প্রচ্ছদ স্পটলাইট যে পুরস্কারের ওজন বহন করার শক্তি নেই বাংলাদেশের

যে পুরস্কারের ওজন বহন করার শক্তি নেই বাংলাদেশের

711
যে পুরস্কারের ওজন বহন করার শক্তি নেই বাংলাদেশের

একটি পুরস্কার হচ্ছে কোন একটি ব্যক্তি, একটি গ্রুপ বা কোন একটি ক্রীড়া দলের মত বা একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া কিছু।

পুরষ্কারটি একটি অসাধারন টোকেন বা শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার ছাড়া কেবল শ্রেষ্ঠত্বের একটি পাবলিক স্বীকৃতি হতে পারে।

একটি পুরস্কার কারো শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি ছাড়াও কি এর পিছনে অন্য কোন গল্প বা উদ্দেশ্য থাকতে পারে! এর আগেও আমরা ইতিহাস থেকে দেখেছি ১৭৮৫ সালে বার্মিজরা আরাকান দখল করে এবং রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার শুরু করে। ১৭৯৯ সাল নাগাদ প্রায় ৩৫-৪০ হাজার মানুষ আরাকান থেকে নাফ নদী পেরিয়ে টেকনাফ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়।

এরপর থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত কখনো বা ভাগ্যান্বেষণে, কখনো উন্নত জীবনের আশায় এবং বেশিরভাগ সময়ে বার্মিজদের অত্যাচারে বিক্ষিপ্তভাবে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসে। তবে ১৯৭৮ সালে বড় দাগে প্রায় দুই-তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তদানীন্তন সামরিক সরকার মুসলিমবিশ্বে নিজের ইমেজ বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সামরিক সরকারের গ্রহণযোগ্যতার আশায় জাতিসংঘের আহ্বানে সীমান্ত খুলে দেয়। তখন প্রায় দুই-তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক হাইকমিশন রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে সহযোগিতা শুরু করে।

পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার আমলে ১৯৯১-১৯৯২ সালে মিয়ানমারের আধাসামরিক বাহিনী নাসাকা ও অন্যান্য বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সম্মিলিত আক্রমণের মুখে প্রায় তিন-চার লাখ রোহিঙ্গা বংলাদেশে প্রবেশ করে। এর সাথে কী অং সান সুচি ১৯৯১ নোবেল শান্তি পুরষ্কারের কোন সম্পর্ক আছে? তা না হলে অং সান সুচি ১৯৯১ সালে শান্তি পুরষ্কারের পরেই কেন বানের পানির মতো দলে দলে রোহিঙ্গা বংলাদেশে প্রবেশ শুরু করলো? এরপরেই অং সান সুচি’র দল মিয়ানমারের ক্ষমতায় এলো।

আরেকটি ঘটনা মনে পড়ে যায়। ডঃ মুহাম্মাদ ইউনুস ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল প্রাইজ লাভ করেন। এর পরেই ২০০৭ সালে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা যখন খুব টালমাটাল, অশান্ত তখনই ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৮ তারিখে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করার জন্য ৮০ জনের তালিকা প্রকাশ করেন।

ওই রাজনৈতিক দলে তিনি নিজে সভাপতি এবং একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদককে সাধারণ সম্পাদক করতে চেয়েছিলেন। তখন বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রধানকে জেলে পাঠিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস তথাকথিত বুদ্ধিজীবীগণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার দখল নিতে চেয়েছিল? পারেন নি। কিন্তু কেন? কী আছে এই বাংলাদেশে?

একদিকে বাংলাদেশে এখন রাজনৈতিক টানাপড়ন চলছে। অন্য দিকে অর্থনৈতিক উন্নতির ফলে বাংলাদেশে হয়ে উঠেছে উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি রোল মডেল। ঠিক এমন সময় গত ২০ মে ২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নটরডেম ড. কামাল হোসেনকে সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করে। কীসের শ্রেষ্ঠত্বের জন্যগণফোরামের মত বাংলাদেশের একটা অতি ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দলের প্রধান ড. কামাল হোসেনকে এই পুরষ্কার দেয়া হলো বাংলাদেশের মানুষের কাছে তা খুব স্পষ্ট নয়।

এই পুরষ্কার নেওয়ার সময় নিউইয়র্কে অবস্থানকালে কয়েকজন সিনেটর এবং কংগ্রেসম্যানকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্রিফ করেন ড. কামাল হোসেন। বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে নিজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। মানে বাংলাদেশে মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রের ইচ্ছার মতো করে পরিবর্তন আনার জন্য কী ড. কামাল খুবই উপযুক্ত বা কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছেন! কী সেই অবদান! পুরস্কার পাবার পরের দিনেই অর্থাৎ ২১ মে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেন গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন।

জানা গেছে, বিএনপির পলাতক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে গোপন বৈঠক করার জন্যই তড়িঘড়ি করে লন্ডন গিয়েছিলেনন ড. কামাল হোসেন। বাংলাদেশের নির্বাচন বাঞ্চাল করে একটি সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করে কেউ কী তাদের তাবেদার সরকারকে ক্ষমতায় এনে বাংলাদেশে কিছু করতে চায়? তারা কারা? আর তাদের আসল টার্গেটই বা কী!

একটি অনলাইন পোর্টালে খবর বেরিয়েছে যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তিনমাস পিছিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৪শে অক্টোবর ২০১৮ তারিখেচারদিনের ঢাকা সফরে এসে উপসহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলে এরকম একটি প্রস্তাব নিয়ে কথা বলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে নির্বাচনে বিএনপিসহ তার শরীকরা অংশগ্রহণ নাও করতে পারে। সেক্ষেত্রে তিনমাস নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করা যায় কিনা এ বিষয়টি বিভিন্ন মহলের কাছে জানতে চেয়েছেন এলিস ওয়েলস।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৩(৩) (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মেয়াদ অবসানের আগের নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। আবার (খ)-তে সংসদ ভেঙে যাবার পরের নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। ২৮ জানুয়ারি বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হবে। ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন না হলে সংসদ ২৯ জানুয়ারি আপনা আপনি ভেঙে যাবে। সংসদ ভেঙে গেলে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, নির্বাচন ৩০ এপ্রিল পেছালে বিরোধী দলগুলোর বেশ কিছু দাবী আপনা আপনি পুরণ হয়। সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে ৭ দফা দাবী দিয়েছে তাঁর প্রথম দাবীই হলো বর্তমান সংসদ তফসীল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে দিতে হবে। মার্কিন উপ সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী ঢাকা সফরে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ একজন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন।

বাংলাদেশ বা পাশের কোন দেশের কারো পাওয়া এক একটা পুরস্কারের সাথে বাংলাদেশের রাজনীতি বা অর্থনীতির যোগসূত্র একেবারেই কাল্পনিক নাকি আসলে কোন কারণ আছে? আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক কোন পুরস্কারের সাথে কী বাংলাদেশে ভাগ্যের উঠা-নামার কোন যোগ আছে!

সম্পাদক/এসটি