই ইস্টার্ন হাউজিং-এর পল্লবী ২য় পর্বের এল ব্লকের ফরহাদ সাহেবের ৬ তলা বাড়ির ছাদেই বসে গেলো মোবাইল নেটওয়ার্কের টাওয়ার। এরপরে মাঝে মাঝে বিশেষ গাড়িতে করে আসেন বিশেষ ব্যক্তি বন্ধু নিয়ে, বিশেষ নিরাপত্তায়, বিশেষ ফুর্তির জন্য।

হঠাৎ করেই বিপত্তি দেখা দিল বোটানিক্যাল গার্ডেনের একদম উত্তর পাশে ইস্টার্ন হাউজিং-এর পল্লবী ২য় পর্বের এল ব্লকের ওয়ালের পাশের বিমান বাহিনীর এনালগ রাডারের সিগন্যালে। ইস্টার্ন হাউজিং-এর পল্লবী ২য় পর্বের এল ব্লকের ফরহাদ সাহেবের ৬ তলা বাড়ির ঠিক দক্ষিণে মাত্র কয়েকশ গজ দুরেই আছে বিমান বাহনীর এনালগ রাডার- যার উচ্চতা কম বেশি ৬০ ফুট। তাই ফরহাদ সাহেবের ৬ তলা বাড়ির ছাদের উপরে বসানো মোবাইল নেটওয়ার্কের টাওয়ারের কারণে বিমান বাহিনীর রাডারের সিগন্যালে অসুবিধা হয়। রাডার স্টেশনের কয়েকজন এলেন ফরহাদ সাহেবের বাড়িতে খোঁজ নিতে, নত মুখে ফিরে গেলেন। এরপরে কী হলো কেউ জানে না। কোনো সাক্ষী নেই সেই নীরব ঘটনার।

২০০৬-এর পরে বিএনপি ক্ষমতাচ্যুত হবার সাথে সাথেই হঠাৎ করেই রাজউক আদেশ দিলো বোটানিক্যাল গার্ডেনের বিমান বাহিনীর রাডারের এক কিলমিটার রেডিয়াসের (এরিয়াল ডিস্টেন্স)মধ্যে কোন ছ্যতলা বাড়ির প্লান পাশ করা হবে না, এখনো হয় না। রাতে ইস্টার্ন হাউজিং-এর পল্লবী ২য় পর্বের এল ব্লকের ফরহাদ সাহেবের ৬ তলা বাড়িতে ভাইয়া বন্ধুদের নিয়ে বিশেষ গাড়িতে আর আসেন না। রাতারাতি ফরহাদ সাহেব আর আর তার স্ত্রী শ্যালিকারা নিখোঁজ হলেন। খবর বেরুলো ফরহাদ সাহেব, তারেক জিয়া একসঙ্গে একই মামলার আসামি। ইতিমধ্যে ইস্টার্ন হাউজিং-এর পল্লবী ২য় পর্বের এফ ব্লকের ফরহাদ সাহেব আরেকটা বাড়ি করে ফেলেছেন। তবুও তিনি লাপাত্তা ওয়ান-ইলেভেনের পরেই রাতের অন্ধকারে।

তবে জাতীয় নির্বাচন এলেই ফরহাদ সাহেব ইস্টার্ন হাউজিং-এর পল্লবী ২য় পর্বের বাড়িতে এসে থাকেন। ২০১৪ সালের আগুন সন্ত্রাসের সময়ও এসেছিলেন। এই কয়েকদিন হলো তিনি আবার ফিরেছেন ইস্টার্ন হাউজিং-এর পল্লবী ২য় পর্বের বাড়িতে। অনেকে অনুমান করেন যে, ফরহাদ সাহেব হয়তো আশায় আশায় আছেন আবার বালাখানা চালু হবে, ভাইয়া আসবেন বন্ধুদের সঙ্গে গাড়ি বহর নিয়ে বালাখানায় তাঁর শ্যালিকাদের সেবা নিতে।

সেই ওয়ান ইলেভেনের পরে অনেক ঘটনা ঘটেছে, বিমান বাহিনীর এনালগ রাডার বদলে হয়েছে ডিজিটাল, উচ্চতা ৬০ ফুট থেকে হয়েছে ৮০ ফুট। কিন্তু ৫০ থেকে ৭০ ফুট পাইলিং করার পরেও ইস্টার্ন হাউজিং-এর পল্লবী ২য় পর্বে এখনো ৬ তলা বাড়ি করার অনুমতি দেয় না রাজউক, যদিও আছে ২০০৬ সালের আগের অনেকগুলো রাজউক অনুমোদিত ৬ তলা ভবন। এখনো আবেদনের পরে আবেদন জমা হয় বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে, অবসরপ্রাপ্ত কিছু বুড়ো মানুষের। কিন্তু অজানা কারণে পল্লবী ২য় পর্বের মধ্যবিত্ত মানুষেরা ৬ তলা বাড়ি করার অনুমতি পান না, কি সেই তারেক জিয়ার বালাখানার কারণে! নাকি ভিন্ন কোন কারণ আছে এর পিছিনে?

সম্পাদক/এসটি