প্রচ্ছদ আইন-আদালত যে অভিযোগ নিয়ে ইসির বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট

যে অভিযোগ নিয়ে ইসির বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট

107
যে অভিযোগ নিয়ে ইসির বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আসন্ন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এবং ঐক্যফ্রন্টের ভাষায় ইসির কিছু পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রতিবাদে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন এই আইনি লড়াইয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন জোটটির একাধিক নেতা।

ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখন ইভিএম ব্যবহার না করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে আমরা বারবার বলেছি। সকলের সঙ্গে আলাপ আলোচনার করে পরবর্তী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করার জন্য তাদের অনুরোধ করেছিলাম আমরা। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের এ কথা আমলে নিচ্ছে না। জোর করেই তারা আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের ব্যাপারে চেষ্টা চালাচ্ছে। তার মানে তাদের কোনো বদ মতলব রয়েছে। আমরা চ্যালেঞ্জ না করে এই বিষয়টি ছেড়ে দেব না।’

এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ঐক্যফ্রন্টের আইনি টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আরেকজন নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, শুধু ইভিএম নয়, নির্বাচন কমিশন আরও কিছু বিষয়ে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য যা যা করা দরকার কমিশন সেটা করছে না। কাজেই বিষয়টি আমরা আইনগত ভাবে মোকাবেলা করার জন্য তৈরি হচ্ছি।’

সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশনকে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। কিন্তু আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি নির্বাচন কমিশন সে ক্ষমতা প্রয়োগ করছে না।’

বিএনপির অন্যতম নেতা এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরা একের পর এক যে দাবিদাওয়াগুলো করেছি তার একটিও নির্বাচন কমিশন আমলে নিচ্ছে না। ফলে নির্বাচন কমিশনের এমন পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে আমাদের আইনি প্রতিকারেই যেতে হবে।’

ঐক্যফ্রন্টের কোন কোন অভিযোগ নির্বাচন কমিশন আমলে নিচ্ছে না সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘কোনো অভিযোগই তারা আমলে নিচ্ছে না। আমরা যখন বলেছি, পুলিশ ও প্রশাসনে যেসব দলীয় লোকজন আছে তাদেরকে অবিলম্বে সরিয়ে দিতে তখন তারা সেটা করেনি। আমাদের নেতাকর্মীদের যে ধরপাকড় করা হচ্ছে সে বিষয়েও ইসির কোনো বক্তব্য নেই। সম্প্রতি বিএনপির একজন মনোনয়ন প্রত্যাশীর লাশ পাওয়া গেছে বুড়িগঙ্গায়। নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশন এখন নিরপেক্ষ নেই। তাই আমরা হাইকোর্টে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছি। হাইকোর্ট থেকেই আমরা দিক নির্দেশনা নেব।’

উল্লেখ্য, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিদিনই কোনো না কোনো অভিযোগ নিয়ে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। অবশ্য নির্বাচন কমিশন একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাচন কমিশন ঐক্যফ্রন্টের প্রত্যেকটি অভিযোগের ব্যাপারেই আলাপ-আলোচনা করছে এবং যে অভিযোগগুলো শোনার মতো সেগুলো তারা তাৎক্ষণিক ভাবে সমাধান করে দিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের যে অভিযোগ করা হয়েছিল সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কাউকে অকারণে গ্রেপ্তার-হয়রানি না করতে পুলিশ প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দিয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডেকে বৈঠক না করা হয়। সে ব্যাপারেও নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প ও অনুদান নিষিদ্ধ করে নির্দেশ দিয়েছে।

ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম আপত্তির জায়গা ইভিএমের ব্যাপারেও স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইভিএমের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সামনের নির্বাচনে খুবই ছোট আকারে পরীক্ষামূলক ভাবে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। কাজেই এতে আপত্তির কিছু নেই। যেহেতু আইনের মাধ্যমে ইভিএম চালুর বৈধতা দেওয়া হয়েছে তাই যদি কেউ ইভিএম নিয়ে আদালতে যেতে চায় আইনগত ভাবেই তা নির্বাচন কমিশন মোকাবেলা করবে।

সম্পাদক/এসএ