প্রচ্ছদ রাজনীতি খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবীরা কেনো নাখোশ?

খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবীরা কেনো নাখোশ?

651
খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবীরা কেনো নাখোশ?

দীর্ঘদিন ধরে যারা বিএনপির বুদ্ধিজীবী কিংবা থিংক ট্যাংক হিসেবে কাজ করতেন। বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

লোকে যাদের খালেদা জিয়ার চার দরবেশ বলে ডাকতেন। বিএনপির জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করার পরে তাঁরা নীরব কেন? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

বিএনপির থিংক ট্যাংক এবং ঘনিষ্ঠজনের মধ্যে যার নাম সর্বপ্রথমে আসে, তিনি শফিক রেহমান। বেগম খালেদার বক্তৃতা লেখক হিসেবেও বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি যায় যায় দিন পত্রিকার সম্পাদক এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট। প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত।

তিনি দীর্ঘদিন জেল খেটে এখন নিভৃতে সময় কাটাচ্ছেন। এখন আর বিএনপির কোন কার্যক্রম কিংবা কর্মসূচীতে তাকে দেখা যায় না। এমনকি বিএনপি এখন যে পেশাজীবিদের নিয়ে বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছে সেখানেও তিনি আসছেন না বলে জানা গেছে। তিনি এই যুক্তফ্রন্টের ব্যাপারে অত্যন্ত নেতিবাচক ধারনা পোষণ করেছেন।

তিনি মনে করছেন, এই ঐক্যফ্রন্টের ফলে বাংলাদেশে বিএনপি যে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারণা সুচনা করেছিল সেই ধারনার মৃত্যু ঘটছে। এটা বিএনপির নি:শোষিত হওয়ার একটি প্রক্রিয়া মাত্র।

একইভাবে আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। যিনি বিএনপির একজন অন্যতম থিংক ট্যাংক হিসেবে পরিচিত। বিএনপি জামাত ঐক্যের প্রতীকি রুপ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। সেই মাহমুদুর রহমানও বর্তমান সরকারের আমলে কারাভোগ করেন। আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হন। সর্বশেষ তিনি একটি মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে কুষ্টিয়ায় নিগৃহীত হয়েছেন। ওই সময় তিনি চিকিৎসার জন্য মালেয়শিয়া গিয়েছেন। তিনিও এই খামতির ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেছেন। তাকেও বিএনপির কোন কর্মকান্ডে দেখা যাচ্ছে না।

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপর্যয়ের পরে ফরহাদ মাজহারও বিএনপির অন্যতম থিংকট্যাংক হিসেবে পরিচিত পান। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার অত্যান্ত ঘনিষ্ঠ ব্যাক্তি হিসেবে আভির্ভূত হন। তার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার একাধিক বৈঠকের খবর সে সময়ে গণমাধ্যমে আসে। ফরহাদ মাজহার বিএনপিকে ইসলামি করণ করার অন্যতম পথিকৃত। এই ফরহাদ মাজহার মাঝে একটি নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। তখন স্বেচ্ছায় অন্তর্ধান হন, পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। তিনিও বিএনপির নতুন মেরকরণ নিয়ে অত্যান্ত নাখোশ বলে জানা গেছে।

আরেকজন হলেন ড. এমাজউদ্দীন আহমদ। সাবেক এই উপাচার্য খালেদা জিয়ার অত্যান্ত ঘনিষ্ঠ ব্যাক্তি হিসেবে পরিচিত। বিএনপির বুদ্ধিজীবীদের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি যে ঐক্যফ্রন্ট করেছে, সে ব্যাপারে এমজাউদ্দীনও নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেছেন। তিনিও ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সর্বাত্নক দূরে সরিয়ে রেখেছেন।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহাবুবুল্লাহও বিএনপির থিংক ট্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিএনপির অর্থনৈতিক ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন বলে জানা যায়। বিএনপির এই মেরুকরণের ফলে সাম্প্রতিক সময় তিনি লোকচক্ষুর আড়ালেই থাকেন। প্রকাশ্যে এ নিয়ে কোন কথা বলতে আগ্রহী নন তিনি।

বিএনপি এই পরীক্ষিত ত্যাগী বুদ্ধিজীবীরা কি তাহলে এই ঐক্যফ্রন্ট গঠন হওয়ার পর সরে গেলেন?এখান থেকেই কি নতুন বিএনপির সূচনা হলো? বিএনপি যে আদর্শ নিয়ে গঠিত হয়েছিল। সে আদর্শ কি বিএনপি এই ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে বিসর্জন দিল? সেটাই সর্বমহলে প্রশ্ন!

সম্পাদক/এসটি