প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন ও আন্দোলন দুই প্রস্তুতি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন ও আন্দোলন দুই প্রস্তুতি

158
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন ও আন্দোলন দুই প্রস্তুতি

দ্বিতীয় দফা সংলাপের পর, নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে দ্বিধায় পড়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সংলাপ শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আসতে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেন।

এসময় ঐক্যফ্রন্টের মাহমুদুর রহমান মান্না সংলাপ সফল হয়নি মর্মে ঘোষণা দিয়ে চূড়ান্ত কর্মসূচির প্রস্তাব করেন। কিন্তু ড. কামাল হোসেন এবং বিএনপি মহাসচিব দুজন এখনই সবকিছু শেষ না করার পক্ষে মত দেন। এই দুই নেতাই নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং আন্দোলন পাশাপাশি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনোনয়ন জমা দেওয়া পর্যন্ত অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের শেষ সম্ভাবনাটুকু দেখতে চান।

ড. কামাল হোসেনও বৈঠকে বলেন, ‘আমরা দেখি তফসিল ঘোষণার পর কী হয়। যদি দেখি যে সরকার পক্ষপাতিত্ব করছে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না, সেক্ষেত্রে তো আমাদের নির্বাচন থেকে সরে আসার সুযোগ থাকছেই।’ নাগরিক ঐক্যের নেতা মান্না জানতে চান, নির্বাচনে কি বলে যাবেন? আমাদের কোনো দাবিই তো মানল না।’

ড. কামাল হোসেন মান্নার ঐ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, প্রথম এবং দ্বিতীয় দাবি ছাড়া সবগুলো দাবিই তো প্রধানমন্ত্রী নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছেন।

ড. কামাল হোসেন বৈঠকে বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর আমাদের দেখতে হবে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এখনই নির্বাচনে না যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পক্ষে নন।

তিনি মনে করেন, এখন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেই মনোনয়ন লাভে ইচ্ছুক অনেক বিএনপি প্রার্থী বিকল্পধারা বা নাজমুল হুদার দলে যোগ দেবে। সেক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে বাদ দিয়েই সরকার নির্বাচন করতে চাইবে। বিএনপি মহাসচিব তফসিল ঘোষণার পর সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে চান। পাশাপাশি মির্জা ফখরুল এসময় সাংগঠনিক শক্তি ও জনসংযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। বিএনপির অবস্থান হলো

শেষপর্যন্ত যদি আন্দোলন করতেই হয়, তাহলে তা মনোনয়নপত্র দাখিলের পর করতে হবে। সে সময় প্রার্থীদের রাস্তায় নামানো সহজ হবে। জেএসডির নেতা আ. স. ম. আব্দুর রবও মনে করেন, নির্বাচন এবং আন্দোলন দুই প্রস্তুতিই এক সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন। তিনি মনে করছেন, সরকার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে বোকা বানাতে পারে।

তাঁর মতে, আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলাম না, আন্দোলনের প্রস্তুতি নিলাম। কিন্তু তফসিল ঘোষণার পর দেখলাম কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। সরকার নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ করছে না, তখন কি করবেন? আ. স. ম. রবের কথার সঙ্গে একমত পোষণ করেন গণফোরাম নেতা মোস্তফা মহসীন মন্টু।

তিনি বলেন, প্রার্থী চূড়ান্ত করা শরিকদের জন্য কয়টা আসন ছাড়বে বিএনপি এগুলো এখনই ঠিক করা দরকার। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০ দলগত ভাবে আমাদের প্রার্থী তালিকা মোটামুটি চূড়ান্ত করা আছে। ঐক্যফ্রন্টের কজন নির্বাচন করবে তা আমরা ঠিক করে ফেলতে পারবো। রাজশাহী থেকে ফিরেই এনিয়ে বসবে ঐক্যফ্রন্ট।

সম্পাদক/এসটি

পোস্টে মন্তব্য করে ফেসবুকে শেয়ার করুন