প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ মানবসম্পদ সূচকে

ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ মানবসম্পদ সূচকে

67
ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ মানবসম্পদ সূচকে

বিশ্বব্যাংকের তৈরি করা বৈশ্বিক মানবসম্পদ সূচক বা হিউম্যান ক্যাপিটাল ইনডেক্সে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

এই সূচক অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও নেপাল ছাড়া সবার চেয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে আছে।

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে বার্ষিক বৈঠকে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের ১৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর জরিপ করে বৈশ্বিক মানবসম্পদ সূচক করা হয়েছে। সূচক করার সময় দেশগুলোর স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বেঁচে থাকার অন্যান্য অনুষঙ্গগুলো বিবেচনা করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া একজন শিশু বড় হয়ে কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীল হওয়ার সম্ভাবনা ৪৮ শতাংশ। ভারতে এই হার ৪৪ শতাংশ আর পাকিস্তানে ৩৯ শতাংশ। তবে সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকা শ্রীলঙ্কা ও নেপালে এই হার যথাক্রমে ৫৮ ও ৪৯ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১০০ জনের মধ্যে ৯৭ জন শিশুই ৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এছাড়া বাংলাদেশে চার বছর বয়সী শিশু স্কুল শুরু করলে ১৮ বছর হওয়ার আগে স্কুলজীবনের ১১ বছর শেষ করতে পারে। ভারত ও পাকিস্তানে ৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে ৯৬ ও ৯৩ শতাংশ শিশু। আর ভারতে চার বছর বয়সী শিশু স্কুল শুরু করলে ১৮ বছর হওয়ার আগে শেষ করতে পারে স্কুল জীবনের ১০ দশমিক ২ বছর আর পাকিস্তানে ৮ দশমিক ৮ বছর।

মানবসম্পদ সূচকে বাংলাদেশের নারীরা পুরুষের চেয়ে এগিয়ে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে। আরে বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের বেঁচে থাকার হার উল্লেখ করা হয়েছে ৮৭ শতাংশ। পড়টীবেডোণে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ৮৭ শতাংশই ৬০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকেন। আর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে ৬৪ শতাংশ শিশু। বাংলাদেশে ৩৬ শতাংশ শিশুর স্বাভাবিকভাবে বড় হওয়ার প্রক্রিয়া ও বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

বিশ্বব্যাংক প্রণীত মানব উন্নয়ন সূচক তালিকার শীর্ষস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। আর তালিকার তলানিতে রয়েছে আফ্রিকার দেশ শাদ ও দক্ষিণ সুদান।

সম্পাদক/এসটি