প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে যেকোন সময় ভেঙে যেতে পারে বিএনপি

ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে যেকোন সময় ভেঙে যেতে পারে বিএনপি

507
ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে যেকোন সময় ভেঙে যেতে পারে বিএনপি

দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। বিএনপি বার বার বলছে, সরকার পতনই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করাই তাদের প্রধান কর্মসূচি।

ক্ষমতাসীন দলই তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ। কিন্তু গত এক বছরে বিএনপির রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বিএনপি প্রধান প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেয়ে নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে ব্যস্ত।

আরও নির্দিষ্ট করে বলা যায়, বিএনপির প্রধান লড়াই এখন বেগম জিয়ার সঙ্গে তারেক জিয়ার লড়াই। এই লড়াইয়ে বিএনপি বিভক্ত, কর্মীরা বিভ্রান্ত, নেতারা ইতস্তত। বেগম জিয়া জেলে যাবার পর পুত্রের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার পার্থক্য প্রবল হয়েছে। এখন তা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। বিএনপিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন সরাসরি খালেদা পন্থী।

সর্বশেষ, বেগম জিয়ার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারের পর বিএনপি মহাসচিব তারেকের কোনো কথাই আমলে নিচ্ছেন না। অন্যদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হলেন তারেক পন্থী।

সাম্প্রতিক সময়ে এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য হয়েছে ড. কামাল হোসেন এবং অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঐক্য প্রক্রিয়ায় যোগদান নিয়ে। কারারুদ্ধ বেগম জিয়া, বিএনপি মহাসচিবকে ঐক্যের ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। অন্যদিকে, তারেক জিয়া এই ঐক্যে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। ২০ দল বেগম জিয়ার প্রতি অনুগত, ভাইস চেয়ারম্যানরাও খালেদার অনুসারী।

এ কারণেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এদের সঙ্গে কথা বলে ঐক্য প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটি তারেক জিয়া নিয়ন্ত্রিত। বিএনপি মহাসচিব এ ধরনের বৈঠকের জন্য জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকেননি।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, রিজভী, হাবিব-উন-নবী খান সোহেলরা কারও নেতৃত্বে জোটে যাওয়ার বিপক্ষে। তারেক জিয়া তাঁদের বলেছেন, ড. কামাল হোসেন এবং বি চৌধুরীদের ঐক্য আওয়ামী লীগের একটি পাতানো ফাঁদ।

তারেক ঘনিষ্ঠ বিএনপি নেতারা বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া উচিত এবং ২০ দল ঐক্যবদ্ধ ভাবেই নির্বাচনে যাওয়া উচিত। তারেক জিয়া, শরিকদের ৩০ আসন দিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

নির্বাচনের মূল ইস্যু বলেছিলেন, বেগম জিয়ার মুক্তি। কিন্তু বেগম জিয়া কারাগারে ফখরুল এবং বিএনপির আইনজীবীদের বার্তা দিয়েছেন অন্য।

সূত্রমতে, বেগম জিয়া তাঁর আগের অবস্থানে অনঢ়। তিনি বলেছেন, ‘প্রয়োজনে আমার লাশ জেল থেকে বের হবে। কিন্তু এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে বিএনপি যাবে না।’

জানা গেছে, বেগম জিয়ার এই অবস্থানের পরই, বিএনপি নেতারা নির্বাচন বর্জনের পথে হাঁটতে শুরু করেছেন।

বিএনপির একদল সিনিয়র নেতা বলেছেন, ‘তারেক সাহেব মনোনয়ন বাণিজ্য করার জন্য দলকে নির্বাচন মুখী করতে চাইছেন। কিন্তু দল বেগম জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচনে যাবে না।’

একারণেই বিএনপির সিনিয়র নেতারা এখন তারেক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু বিএনপির মর্যাদা ক্ষুণ্ণের অভিযোগে ফুঁসে উঠছেন দলের তরুণরা। আপাত দৃষ্টিতে লড়াইটা প্রবীণ ও তরুণের মনে হলেও আসল লড়াইটা বেগম জিয়া আর তারেক জিয়ার।

সম্পাদক/এসটি

পোস্টে মন্তব্য করে ফেসবুকে শেয়ার করুন