প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য এবার কে পাচ্ছেন শান্তিতে নোবেল?

এবার কে পাচ্ছেন শান্তিতে নোবেল?

154
এবার কে পাচ্ছেন শান্তিতে নোবেল?

প্রতি বছরের মতো এবারও ঘোষণা করা হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক নোবেল পুরস্কার। কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ইতিমধ্যেই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে শান্তি বিস্তারের ক্ষেত্রে কে বা কারা এই পুরস্কারটি পেতে যাচ্ছেন, তা জানা যাবে দুদিন পরই। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৫ অক্টোবর (শুক্রবার) স্থানীয় সময় বেলা ১১ টায় নরওয়ের অসলোতে ঘোষিত হবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার। এই মুহূর্তে বিশ্ববাসীর মনে প্রশ্ন একটিই- কে বা কারা পাচ্ছে শান্তিতে নোবেল।

চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীতের সংখ্যা ৩৩১ বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ব্যক্তির সংখ্যা ২১৬ জন এবং প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১৫টি। নোবেল শান্তি পুরস্কারের ইতিহাসে এবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থী প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এর আগে ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ ৩৭৬ প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবার শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছে বলে জানা গেছে। যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে কাজ করা ড. ডেনিস মুকেজ এবং নাদিয়া মুরাদও মনোনীতের তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে সারা বিশ্বেই যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন ও ক্যাম্পেইন গড়ে উঠছে।

নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটিও এ বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমাজকর্মী তারানা বার্কও শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন। যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে তাঁকে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডার এবং রিপোর্টার উইদাউট বর্ডারের মতো সংগঠনগুলো চলতি বছর শান্তি পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকায় আছে বলে জানা গেছে।

এবার একজন রাষ্ট্রপ্রধান নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে পারেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন পুরস্কারটি জিততে পারেন বলে ধারণা করছেন কেউ কেউ। কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ফেরাতে তাঁর ভূমিকার জন্য তিনি শান্তি পুরস্কারের যোগ্য দাবিদার বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঐতিহাসিক বৈঠক আয়োজনেও মধ্যস্থতা করেছিলেন মুন।

দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট মুনের সঙ্গে উত্তরের নেতা কিমের হাতেও শান্তি পুরস্কার দেখছেন অনেকে। দুই কোরিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরীতা নিরসনে অবদানের জন্য তিনিও এর দাবিদার বলে মনে করা হচ্ছে। কেউ কেউ আবার এক ধাপ এগিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও এই পুরস্কার দেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে চলতি বছর আলোচনায় বসেছিলেন ট্রাম্প-কিম। ওই বৈঠকে উত্তর কোরিয়া পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসতে সম্মত হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শান্তি পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকায় আছেন বলে দাবি করছেন তাঁর সমর্থকরা।

পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য, অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার সুইডেনের স্টকহোম থেকে দেওয়া হলেও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়ের অসলো থেকে। দেশটির সংসদের নিয়োগ দেওয়া ৫ সদস্যের কমিটি শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

সম্পাদক/এসটি