প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা কর্ণফুলীতে বিশেষ কৌশলে সংগঠিত হচ্ছে জামায়াত-বিএনপি

কর্ণফুলীতে বিশেষ কৌশলে সংগঠিত হচ্ছে জামায়াত-বিএনপি

397
কর্ণফুলীতে বিশেষ কৌশলে সংগঠিত হচ্ছে জামায়াত-বিএনপি

জে. জাহেদ চট্টগ্রাম ব্যুরো: ক্ষমতাসীন দলের নানা চাপ ও প্রশাসনের কঠোর তৎপরতায় কৌশল পাল্টাতে শুরু করে কর্ণফুলী উপজেলার জামায়াত বিএনপি দলের নেতারা। প্রকাশ্যে কোন জায়গায় তারা এখন মিটিং মিছিল করছে না।

তবে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঠিকেই কিন্তু নীরবে সংগঠিত হচ্ছে দুদল। উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে নীরবে দল গোছাচ্ছে জামায়াত-শিবির ও ছাত্রদল। কমিটিও দেওয়া হচ্ছে আংশিক কিস্তিতে। যদিও রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে দুদলের অনেক নেতা-কর্মী কারাগারে। জানা যায়, চট্টগ্রাম কারাগারে এখন তিন শীর্ষ নেতাসহ ২৪ শিবির কর্মী আটক রয়েছে।

কর্ণফুলীতে বিএনপি জামায়াতের সক্রিয় সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জুমাবারে একত্রিত হয়ে দলের সাংগঠনিক কার্য সেরে নিচ্ছে। কেহ বুঝতেও পারেনা তারা যে দলের নির্দেশ প্রচারে এসব বৈঠকে বসে।

গ্রামের সাধারণ মানুষ মনে করে তারা সামাজিক কাজকর্মে নিয়োজিত। কিন্তু কৌশলে এসব জামায়াত বিএনপিরা অনেক সময় কর্ণফুলীর বিভিন্ন মাজারে জিয়ারতের নামে একত্রিত হয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন বলে খবর পাওয়া যায়।

যা প্রশাসন কখনো জানতেও পারেন না। কিছু দিন আগে দলের চেয়ারপার্সন এর জন্য দোআ মাহাফিল নামে নগরীর আমানত শাহ্ মাজারে দক্ষিণ জেলার কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী জড়ো হয়ে তাদের নির্দেশনা গ্রহণ করে।

বৈঠকে দলের সিনিয়র নেতারা ও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু শুক্রবারে এতটাই মানুষের জটলা থাকে যে কেহ বুঝতে পারার আগেই তাদের কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়।

সম্প্রতি এ বিষয়ে মাঠে নেমেছে প্রশাসনের গোয়েন্দা দল। স্থানীয় কর্ণফুলী থানাও গত রবিবারে উর্ধ্বতন অফিসারের উপস্থিতিতে বৈঠক করে। যেকোন বিশৃঙ্খলা মোকাবেলায় পুলিশ কঠোর অবস্থান নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে নিশ্চিত করে।

কেননা সামনে জাতীয় নির্বাচন জামায়াত বিএনপির অনেকে এবারের ১১তম সংসদ নির্বাচনকে মরণ কামড় হিসেবে দেখছেন। বিভিন্ন দোকানে কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে দেখা হলেও তারা গোপনে সেরে নিচ্ছে দলের গোপন নির্দেশনা।

উপজেলার কমিনিউটি সেন্টার গুলোতে দলের কোন সদস্যের বিয়ে হলে তখনই টার্গেট করে গোপনে কাজ সারেন। কেহ বুঝতেও পারেনা সামাজিক অনুষ্ঠান না দলীয় কর্মসূচি। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এসব অনুষ্ঠানে দলের সাবেক এমপি হতে শুরু করে নীতিনির্ধারণী মহলের অনেকে অপ্রত্যাশিত ভাবে উপস্থিত হয়ে যায়। এতে পুলিশকে বোকা বানাতে বিয়ের দাওয়াত বলে প্রচার করে সক্রিয় কর্মীরা।

এর পুর্বে নেতারা সামাজিক সাইটে তাদের গোপন ফেসবুক গ্রুপে বিষয়টি জানিয়ে রাখে বলে তথ্য পাওয়া যায়। কিছুদিন আগেও উপজেলার এসআর স্কয়ার ও রিভারভিউ কমিনিউটি সেন্টারে কয়েকটি বিয়েতে এ রকম দৃশ্য দেখতে পায় গণমাধ্যমকর্মীরা।

যে অনুষ্ঠানে জামায়াত বিএনপির তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মী সহ এলডিপির অনেক সিনিয়র নেতার উপস্থিতি ভাবিয়ে তুলেছে প্রশাসনকে।

এছাড়াও কর্ণফুলীতে জামায়াত বিএনপি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নীরবে বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন। যদিও দুদল একে অপরের কোন তথ্য আপাতত ফাঁস করছে না।

বিএনপির একাধিক নেতা হতে জানতে চাইলেও তারা কর্ণফুলীতে বিএনপি জামায়াতের অনেক কমিটি নাই বলে মন্তব্য করেন। কিন্তু যেকোন কর্মসূচীতে তাদের অবস্থান চোখে পড়ার মতো।

এমনকি চট্টগ্রাম মহানগরীর জামায়াতের গোপন বৈঠকে কর্ণফুলীর চার সক্রিয় সদস্য অংশ গ্রহণ করেছে বলে খবর পাওয়া যায়। ছদ্ম বেশে নানা ব্যবসায়ী হিসেবে কর্ণফুলীতে তাদের অবস্থান। তবে যাদের নাম ও গোপন রেখেছে নেতাকর্মীরা।

মাঠে প্রশাসনের বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীর তীক্ষœ নজর রাখলেও কিছু বুঝে ওঠার আগেই এরা নানা কর্মসূচি পালন করে। যার ব্যানার ও পুর্ব থেকে তৈরি করা তাকে।

কিছুদিন আগে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সুপার ফাইভ পাঁচ নেতা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে ঢাকা পুরানা পল্টনে বৈঠকে করে দিকনির্দেশনা নিয়ে আসে। যা অতি গোপনে বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে দক্ষিণ জেলা বিএনপি তথা কর্ণফুলী উপজেলার নানা নেতাকর্মী।

তথ্য রয়েছে, ২০১২সালে পুলিশের উপর হামলা, গাড়ী ভাঙচুর-আগুন দেওয়া সহ বিভিন্ন নাশকতার ঘটনায় চট্টগ্রামে চার’শ মামলায় জামাত-শিবিরের ৫ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার ছিলো। এদের বেশিরভাগই এখন জামিনে মুক্ত।

এরা প্রকাশ্যে আর না এলেও এসব কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে একটি নীতিনির্ধারণী মহলের নেতারা।

সিএমপির এডিসি প্রসিকিউশন নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেছেন, “যারা জামিনে মুক্ত হয়েছে তাদেরকে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে”।

প্রশাসন যতটা কঠোর নজরধারী হোক না কেন কর্ণফুলীতে জামায়াত বিএনপি টিকেই গোপনে তাদের কার্যক্রমকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে সাধারণ মানুষের ধারণা। যা আগামী নির্বাচনে মাঠে দৃশ্যমান হতে পারে।