প্রচ্ছদ বাংলাদেশ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মনোনয়ন বাণিজ্যে এরশাদ স্বেচ্ছাবন্দি, জাপা কার্যালয়ে ভাঙচুর ও তালা

মনোনয়ন বাণিজ্যে এরশাদ স্বেচ্ছাবন্দি, জাপা কার্যালয়ে ভাঙচুর ও তালা

69
মনোনয়ন বাণিজ্যে এরশাদ স্বেচ্ছাবন্দি, জাপা কার্যালয়ে ভাঙচুর ও তালা

গত ২১ শে নভেম্বর থেকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন। দলের নেতারা বলছেন তিনি অসুস্থ। তিনি এই সময়ের মধ্যে দু’দফা সিএমএইচে গেছেন। চেকআপ করিয়েছেন।

আবার তিনি ফিরে এসেছেন গুলশানের বাসভবনে। তাঁর বারিধারার বাসভবনে যাননি। গুলশানের বাসভবনে কারও সঙ্গে তিনি দেখা সাক্ষাৎ করছেন না। তিনি মোটামুটি লোকচক্ষুর আড়ালে। প্রশ্ন উঠেছে, এরশাদ কী বন্দি?

এরশাদের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন শুধুমাত্র যারা তার সঙ্গে আসন ভাগভাটোয়ারায় সামিল ছিলেন। এরমধ্যে আছেন রুহুল আমিন হাওলাদার, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর মত গুটিকয়েক নেতা। অধিকাংশ নেতারাই এরশাদের দেখা পাচ্ছেন না। নেতাকর্মীদের কাছ থেকে তিনি নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন। বলা হচ্ছিল এরশাদ অসুস্থ, চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাবেন।

কিন্তু পরে জাপার মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার জানিয়ে দিয়েছেন, এরশাদের অসুস্থতা গুরুতর নয়। তিনি ভালো আছেন। তাঁর সিঙ্গাপুর যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এরশাদের অসুস্থতার ধরন কি, তিনি অদৌ অসুস্থ কিনা, কেন তিনি কারো সঙ্গে দেখা করছেন না- এমন আরও অনেক প্রশ্ন উঠছে জাতীয় পার্টি এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে।

জাতীয় পার্টির একাধিক নেতা বলেছেন যে, মনোনয়ন নিয়ে তিনি নেতাদের নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন ইচ্ছুকদের কাছ থেকে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা গ্রহন করা হয়েছিল। যারা এই অর্থ দিয়েছিলেন, তাঁরা টাকা পয়সা ফেরত চাচ্ছে। জাতীয় পার্টিতে মনোনয়ন নিয়ে যে বাণিজ্য হয়েছে এবং যে অব্যবস্থাপনা হয়েছে, সেটার জন্য জাতীয় পার্টির অধিকাংশ নেতাকর্মী ক্ষুদ্ধ এবং অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। এইজন্যই এরশাদ নিজেকে আড়াল করে স্বেচ্ছায় বন্দি করে রেখেছেন।

জাতীয় পার্টির একাধিক নেতা এরশাদের সঙ্গে দেখা করতে গুলশানের বাসভবনে গিয়েছিলেন। কিন্তু কোনমতেই তাঁদের সঙ্গে দেখা করেননি।

মনোনয়ন না পেয়ে জাপা কার্যালয়ে ভাঙচুর ও তালা

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের লাগামহীন মনোনয়ন বানিজ্যে ক্ষুব্ধ হয়ে দলের নেতা-কর্মীরা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বনানী কার্যালয় ভাঙচুর চালায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেন্টুর নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা এ হামলা করেন।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, মনোনয়ন বাণিজ্যে অভিযুক্ত এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে খুঁজে না পেয়ে এ হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের সড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতি যাতে আর অবনতির দিকে না যায়, এ কারণে পুলিশ কার্যালয়টিতে তালা লাগিয়ে দেয়।

জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু এ বিষয়ে বলেন, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়ন বাণিজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে।

একই অবস্থা জাতীয় পার্টির কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা এখানে অবস্থান নিয়ে মহাসচিবকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন এবং ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি হাওলাদারকে দল থেকে বহিস্কারের দাবিও করেন বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা।

 সম্পাদক/এসটি