প্রচ্ছদ স্পটলাইট নির্বাচনের প্রশ্নেই থমকে আছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া

নির্বাচনের প্রশ্নেই থমকে আছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া

141
নির্বাচনের প্রশ্নেই থমকে আছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়া গঠন করেছে বিএনপি, যুক্তফ্রন্টসহ বেশ কয়েকটি দল। এই উদ্দেশ্যে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ৬ সদস্যের একটি লিয়াজোঁ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

কিন্তু নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার প্রশ্নে বিভক্ত হয়ে পড়েছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া।

নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপির মধ্যে দুটি ধারা আছে। বিএনপির একটি অংশ মনে করে যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে এই অংশটি আন্দোলনের চেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাকেই বড় অস্ত্র বলে মনে করে। কিন্তু দলের তরুণ অংশটি খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ৭ দফা দাবি পূরণ না হলে নির্বাচন না করার ব্যাপারে অবস্থান নিয়ে ফেলেছে।

বিএনপির মতো একই অবস্থা জাতীয় ঐক্যেরও। নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার বিরোধী জাতীয় ঐক্যের যে প্রচেষ্টা চলছে সেখানেও নির্বাচন প্রসঙ্গে দুইটি মত পাওয়া গেছে। অধ্যাপক ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের একটি বড় অংশ মনে করে তাদের নির্বাচনে যাওয়া উচিত, নির্বাচনই হতে পারে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ।

এই অংশটির বিশ্বাস, ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করলে সরকারের পক্ষে একসঙ্গে ৩০০ আসনে কারচুপি করা সম্ভব হবে না। বরং সরকারকে মধ্যে একটি বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলা যাবে। এজন্যই বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট আগে থেকেই দেখে নিতে চাইছে কোন দল কত আসন পাবে, নির্বাচনের পর কী হবে প্রভৃতি। নির্বাচনের পুরো ব্যাপারটি তারা আগেই ফয়সালা করে নিতে চাচ্ছে। কারণ তারা মনে করছে, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন যদি হয় তাহলে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়াই হতে পারে একমাত্র সমাধান।

জাতীয় ঐক্যের অন্যতম নেতা বি. চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে মত দিলেও ঐক্য প্রক্রিয়ার আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে অংশ নিতে অনিচ্ছুক। ড. কামাল হোসেন বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। আজ-কালের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরবেন। ড. কামাল হোসেনদের অবস্থান হলো নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি অর্জন না হওয়া পর্যন্ত কোনো ভাবেই নির্বাচনে না যাওয়া এবং তিনি চেষ্টা করছেন যথাসম্ভব সবগুলো দলকে নির্বাচনে যেতে নিরুৎসাহিত করা।

এই ব্যাপারে তিনি জাতীয় পার্টির সঙ্গে কথা বলেছেন। অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গেও তিনি কথা বলছেন এবং বলবেন। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনে অংশ নিতে অনিচ্ছুক জাতীয় ঐক্যের অংশটি বিশ্বাস করে, শেষ পর্যন্ত যদি প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের বাইরে রাখা যায়, তাহলে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শূন্যতা তৈরি হবে। এতে ২০১৪ সালের পুনরাবৃত্তি আর ঘটবে না।

এমন অবস্থায় সরকারের পক্ষে নির্বাচনে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই অংশটির বিশ্বাস, নির্বাচনে না গিয়ে সরকারকে চাপে ফেলতে পারলে সরকার আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে এবং দাবি-দাওয়া মেনে নেবে। এভাবে সরকারকে পিছু হটতে বাধ্য করার মাধ্যমে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও আসতে পারে বলে বিশ্বাস জাতীয় ঐক্যের ওই অংশটির।

নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া কোন পথে যাবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। ঐক্য প্রক্রিয়া সূত্রে জানা গেছে, ড. কামাল হোসেন দেশে ফিরে নির্বাচন বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করবেন। তখন বোঝা যাবে, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নির্বাচনে যাবে কি যাবে না।

তবে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের মধ্যে যে বিরোধ তা মূলত নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়াকে ঘিরেই তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। এই বিরোধটার মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে মনে করছেন দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সম্পাদক/এসটি