প্রচ্ছদ রাজনীতি প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাব নেই ফ্রন্টের, নির্বাচনে যেতে বাধ্য বিএনপি

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাব নেই ফ্রন্টের, নির্বাচনে যেতে বাধ্য বিএনপি

468
প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাব নেই ফ্রন্টের, নির্বাচনে যেতে বাধ্য বিএনপি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে হতাশ হয়েই ফিরতে হয়েছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে। বিরোধী জোটের নির্দলীয় ১০ উপদেষ্টা নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব ক্ষমতাসীনরা নাকচ করে দেয়।

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়া এবং সরকারের মেয়াদের পরবর্তী তিন মাসে নির্বাচনের প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়নি৷ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি আদালতের দোহাইয়ে এড়ানো হয়েছে। সংলাপে কেবল বিরোধী দলের মামলা-গ্রেফতার বন্ধের বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে সংলাপ থেকে ঐক্যজোটের প্রাপ্তি প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে৷

সংলাপ নিয়ে হতাশা আর অসন্তুষ্টি যাই থাকুক না কেন, ঐক্যফ্রন্টের বড় শরিক বিএনপি এখন পর্যন্ত নির্বাচন বর্জনের কথা ভাবছে না। নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ইতিবাচক ভাবনা প্রভাবিত করছে ঐক্যফ্রন্টের অন্য দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের।

সংলাপের পর ঐক্যফ্রন্ট নেতারা আনুষ্ঠানিক, অনানুষ্ঠানিক এবং ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে৷ তাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে ‘অফ দ্য রেকর্ড’ নানা তথ্য। ঐক্যফ্রন্টের অধিকাংশ নেতা মনে করছেন, সমঝোতার পথ এখনও রুদ্ধ হয়নি। সরকারের সঙ্গে ছোট আকারে আবারও সংলাপ হবে বলে আশাবাদি তারা৷ সেই প্রস্তুতিও রয়েছে তাদের মধ্যে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংলাপে অংশ নেওয়া ঐক্যফ্রন্টের প্রথমসারির এক নেতা জানিয়েছে, সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর বেশ কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি তারা৷ এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতির একটা প্রশ্ন ছিল, তিনি পদত্যাগ করার পর নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান বা প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন? সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো নাম বলতে শেখ হাসিনাকে বলতে পারেননি ঐক্যজোটের কোনো নেতা।

বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন করে রাজনীতিতে কোনঠাসা হয়ে পড়া দলটি এবার আর ভুল করতে রাজি নন। নির্বাচনে অংশ নিতে এতোটাই মরিয়া তারা যে, নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হলে এবং প্রার্থী ও তার সমর্থকদের গ্রেফতার-মামলায় হয়রানি বন্ধের নিশ্চয়তা পেলেই ভোটের মাঠে নামতে রাজি তারা। বিএনপি নেতাদের আরেকটি বড় চাওয়া হলো, ভোটাররা যাতে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে বিনা বাধায় ভোট দিতে পারেন৷বিএনপির নেতাদের এই চাওয়াটাই প্রতিধ্বণি তুলেছে ঐক্যফ্রন্টে।

সংলাপে সরকারের পক্ষ থেকেসভা সমাবেশ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে৷ কিন্তু সরকারের মৌখিক আশ্বাসে ফ্রন্ট নেতাদের আস্থা নেই, তারা চান কার্যকর পদক্ষেপ। বিএনপির শীর্ষনেতারা জানিয়েছেন, দলীয় ফোরামে নির্বাচন বর্জন নিয়ে এখন আর আলোচনা হচ্ছে না৷

আলোচনা হচ্ছে, কোন কোন নিশ্চয়তা পেলে এবং কিভাবে কতটুকু ছাড় দিয়ে বিএনপি নির্বাচনে যাবে৷ এসব বিষয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির নেতারা। দলীয় কৌশল আর পরিকল্পনা নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মতামত জানতে শিগগিরই ২০ দলীয় জোটের অন্য নেতাদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যৌথ বৈঠক আহ্বানে প্রস্তাব দেবে বিএনপি।৷

বুধবার সংলাপ শেষে বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসায় ব্রিফ করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ড. কামাল হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, সাত দফা নিয়ে সীমিত পরিসরে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারা দেশে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে আর মামলা দায়ের না করা এবং নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার না করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। রাজনীতি কোন দিকে যাচ্ছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, আমরা তো চেষ্টা করে যাচ্ছি যে একটা স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে সবকিছু হোক। দায়িত্ব তো সরকারের, বল সরকারের কোর্টে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই ব্রিফিংয়ে বলেন, আমরা আন্দোলনে আছি। সংলাপ আমাদের আন্দোলনেরই অংশ। যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। সরকার যদি তা না চায়, তার দায়ভার তাদের। আমরা আমাদের দাবিগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছি।

দ্বিতীয় সংলাপে অর্জন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, পাওয়ার ব্যাপারটা রিলেটিভ। আমাদের দাবি দাওয়া নিয়ে সরকারের কাছে গিয়েছি। সরকার বলেছে, ভবিষ্যতে এগুলো নিয়ে তারা আলোচনা করে দেখতে পারে, সুযোগ আছে আলোচনার । সেটা তো থাকবেই। আমরা আমাদের দাবি নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছি। এ দফা সংলাপে সন্তুষ্ট কি না, জানতে চাইলে বলেন, জনগণকে দিয়েই সন্তোষ আদায় করব।

সম্পাদক/এসটি

পোস্টে মন্তব্য করে ফেসবুকে শেয়ার করুন