প্রচ্ছদ রাজনীতি অবশেষে বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন তারেক?

অবশেষে বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন তারেক?

466
অবশেষে বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন তারেক?

একাদশ জাতীয় সংসদের বিষয়ে বিএনপির মূল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন লন্ডনে পলাতক দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে টেলিফোনে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে নির্বাচনের বিষয়ে মতামত নিয়েছেন। নির্বাচন তফসিল ঘোষণা শেষে নির্বাচনের ব্যাপারে তারেক জিয়া তাঁর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বিএনপি নেতাদের জানাবেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, আজ তারেক জিয়া লন্ডন থেকে ফোন করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও মির্জা আব্বাসের সঙ্গে কথা বলেন। এদের প্রত্যেকের কাছেই নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে-বিপক্ষে কারণ জানতে চেয়েছেন।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াকে ফোনে মির্জা ফখরুল বলেছেন, সরকার চাইছে যেন বিএনপি নির্বাচনে না আসে। সেজন্যই বেগম জিয়াকে আজ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। এখন যদি বিএনপি নির্বাচনে যায়, তাহলে এমন একটা নির্বাচন করা হবে যেখানে বিএনপিকে কোনো স্পেস দেওয়া হবে না। এখন নির্বাচনে গেলে সরকার তার বৈধতার স্বীকৃতি নেওয়ার জন্যই বিএনপিকে ব্যবহার করবে। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, নূন্যতম কোনো অর্জন ছাড়া এই নির্বাচনে যাওয়া উচিত হবে না।

নূন্যতম কী অর্জন চান জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে মির্জা ফখরুল বলেন, নূন্যতম বেগম খালেদা জিয়ার যদি জামিন হয় এবং তিনি নির্বাচন না করলেও যদি নির্বাচন পরিচালনার কাজটি তদারকি করতে পারেন, তাহলেই বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া উচিত।

অবশ্য বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তারেক জিয়াকে মওদুদ আহমেদ বলেছেন, যেহেতু সরকার কৌশল নিয়েছে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার, সেহেতু আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া উচিত। নির্বাচনে যাওয়ার পর যদি দেখা যায়, সরকারের পুতুল হিসেবে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন, কোনো নিরপেক্ষতাই রাখছে না, তখন নির্বাচন বর্জনের একটি প্রক্রিয়া করা যেতে পারে।

অবশ্য নির্বাচনে না গিয়ে আন্দোলনের পক্ষে মত দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও মির্জা আব্বাস। তাঁরা দুজনই তারেক জিয়াকে বলেছেন, স্বল্পতম সময়ের জন্য আন্দোলন করতে হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে মনোনয়ন দাখিলের সময় পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। এমন ঝটিকা আন্দোলন তৈরি করতে হবে, যেন নির্বাচন বাতিল হয় এবং সরকারের পতন।

জানা গেছে, তারেক জিয়া সবগুলো মতামতই শুনেছেন। আর বিএনপি ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, তারেক জিয়া নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে কোনো কথাই বলেননি। বরং তাঁর সব কথাই নির্বাচনে যাওয়াকে কেন্দ্র করে। নির্বাচনের পক্ষেই তিনি সব কথা বলছেন। তারেক সবার কাছেই জানতে চাচ্ছেন, নির্বাচনে গেলে বিএনপির কী কী অর্জন হবে? এছাড়া, এর আগে তারেক জিয়ার সঙ্গে যাঁরা সাক্ষাৎ করেছেন বা কথা বলেছেন, তাঁদের প্রত্যেককেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন তারেক জিয়া। যেকোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেন তাঁদের।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, তফসিল ঘোষণা শেষে দু-একদিনের মধ্যেই তারেক জিয়া বিএনপির আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাতে পারেন। আর তারেকের সিদ্ধান্তটাই বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হবে। কারণ, খালেদা জিয়া নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মতো মানসিক ও শারীরিক অবস্থায় নেই বলে মনে করেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

সম্পাদক/এসটি

পোস্টে মন্তব্য করে ফেসবুকে শেয়ার করুন