প্রচ্ছদ আইন-আদালত পরকীয়া ফৌজদারি অপরাধ নয়, রায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের

পরকীয়া ফৌজদারি অপরাধ নয়, রায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের

105
পরকীয়া ফৌজদারি অপরাধ নয়, রায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের

পরকীয়া কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয় বলে জানালেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এটি কোনো শাস্তিযোগ্য অপরাধও নয় বলে রায়ে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র তাঁর রায়ে জানান, এই আইন স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর। এটা অসাংবিধানিক। ভারতের মাটিতে ১৫৮ বছরের পুরোনো এ আইনের কোনো দরকার নেই।

এ ব্যাপারে দীপক মিশ্র বলেন, স্ত্রী কখনও স্বামীর সম্পত্তি হতে পারে না। কোনো ব্যক্তি যদি কোন বিবাহিত নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন, তবে সেটা কোনো অপরাধ নয়।

প্রসঙ্গত, ভারতে ১৮৬০ সালে তৈরি হওয়া ৪৯৭ ধারায় পরকীয়া ছিল অপরাধ। যে পুরুষ বা নারী এ ধরনের সম্পর্কে যুক্ত থাকবেন বলে আদালতে প্রমাণিত হবে, তার কারাভোগ এবং জরিমানা ছিল কার্যত অবশ্যম্ভাবী।

বৃহস্পতিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ সাফ জানান, কোনো নারী তাঁর স্বামীর সম্পত্তি নয়। কোনো আইন ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে পারে না। বিশেষত এই আইন নারীদের অধিকার ও সম্মান ক্ষুণ্ণ করেছে। ইংরেজ আমলে তৈরি হওয়া এই আইনের সাংবিধানিকতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট এ রায় দেয়।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেন, ‘পরকীয়া শব্দটিকে আগে যেভাবে দেখা হতো, এখন আমরা নিশ্চয়ই সেভাবে দেখি না।

অন্যদিকে, পরিবার-সমাজ এগুলোকেও রক্ষা করা প্রয়োজন। তাই দেড়শ বছরের বেশি পুরোনো এই আইনের ধারাটার বদল ঘটানো প্রয়োজন সবদিকে সামঞ্জস্য রেখে। এদিন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চের মধ্যে কিছু বিচারপতি যদিও মনে করেন, ৪৯৭ ধারা থাকা প্রয়োজন।

তবে অন্য বিচারপতিরা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই আইনের অবলুপ্তি ঘটেছে। তাই ভারতের বর্তমান সমাজেও এই আইন থাকার কোনো দরকার নেই।’

সম্পাদক/এসটি