প্রচ্ছদ স্পটলাইট ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিএনপির যে ৫ অভিযোগ

ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিএনপির যে ৫ অভিযোগ

447
ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিএনপির যে ৫ অভিযোগ

বিভিন্ন ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে এর প্রধান শরিক বিএনপির দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।

এই দ্বন্দ্বের জের হিসেবেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কাল ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্রের দায়িত্ব নিজেই তুলে নেন। বিএনপি ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ তুলেছেন।

এগুলো হলো:  ১. ড. কামাল হোসেন কথায় কথায় বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা বলেন। জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের প্রধান দল হলো বিএনপি। প্রকাশ্য জনসভায় এ ধরনের মন্তব্যে দলের নেতা-কর্মীরা বিব্রত হন।

২. ড. কামাল হোসেন একবারও বিএনপির ভাষায় ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ করেন নি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দুই নেতাকেই সম্মান দেখানোর পক্ষে।

৩. বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে ড. কামাল নিঃস্পৃহ। আজ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গটি উত্থাপনই করেননি। এমনকি ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকেও তিনি এনিয়ে আলোচনায় অনাগ্রহী।

৪. ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের হয়রানি, গ্রেপ্তার এবং মামলা নিয়েও ড. কামাল হোসেন উদ্বিগ্ন নন। এ নিয়ে আইনি পরামর্শ তো নয়ই, বক্তৃতা বিবৃতিতেও উৎসাহী নন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন গ্রেপ্তার হবার পর কোনো বিবৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান ড. কামাল হোসেন। ডা. জাফরুল্লাহ’র ওপর সাম্প্রতিক মামলা এবং গণস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থার ব্যাপারেও কোনো প্রতিবাদ জানাননি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক।

৫. জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে তিনি ‘স্বৈরাচারী’ কায়দায় নেতৃত্ব দিতে চান। অন্যের মতামতের ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল নন। ভিন্নমত গ্রহণের কোনো মানসিকতা নেই। মতপার্থক্য হলেই রেগে যান।

প্রথম দফা সংলাপের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা নিজেদের বৈঠকে ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো উত্থাপন করেন। বিভিন্ন সূত্রের খবরে জানা গেছে যে মির্জা ফখরুল ড. কামাল হোসেনেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে আগ্রহী ছিলেন, তিনিই এখন ড. কামালের সমালোচনায় মুখর।

গতকালের বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব ড. কামাল হোসেনকে বলেন, ‘আপনি কারও মতামত না নিয়ে কথা বলেন কীভাবে?’ ড. কামাল হোসেন জানতে চান, কখন?

উত্তরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংলাপ থেকে বেরিয়ে আপনি কীভাবে বললেন, ‘আলোচনা ভালো হয়েছে।’ কালকেও আপনি বললেন, ‘সংলাপের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

এ পর্যায়ে ড. কামাল হোসেন ক্ষেপে যান। তিনি বলেন, ‘তাহলে আপনারা আমাকে বাদ দেন।’ এরপর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, এখন থেকে ফ্রন্টের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিএনপি মহাসচিব।

পোস্টে মন্তব্য করে ফেসবুকে শেয়ার করুন