প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য অক্টোবর ২০০১-এ বিএনপি সন্ত্রাসীদের পূর্ণিমা নির্যাতন

অক্টোবর ২০০১-এ বিএনপি সন্ত্রাসীদের পূর্ণিমা নির্যাতন

382
অক্টোবর ২০০১-এ বিএনপি সন্ত্রাসীদের পূর্ণিমা নির্যাতন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০১ সালে স্বেচ্ছায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু আওয়ামী লীগের এই রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মর্যাদা রাখেনি বিএনপি।

অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যেকোনো উপায়ে নির্বাচনে জয়লাভের জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করে বিএনপি-জামাত ও প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা তাদের দোসররা। এমন অবস্থায় ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রহসনের নির্বাচনে সীমাহীন ভোট কারচুপির মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে পরাজিত করে জয়লাভ করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামাত জোট সরকার।

নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরপরই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যা, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও নারী নির্যাতনের মতো বর্বর কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় বিএনপি-জামাত জোটের সন্ত্রাসীরা। রাষ্ট্রীয় ছত্রছায়ায় বিএনপি-জামাতের হাতে নির্যাতিত-নিপীড়িত দুর্ভাগাদের করুন কান্না ঢাকা পড়ে যেতে থাকে। বিএনপি-জামাত জোট সরকার ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় যাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করেছে তাদের মধ্যে পূর্ণিমা রানী শীল একজন।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার দেলুয়া গ্রামের অনিল কুমার শীলের কিশোরী কন্যা পূর্ণিমান রানী শীল। অষ্টম সংসদ নির্বাচনের সময়টাতে ছিলেন হামিদা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। নির্বাচনের দিন দেলুয়া হাইস্কুল কেন্দ্রে যান তিনি। সেখানে তাঁর গৃহশিক্ষক সাধন পোলিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। পূর্ণিমাকে দেখে সাধন অনুরোধ করেন বলেন, তিনি বাসায় খেতে যাবেন। তাই তিনি ফিরে আসার আগ পর্যন্ত যেন পূর্ণিমা একটু বসেন। পরে সাধন ফিরে আসলে পূর্ণিমা বাড়ির দিকে রওয়ানা দেন। পথে বিএনপির কর্মী ও সমর্থকরা তাকে শাসায়।

সপ্তাহখানেক যেতে না যেতেই সেই শাসানোকে বাস্তবে রূপ দেয় বিএনপির সন্ত্রাসীরা। ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী অক্টোবর মাসের ৮ তারিখ রাতে পূর্ণিমার ওপর চালানো হয় বর্বরতম অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন। রাতে জোরপূর্বক বাড়িতে ঢুকে পুরো পরিবারের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের চালায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা। এক পর্যায়ে অনিল শীলের ছোট মেয়ে পূর্ণিমাকে নিপীড়ন করে তাঁরা। এত মানুষ দেখে পূর্নিমার মা সেদিন বলেছিলো, ‘বাবারা, আমার মেয়েটা ছোট তোমরা একজন একজন করে এসো, নয়তো মেয়েটি মরে যাবে।’

ঘটনার ৩/৪ দিন পর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নির্যাতিত পূর্ণিমা ও তার পরিবারকে সাংবাদিদের সামনে হাজির করলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপি এম আকবর আলী ঘটনাটি সত্য নয় বলে দাবি করেন।

জোট সরকারের শাসনামলে পূর্ণিমা তাঁর ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার পাননি, বরং প্রশাসনের কাছ থেকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয় পূর্ণিমার পরিবারকে। তবে পূর্ণিমা হার মানেননি। অবশেষে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালের ৪ মে অভিযুক্ত ১১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

এত নিপীড়ন-নির্যাতনের পরও জীবনযুদ্ধে হার না মানা অসম সাহসী পূর্ণিমা রানী শীল বর্তমানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের পিএ হিসেবে কর্মরত আছেন। পূর্ণিমা একই সঙ্গে আমাদের বিএনপির নিপীড়ন-নির্যাতন মনে করিয়ে দেয় এবং এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা যোগায়।

সম্পাদক/এসটি