প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য ধর্ষণ ১৯৭১: নারীদের গনিমতের মাল হিসেবে ধর্ষণ জায়েজ?

ধর্ষণ ১৯৭১: নারীদের গনিমতের মাল হিসেবে ধর্ষণ জায়েজ?

548
ধর্ষণ ১৯৭১: নারীদের গনিমতের মাল হিসেবে ধর্ষণ জায়েজ?

মুফাস্সিল ইসলাম

আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি। যদি নিজের বিবেককে কাজে লাগান আর নিজের প্রতি সৎ থাকেন তাহলে নিচের সংগৃহীত লিখাটি পড়ে বলতে বাধ্য হবেন যে, ইসলামের কোরান ও হাদিসের নির্দেশনাক্রমে যুদ্ধবন্দী নারীদের ধর্ষণ করা জায়েজ।

এও বুঝতে পারবেন, আইএস বা মউদুদী কেনো তার বইয়ে যুদ্ধবন্দী নারীদের গনিমতের মাল হিসেবে ধর্ষণ করাকে জায়েজ বলে। আর এও জানবেন কেনইবা আমাদের ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার যুদ্ধে নারীদের ধর্ষণ করেও যুদ্ধাপরাধীরা মনে মনে তাকে ইসলামসম্মত মনে করে আর কেনই-বা টিক্কা খান বলেছিলো, “পেহলে ইস্ক মুসলমান বানাও”! চ্যালেঞ্জ করলাম!

ইসলাম প্রচারের অন্যতম সহিহ কৌশল হলো কোরান ও হাদিসের মধ্যে নানা রকম লুকোচুরি বা ছক্কা পাঞ্জা খেলতে হবে যাবে পাবলিক আসল অর্থ বুঝতে না পারে। তবে অবশ্যই এই খেলার মাধ্যমে ইসলামকে ভাল রূপে দেখাতে হবে, তাহলে ধর্ম প্রিয় মুমিনদের কেউ যদি এই লুকোচুরি খেলা ধরেও ফেলে, তারা চুপ থাকবে, এমন কি সমর্থনও করবে।

এই লুকোচুরির একটা অন্যতম কায়দা হলো বেগতিক দেখলেই হাদিস বা তাফসির অস্বীকার করতে হবে তা সে যতই সহিহ হাদিস বা প্রসিদ্ধ ইসলামী পন্ডিতদের তাফসির হোক না কেন। বলতে হবে ইহা দুর্বল বা জাল হাদিস। নিমেষেই বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ ইত্যাদির মত সহিহ ইসলাম পন্ডিতদের হাদিস সব জাল হাদিস হয়ে যাবে, আর নিজেকে কোরান ওনলি হিসাবে প্রচার করতে হবে। অতপর কোরানের আয়াতকে প্রেক্ষাপট ছাড়াই আপাত যেরকম দেখায় সেরকমই অর্থ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে হবে, তবে অবশ্যই সেটা যেন ইসলামকে ভাল দেখায়, তাহলেই তা ধর্ম প্রিয় মানুষের সমর্থন পাবে। একটা উদাহরণ দেখা যেতে পারে, যেমন নিচের আয়াত:

সুরা নিসা-৪; ২৪: এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়- এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য- ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ।

উক্ত আয়াত আপাতত পড়লে তেমন কোন খারাপ কিছু ধরা পড়ে না, কারণ অনুবাদটা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে সাধারণ পাবলিক সরাসরি উক্ত আয়াতের অর্থ ধরতে না পারে, কারণ ধরতে পারলেই বিপদ। এবার উক্ত আয়াত সম্পর্কিত হাদিস বা প্রেক্ষাপট দেখা যাক:

সহিহ মুসলিম :: খণ্ড ৮ :: হাদিস ৩৪৩২: উবায়দুল্লাহ ইবন উমর ইবন মায়সারা কাওয়ারীরী (র)…।আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা) হুনায়নের যুদ্ধের সময় একটি দল আওতাসের দিকে পাঠান। তারা শক্রদলের মুখোমুখী হয়েও তাদের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে এবং তাদের অনেক বন্দিনী নারী তাদের হস্তগত হয়। এদের মধ্য থেকে বন্দিনী নারীর সাথে যৌন কাজ করা রাসুলুল্লাহ (সা) -এর কয়েকজন সাহাবী যেন না জায়িয মনে করলেন, তাদের মুশরিক স্বামী বর্তমান থাকার কারণে। আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভূক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধ্বা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, (নিসা -৪: ২৪) অর্থাৎ তারা তোমাদের জন্য হালাল, যখন তারা তাদের ইদ্দত পূর্ণ করে নিবে।

