প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় বিএনপির ঢাকা দখলের পায়তারা: তৎপর মায়া-নানক-আজম

বিএনপির ঢাকা দখলের পায়তারা: তৎপর মায়া-নানক-আজম

1057
বিএনপির ঢাকা দখলের পায়তারা: তৎপর মায়া-নানক-আজম

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা অচলের পরিকল্পনা করছে বিএনপি। বিএনপির নেতারা বেশ খোলামেলা ভাবেই বলছেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা দখলের সংকল্প তাদের।

বিএনপির এমন পরিকল্পনার মুখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও নড়েচড়ে বসেছে।

ঢাকায় আওয়ামী লীগের কিছু সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই সংগঠনকে গতিশীল করতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। এই মুহূর্তে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগে সভাপতি হিসেবে এ কে এম রহমত উল্লাহ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাদেক খান দায়িত্ব পালন করছেন।

দক্ষিণের কমিটিতে সভাপতি পদে আছেন হাজী আবুল হাসনাত, আর সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন শাহে আলম মুরাদ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই দুই কমিটি রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করার জন্য নির্ভরযোগ্য নয়। কর্মীদের সঙ্গে এদের যোগাযোগ খুবই সামান্য। কর্মীদেরকে উদ্বেলিত করা তাই এই নেতাদের পক্ষে খুব কঠিন একটি কাজ।

অথচ আওয়ামী লীগের কাছে খবর আছে, এবার বিএনপির নির্বাচনকেন্দ্রিক আন্দোলন পরিচালিত হবে ঢাকাকে টার্গেট করে। ঢাকা অচল করে দেওয়ার কথা কোনো রাখঢাক না করেই বলছেন বিএনপির নেতারা। বিএনপি মনে করে, ২০১৪’র নির্বাচনের সময় তারা সারা দেশকেই অচল করতে পেরেছিল। কিন্তু ঢাকাকে কব্জা করা সম্ভব হয়নি বলেই সফলতা পায়নি সেবারের নির্বাচনী আন্দোলন। এই ব্যর্থতার জন্য ঢাকার নেতাদের দায়ী করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

তাই এবার প্রকাশ্যেই ঢাকা অচল করে দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে দলটি। ঢাকা দখলের লড়াইয়ে বিএনপির বাইরে বিরোধী দলগুলোর অন্যান্য নেতারাও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় মোস্তফা মহসিন মন্টুর কথা। এক সময়কার এই যুবলীগ চেয়ারম্যান এখন ড. কামালের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের নেতা। অনেকদিন ধরেই ঢাকায় একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ছিল সাবেক এমপি মন্টুর। নির্বাচনের আগে এখন তিনি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে ঢাকার নিয়ন্ত্রণ হাতে রাখতে রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিকদের হাতেই নির্বাচনের আগের সময়টাতে ঢাকার সাংগঠনিক কার্যক্রম গোছানোর দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড। এ কাজের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানক ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমকে।

১৯৯২, ১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে তিন মেয়াদে অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান প্রয়াত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। এই দুজনের নেতৃত্বে কমিটি ছিল অত্যন্ত গতিশীল।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকাকালীনই ১৯৯৪ সালে ঢাকার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোহাম্মদ হানিফ, যেখানে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছিল। যদিও সেই শক্তিশালী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মায়া বর্তমানে বিভিন্ন কারণে ঢাকার কমিটিতে নেই। চাঁদপুর থেকে নির্বাচন করেছেন তিনি। তবুও দুর্দিনে দলের জন্য তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড থেকে মায়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকার সংগঠন গোছানো ও কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য।

এছাড়া হাই কমান্ড থেকে ঢাকার দায়িত্ব পেয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজম। ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে ছিল, সেই নির্যাতন-নিপীড়নের দিনগুলোতে ঢাকায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল যুবলীগ। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপি-জামাত জোট সরকার যেদিন ক্ষমতা ছাড়ে সেদিন আওয়ামী লীগ অফিসে আক্রমণ করা হয়। সেই হামলার হাত থেকে পার্টি অফিসকে রক্ষা করেছেন তৎকালীন যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম।

আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারি এই দুই নেতার ঢাকার কর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ অনেক শক্তিশালী। এই কারণে নানক ও মির্জা আজমকে ঢাকা গোছানো, আন্দোলন-সংগ্রাম মোকাবেলা করা এবং কর্মীদের সংঘবদ্ধ করা অর্থ্যাৎ জনসংযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড।

এছাড়া যুবলীগ উত্তরের বর্তমান সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, দক্ষিণের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেনের শক্তিশালী লোকবল রয়েছে। তাঁরাও নানক-আজমের কর্মী হিসেবেই পরিচিত। যুবলীগের এই নেতাদেরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড বুঝতে পেরেছে ঢাকায় আওয়ামী লীগের কিছু দুর্বলতা আছে। তাই ঢাকাকে রক্ষা করার জন্য এবং সকল আন্দোলন রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করার জন্য মায়া-নানক-আজমের মতো দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের দায়িত্ব দিয়েছে দলটি। এই নেতারা ইতিমধ্যেই কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও শুরু করেছেন।

মেয়র হানিফ এবং মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ারা ছিলেন ঢাকা সিটির অবিসংবাদিত নেতা। কর্মীদের মধ্যে ওই নেতাদের যে জনপ্রিয়তা ছিল সেটি এখনকার অনেক নেতারই নেই। এমন সময়ে বিএনপি যদি রাজপথ দখল করে আন্দোলন শুরু করে তাহলে তাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

আর বিএনপির পক্ষ থেকে যেহেতু বারবার ঢাকা দখলের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে তাই বোঝা যাচ্ছে নির্বাচনের আগে ঢাকা দখলই হবে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য মূল পরীক্ষা। এই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার রাজনীতিতে আবার রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিকদের সক্রিয় করছে আওয়ামী লীগ।

পোস্টে মন্তব্য করে ফেসবুকে শেয়ার করুন