প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় ২১ আগস্ট মামলার রায়: আ.লীগের সা. সম্পাদক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

২১ আগস্ট মামলার রায়: আ.লীগের সা. সম্পাদক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

253
২১ আগস্ট মামলার রায়: আ.লীগের সা. সম্পাদক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২১ আগষ্টের নৃশংস গ্রেনেড হামলার ন্যয় বিচার হয়েছে।’

তিনি বলেন, এই মামলার বিচারকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিএনপি সব চেষ্টাই করেছিল। কিন্তু আজ এই রায়ের মাধ্যমে বিএনপি’র সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হলো।

রায়ের উপর প্রতিক্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জজামান খাঁন কামাল বলেন, এই মামলায় যে সমস্ত আসামি দেশের বাইরে আছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার সব উদ্যোগে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, জজ মিয়ার সাজানো নাটক থেকে ন্যয় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এটা আইনের শাসনের পথে বড় অর্জন।

রায়ে মৃত্যুদণ্ড-যাবজ্জীবন সাজা হলো যাঁদের

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে আজ। রায়ে ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে আদালত।

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলেন যারা: মাওলানা মো. তাজউদ্দীন, মাওলানা সাইফ, মুন্সী আব্দুল মাজেদ, ইউসুফ, আব্দুল মালেক, গোলাম মোহাম্মদ, মাওলানা শওকত হোসেন, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মোহাম্মদ জাফর, আবুল কালাম ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, হোসেন মোহাম্মদ আবু তাহের, মুফতি খাজা মাসুম, রফিকুল ইসলাম সবুজ, আব্দুল্লাহ, লুৎফুজ্জামান বাবর, মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার, বিডিআর জেনারেল আব্দুর রহিম, আবদুস সালাম পিন্টু, মোহাম্মদ হানিফ।

যাবজ্জীবন সাজা হলো যাদের: জঙ্গি শাহদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, পীর সাহেব, মাওলানা আব্দুর রউফ, হান্নান সাদিক, আবদুর রাজ্জাক, ইয়াহিয়া, হাওলাদার, আরিফুল ইসলাম আরিফ, মুত্তাকীন, মোরসালিন, খলিল, জাহাঙ্গীর আলম, ইকবাল , তারেক জিয়া, হারিস চৌধুরী, কাজী মোফাজ্জল, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, রাতুল আহমেদ।

তারেকের ফাঁসি না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ বিভিন্ন মহল

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়ে তারেক জিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। তবে রায়ে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো না কেন তা নিয়ে ক্ষুদ্ধ দেশের বিভিন্ন মহল।

আজ দুপুর ১২টায় রায় ঘোষণার পরপরই ঘটনার ভুক্তভোগী, আহতরা, নিহতদের পরিবার এবং আওয়ামী লীগ ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। কেননা গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মাস্টারমাইন্ডই ছিলেন তারেক। এই মামলার সাক্ষ্য প্রমাণে তারেক জিয়ার জড়িত থাকার কথা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ার পরেও তাঁকে কেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।

অপরদিকে লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারেকের নির্দেশে বাবর এবং অভিযুক্ত অন্যান্যরা এই হামলাকাণ্ডটি পরিচালনা করে। সেখানে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীকে কেন মৃত্যুদণ্ড না হয়ে যাবজ্জীবন কেন দেওয়া হলো, তাতে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলিরা অবশ্য বলছেন, তারেকের শাস্তি বাড়ানোর জন্য তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছিলেন যাঁরা

বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্বরতম হামলা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত সেই গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত ও তিন শতাধিক আহত হন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের তালিকা ও তাঁদের সংক্ষিপ্ত পরিচিয় নিচে তুলে ধরা হলো।

১। আইভি রহমান- প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ও মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

২। ল্যান্স কর্পোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ– তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী।

৩। আবুল কালাম আজাদ- তৎকালীন ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ৪। রেজিনা বেগম- আওয়ামী লীগ কর্মী।

৫। নাসিরউদ্দিন সরদার- শ্রমিক লীগের কর্মী। ৬। আতিক সরকার- যুবলীগের নেতা। ৭। আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারী- স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী।

৮। আমিনুল ইসলাম- যুবলীগের কর্মী। ৯। বেলাল হোসেন- যুবলীগের সহসম্পাদক। ১০। মামুন মৃধা- সরকারি কবি নজরুল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

১১। রতন শিকদার– ব্যবসায়ী। ১২। লিটন মুন্সী- মাদারীপুর যুবলীগের নেতা। ১৩। হাসিনা মমতাজ রিনা- ১৫ নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ১৪। সুফিয়া বেগম- মহানগর মহিলা আ.লীগের (দক্ষিণ) কর্মী।

১৫। রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা)– নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সবার প্রিয় রফিকুল ইসলাম আদা চাচা নামেই পরিচিত ছিলেন। কারণ পল্টন/ ষ্টেডিয়াম/নওয়াবপুর রোডের অফিসে প্রধানমন্ত্রীর কোনো অনুষ্ঠান থাকলেই তিনি পাঞ্জাবীর দুই পকেট ভর্তি প্লাস্টিকের কৌটায় করে শুকনা আদা নিয়ে যেতেন এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিলি করতেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও আদা চাচার কাছ থেকে নিয়মিত আদা খেতেন।

১৬। মোশতাক আহমেদ সেন্টু- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক। ২০০৪ সালের ১৫ আগস্ট গ্রামের বাড়ি বরিশালে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে ২০ আগস্ট ঢাকায় ফিরেছিলেন। ২১ আগস্ট দুপুরের পরই বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের সমাবেশে যোগ দেন।

১৭। আবুল কাশেম- আওয়ামী লীগ কর্মী। ১৮। জাহেদ আলী- আওয়ামী লীগ কর্মী। ১৯। মোমেন আলী- আওয়ামী লীগ কর্মী।

২০। এম শামসুদ্দিন- আওয়ামী লীগ কর্মী। ২১। হানিফ- ঢাকার ৩০ নং ওয়ার্ডের শ্রমিক নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা। ২২। ইসহাক মিয়া– পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ২৩। মোয়াজ্জেম– পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সম্পাদক/এসটি