উক্ত হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে, প্রথমত যুদ্ধের সময় কালে উক্ত ৪:২৪ আয়াত মুহাম্মদ নাজিল করেছিল এবং এর দ্বারা বন্দিনী নারীদেরকে ধর্ষণ করতে বলছে যদিও আয়াত বা হাদিসে সরাসরি ধর্ষণ শব্দটা উল্লেখ নেই। কোরানের আল্লাহ মুহাম্মদ বা তার সাঙ্গ পাঙ্গদেরকে বলছে বন্দিনী নারী ধর্ষণ করতে, একথা সাধারন মুসলমানরা জানার সাথে সাথেই ইসলাম ও মুহাম্মদ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবে, আর একসময় তারা ইসলামও ত্যাগ করতে পারে। সুতরাং বিষয়টাকে গোপন করতে নানাকৌশল অবলম্বন করতে হবে। তারমধ্যে প্রথম কায়দাটা হলো সরাসরি উক্ত হাদিসকে জাল বলে ঘোষণা দিতে হবে। হাদিসকে জাল বলে ঘোষণা দিয়েই নিজেকে কোরান ওনলি হিসাবে প্রচার করতে হবে। তারপর উক্ত ৪:২৪ আয়াতের আগ পিছের কিছু আয়াত পড়তে হবে যেমন:”

সুরা নিসা-৪: ২৩: তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্রাতৃকন্যা; ভগিনীকন্যা তোমাদের সে মাতা, যারা তোমাদেরকে স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকরী, দয়ালু।

সুরা নিসা ৪: ২৫: আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন মুসলমান নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত মুসলিম ক্রীতদাসীদেরকে বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত রয়েছেন। তোমরা পরস্পর এক, অতএব, তাদেরকে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর এমতাবস্থায় যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে-ব্যভিচারিণী কিংবা উপ-পতি গ্রহণকারিণী হবে না। অতপর যখন তারা বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন যদি কোন অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদেরকে স্বাধীন নারীদের অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ব্যবস্থা তাদের জন্যে, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ভয় করে। আর যদি সবর কর, তবে তা তোমাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।

উক্ত ২৩ ও ২৫ আয়াত পড়লে বোঝা যাচ্ছে, এই আয়াত দুটো কাদেরকে বিয়ে করা যাবে সে সম্পর্কে বলছে আর তাই বলা বাহুল্য যুদ্ধ ক্ষেত্রের মত যায়গায় এই আয়াত দুটো নাজিল হয় নি। কারণ যুদ্ধের মাঠে যেখানে জান নিয়ে মারামারি চলছে, সেখানে কে কাকে বিয়ে করতে পারবে, এটা নিয়ে নিশ্চয়ই খোশগল্প করার সময় থাকবে না। অর্থাৎ এটা স্বাভাবিক সময়ে নাজিল হয়েছে। কোরান সংকলকারীরা বুঝে বা না বুঝে স্বাভাবিক সময়ে নাজিল হওয়া এই আয়াত দুটোর মধ্যে যুদ্ধ কালিন সময়ে অতি জরুরি প্রয়োজনে (যুদ্ধবন্দিনী নারীকে ধর্ষণ করতে পারবে কি না) নাজিল করা একটা আয়াতকে (২৪) ঢুকিয়ে দিয়েছে। আর সেটাকেই লুকোচুরি বা ছক্কা-পাঞ্জা খেলার মোক্ষম সুযোগ হিসাবে ইসলাম প্রচারকারীরা গ্রহণ করে প্রচার করে: ২৪ নং আয়াতে আসলে বিয়ের কথা বলা হয়েছে, কারণ তার আগের ও পরের আয়াত ২৩ ও ২৫ তো বিয়ের কথাই বলছে।

অর্থাৎ এই সময়ে হয়ে পড়তে হবে কোরান ওনলি। সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুমিনেরা কিন্তু এ ধরনেরই কোন একটা ব্যাখ্যা শুনতে চায়, ধান্ধাবাজ মিথ্যাবাদী ইসলাম প্রচারকরা সাধারণ মুমিনের এই মনস্তত্বকে কাজে লাগায়, অতপর লুকোচুরি খেলে মিথ্যা কথা বলে, কিন্তু সেটাকেই সাধারণ মুমিনেরা সমর্থন করে, কারণ তাদের সেই মিথ্যাচার পরিশেষে ইসলামকে ভাল হিসাবে চিহ্ণিত করে। বর্তমানের প্রখ্যাত ইসলাম প্রচারক জাকির নায়েক সাধারণ মুসলমানদের এই মনস্তত্ত্বকে খুব সফলভাবেই কাজে লাগায়।

সম্পাদক/এসটি