প্রচ্ছদ রাজনীতি ৩ ভাইয়ের জন্য আ’লীগের মনোনয়নে ব্যর্থ হয়েই ঐক্যফ্রন্টে কা. সিদ্দিকী

৩ ভাইয়ের জন্য আ’লীগের মনোনয়নে ব্যর্থ হয়েই ঐক্যফ্রন্টে কা. সিদ্দিকী

1280
৩ ভাইয়ের জন্য আ'লীগের মনোনয়নে ব্যর্থ হয়েই ঐক্যফ্রন্টে কা. সিদ্দিকী

তিন ভাইয়ের মনোনয়নের নিশ্চয়তার কষাকষিতে সুবিধা করতে না পেরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে কাদের সিদ্দিকী।

তিনি চেয়েছিলেন তার ভাই আব্দুল লতিফ ও মুরাদ সিদ্দিকীর দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করলেই তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক নীতিনির্ধারকের সাথে যোগাযোগও করেন।

ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ডের সাথেও সাক্ষাতের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার সেই চেষ্টা-প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। কাদের সিদ্দিকীকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, তাদের তিন ভাইয়ের যে কোনো একজনকে মনোনয়ন নিশ্চিত করা হবে, তিনজনকে নয়। ক্ষমতাসীন একাধিক সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন নিশ্চিতের বিষয়টি নাকচ হওয়ার পর কাদের সিদ্দিকী ক্ষুদ্ধ হয়ে সরকারবিরোধী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে সমালোচনা করাসহ ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশেও তাকে গালিগালাজ করেন।

সংলাপ সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক নীতিনির্ধারকদের মতে, নবগঠিত রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়ার আগে আওয়ামী লীগের সাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দীকী। এ খবরে কয়েকদিন ধরেই সরব বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

আলোচনায় আছে কয়েক দফা সময় নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি কাদের সিদ্দিকী। তবে তিনি যে জোটেই থাকেন না কেন গণতন্ত্র অক্ষুন্ন রাখতে আপস করবেন না বলে জানান।

সূত্র জানায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন ছিল এই জোটে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যোগ দেয়ার। এ বিষয়ে গত ৩১ অক্টোবর নিজের অবস্থান জানানোর জন্য কাদের সিদ্দিকী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নেন।

এতেও তিনি তার সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি। সিদ্ধান্ত নিতে আরো সময় লাগবে বলে জানানো হয়। অবশেষে ৫ নভেম্বর ঐক্যফ্রন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

জানা গেছে, এ সময়ের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী তার চাহিদানুযায়ী সফলতার আশায় ছিলেন। কিন্তু তার সেই আশা-প্রত্যাশা ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক জরিপে টেকেনি।

ক্ষমতাসীন দলের সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের যে তিনটি আসনে তারা তিনভাই মনোনয়ন নিশ্চিত করতে চেয়েছেন মাঠের অবস্থা তাদের পক্ষেও নেই। তাই সম্ভব নয় বলেই তাকে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। এতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডসহ দলের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ ও কঠোর সমালোচনা করেন। তবে এ কথা শতভাগ সত্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জোটে যোগদানের দর কষাকষি করতেই কালক্ষেপণ করেছেন কাদের সিদ্দিকী।

আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন, রাজনীতিতে ধৈর্য্যহারা হয়ে এর আগেও দলছুট হয়ে পড়েছেন কাদের সিদ্দিকী। একইভাবে এবারও আদর্শহীন জোটে যোগ দেন তিনি।

সম্পাদক/এসটি

পোস্টে মন্তব্য করে ফেসবুকে শেয়ার করুন