প্রচ্ছদ রাজনীতি মির্জা ফখরুলকে তারেক জিয়া কেনো বিশ্বাস করে না?

মির্জা ফখরুলকে তারেক জিয়া কেনো বিশ্বাস করে না?

114
মির্জা ফখরুলকে তারেক জিয়া কেনো বিশ্বাস করে না?

আজ তৃতীয় দিনের মতো লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন তারেক জিয়া। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলার আগে, তিনি কথা বলেন নেতাদের সঙ্গে।

তাঁদের কুশলাদি জানতে চান। কার মামলার কি অবস্থা সে সম্পর্কেও প্রশ্ন করেন। এক পর্যায়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের প্রশংসা করেন তারেক।

বলেন, ‘দলের জন্য আপনি অনেক পরিশ্রম করছেন। নির্বাচন পর্যন্ত দলের ঐক্য অটুট রাখার দায়িত্ব আপনার।’

এ প্রসঙ্গে আলাপের এক পর্যায়ে তারেক জিয়া বলেন, ‘একটা বিষয়, কর্মীরা আপনাকে বিশ্বাস করে না কেন? আপনাকে কর্মীদের মন জয় করতে হবে। কর্মীরাই নেতাদের আসল শক্তি।’

মির্জা ফখরুল অবশ্য এর জবাবে কিছুই বলেন নি।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা নিলাম’

গতরাতে বিটিআরসি স্কাইপ বন্ধ করে দিলেও আজ ঠিকই ভিডিও কনফারেন্সে প্রার্থীদের চেহারা দেখান তারেক জিয়া। গতরাতে যখন স্কাইপ বন্ধের খবর পান বিএনপি নেতারা তখন উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন। উদ্বিগ্ন হয়ে তাদের কেউ কেউ ফোন করেন লন্ডনে পলাতক তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে।

দুটি মামলায় দণ্ডিত তারেক বিএনপি নেতাদের আশ্বস্ত করেন যে, কাল (আজ মঙ্গলবার) তিনি ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেবেন। দুপুর সাড়ে ১১ টা নাাগাদ ঠিক যুক্ত হন তারেক জিয়া। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা করতালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। যুক্ত হয়েই তারেক জিয়া বলেন, এই সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছে, আমরা তার সুবিধা নিচ্ছি।’

তারেক বলেন, ‘সরকার জানে না, ডিজিটাল বাংলাদেশে চাইলেই কাউকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না।’ জানা গেছে, অন্য গেটওয়ে দিয়ে তারেক ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন।

তারেকের নজরদারিতে বিএনপির সংস্কারপন্থীরা

সদ্য দলে ফেরত বিএনপির সংস্কারপন্থীদের কঠোর নজরদারিতে রেখেছেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মাঠের বিরোধিতা ঠেকাতে সংস্কারপন্থীদের দলে ফেরালেও এদের নিয়ে চরম অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।

একাধিক নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, কোনো ভাবেই সংস্কারপন্থীদের আস্থায় নিতে পারছেনা দলের নেতা-কর্মীরা। যুক্তরাজ্য থেকে ‘শ’ অদ্যাক্ষরের তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ এক নেতা জানান, সংস্কারপন্থীদের দলে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও এখনো এসব নেতাদের নিয়ে ভাইয়া (তারেক রহমান) শঙ্কায় আছেন। কারণ হিসেবে বলেন, সংস্কারপন্থীরা বিএনপির নীতি-আদর্শ থেকে কিছুটা হলেও বিচ্যুত।

তাছাড়া বিভিন্ন সময় তারা দলের বিরুদ্ধে অসাংগঠনিক কাজেও লিপ্ত ছিল। সেসব প্রক্রিয়া থেকে বর্তমানে তারা কতটুকু নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের।

ঐ নেতা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলে ফিরিয়ে নেওয়া সংস্কারপন্থীরা কোথায় কোথায় যাতায়াত করছেন, কাদের সঙ্গে বসে শলা-পরামর্শ করছেন তা পর্যবেক্ষণে রাখতে ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বরিশালের এক সংস্কারপন্থী নেতার বিরুদ্ধে একটি গোয়েন্দা সংস্থার অফিসে নিয়মিত যাতায়াতের অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলের কাছে খবর রয়েছে এখনো বেশ কয়েকজন নেতা দলের ভেতর বিভেদ-অনৈক্য সৃষ্টি করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্য একটি সূত্র জানান, মনোনয়নের প্রত্যাশায় যেসব সংস্কারপন্থী নেতা বিএনপিতে ফিরেছেন তাদের অনেকেই আবার যোগাযোগ রক্ষা করছেন যুক্তফ্রন্ট নেতা বিকল্পধারার অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে। আর সেসব নেতাদের পক্ষে অনুঘটকের কাজ করছেন সদ্য বিকল্পধারায় যোগ দেওয়া সফল কূটনীতিক শমসের মবিন চৌধুরী।

সম্পাদক/এসএ