প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় তারেক জিয়ার ফাঁসি চাই: রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জজ মিয়া

তারেক জিয়ার ফাঁসি চাই: রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জজ মিয়া

209
তারেক জিয়ার ফাঁসি চাই: রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জজ মিয়া

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। তারেক জিয়াসহ আরও ১৯ জনের হয়েছে যাবজ্জীবন। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত হয়েছেন আরও ১১ জন।

এই রায়ের অন্য অনেকের মতোই তারেক জিয়ার দণ্ড নিয়ে আপত্তি তুলেছেন জজ মিয়া।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর তৎকালীন সরকারের জজ মিয়া নাটকের নায়ক জজ মিয়া। তারেক জিয়ার ফাঁসি দাবি করে জজ মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রায়ে আমি সন্তুষ্ট। যদিও আশা করেছিলাম তারেক রহমানের ফাঁসি হবে, কিন্তু তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এখন রাষ্ট্রপক্ষ হয়তো উচ্চ আদালতে আপিল করবে। উচ্চ আদালতের রায়ে তারেক জিয়ার ফাঁসি হোক এটাই আমার চাওয়া।’

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের ৪০০ নেতা-কর্মী।

২০০৪ সালে ২১ আগস্ট ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২২ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আড়াইশয়ের বেশি লোক, যারা এখনো গ্রেনেড হামলার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে। এই হামলার পর বিচারের প্রহসনের নামে লজ্জাজনক এক নাটক সাজায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ইতিহাসের পাতায় এটি ‘জজ মিয়া নাটক’ নামে জায়গা করে নেয়।

গ্রেনেড হামলার সত্যিকারের অপরাধীকে আড়াল করার জন্য নিরপরাধ সিডি বিক্রেতা জজ মিয়াকে আটক করে হামলার মূল হোতা বানানোর চেষ্টা করে বিএনপি সরকার। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় যখন জজ মিয়াকে ফাঁসানো হয় তখন তার বয়স ছিল ২৫ বছর। নোয়াখালীর সেনবাগে ভিটেমাটি থাকলেও গুলিস্তান সিনেমা হলের সামনে পোস্টার ও ক্যাসেট বিক্রি করে কোনোমতে জীবিকা চলত।

তাকে মুক্ত করতে ছয় বছরের আইনি লড়াইয়ে সেই ভিটেমাটিও বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছিল জজ মিয়ার পরিবার। তাকে মুক্ত করতে তার ভাই, বোন সবাই নিঃস্ব হয়ে গেছে। কারাগার থেকে মুক্তি মিললেও অতি কষ্টে দিন যায় তাঁর।

সরকার পরিবর্তনের পর ২০০৯ সালে কারাগার থেকে ছাড়া পান জজ মিয়া। কিন্তু ততদিনে জীবন থেকে চলে গেছে মূল্যবান পাঁচটি বছর। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে পুনর্বাসনসহ চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর পর গেছে আরও আট বছর। এখন তার বয়স ৩৭ হয়ে গেলেও প্রতিশ্রুত চাকরির দেখা পাননি জজ মিয়া। ধারের টাকা ফেরত দিতে মুক্তির বছরেই সাড়ে ৭ শতাংশ পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে এলাকা ছাড়েন জজ মিয়া।