প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য ভুল তথ্য: ‘বাংলাদেশ থেকে ভারতীয়দের ৪০০ কোটি ডলার আয়’

ভুল তথ্য: ‘বাংলাদেশ থেকে ভারতীয়দের ৪০০ কোটি ডলার আয়’

122
ভুল তথ্য: 'বাংলাদেশ থেকে ভারতীয়দের ৪০০ কোটি ডলার আয়'

বাংলাদেশ থেকে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স হিসেবে বছরে ৪০০ কোটি ডলার ভারতে যাওয়ার তথ্যটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বস্ত্র খাতের একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার এ কথা জানান।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের এক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে একথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

এর আগে শফিউল ইসলাম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘ভারতের প্রবাসী আয়ের চতুর্থ বড় উৎস বাংলাদেশ। এটা নিয়ে আমরা গর্ব বোধ করি।’

শফিউল ইসলামের এই বক্তব্য প্রসঙ্গে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘আমি রেকর্ড রাখার জন্য এফবিসিসিআই সভাপতির বক্তব্যটির আংশিক সংশোধনী দিতে চাই। বাংলাদেশ যে ভারতের রেমিট্যান্সের চতুর্থ উৎস, এটা প্রকাশ করেছিল পিউ রিসার্চ। তাদের ওয়েবসাইটে সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে এ তথ্য উঠেছিল, যা পুরোপুরি ভুল। সংবাদটি মিথ্যা।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে তথ্যাদি আমরা এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে আদানপ্রদান করতে পারি। এ দেশে ভারতীয় নাগরিকদের একটি ছোট দল কাজ করে। এটা অবিশ্বাস্য যে তাদের পক্ষে ৪০০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় পাঠানো সম্ভব।’

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে পিউ রিসার্চের বরাত দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় বাংলাদেশকে ভারতের রেমিট্যান্স আয়ের পঞ্চম উৎস বলে উল্লেখ করা হয়। এতে বাংলাদেশ থেকে ভারত বছরে ৪০৮ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পায় বলে উল্লেখ করা হয়।

পিউ রিসার্চ গত ২৩ জানুয়ারি বিশ্বব্যাংকের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে একটি হালনাগাদ ইনফোগ্রাফিকস প্রকাশ করে, যেখানে বাংলাদেশ থেকে ২০১৬ সালে ২০০ কোটি ডলার বা সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স বিদেশে যায় বলে উল্লেখ করা হয়।

এর মধ্যে ভারতে যায় ১১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এ ক্ষেত্রে ভারতের ওপরে আছে চীন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। পিউ রিসার্চের একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত থেকে বাংলাদেশে ২০১৬ সালে ৪০৬ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে।

সম্পাদক/এসটি