প্রচ্ছদ স্পটলাইট ড. কামাল-বি. চৌধুরী ঐক্য: সতর্ক আওয়ামী লীগ-বিএনপি

ড. কামাল-বি. চৌধুরী ঐক্য: সতর্ক আওয়ামী লীগ-বিএনপি

155
ড. কামাল-বি. চৌধুরী ঐক্য: সতর্ক আওয়ামী লীগ-বিএনপি

মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে গতকাল রোববার রাতে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট বি. চৌধুরীর মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে এই দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘদিনের বিভেদ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। আজ সোমবার বিকেলেও তাঁদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আজকের বৈঠকে সেই ঐক্য প্রক্রিয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন। ঈদের পরে এই বিষয়ে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করারও কথা রয়েছে তাঁদের।

ড. কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরীর মধ্যকার এই ঐক্য প্রক্রিয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিকে সতর্ক করেছে। একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ডিসেম্বরে। আর জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের জন্য দুইটি দলের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো প্রার্থী আছে অন্তত ৯০০ জন করে। এই প্রার্থীরা সবাই মোটামুটি ডাকসাইটে প্রার্থী।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের মো. সোহরাব উদ্দিন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভালো ক্যান্ডিডেট, পুলিশের সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদ ভালো ক্যান্ডিডেট, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নূরুল হকও ভালো ক্যান্ডিডেট।

আবার কুমিল্লা-৭ আসনে অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত কিংবা শহীদুর রহমান সবাই ভালো ক্যান্ডিডেট। এরকম প্রত্যেকটি সংসদীয় আসনেই সম্ভাবনাময় ক্যান্ডিডেট আছেন যারা নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন। এরা প্রত্যেকেই নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় জনকল্যাণমূলক কাজ করছে। শুধু আওয়ামী লীগেই নয়, বিএনপিতেও একই অবস্থা। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে যে ৬০০ জন মনোনয়ন পাবেন না তাঁদেরকে দলে ভেড়ানোর কাজ করবে ড. কামাল ও বি. চৌধুরীর নতুন দল। এই দুই নেতার নতুন দলের মূল লক্ষ্য হবে এটাই।

ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ভালো যোগাযোগ আছে। মাহামুদুর রহমান মান্নারও যোগাযোগ আছে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে। এরা আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী নিয়ে আসতে পারবে। আর বি. চৌধুরী ছিলেন বিএনপির পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট। এখনো বিএনপির সঙ্গে তাঁর খুব ভালোই যোগাযোগ আছে। বিএনপি ছেড়েই নতুন দল গঠন করেছেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তাই বিএনপির মনোয়নবঞ্চিতদের দলে ভেড়ানো বদরুদ্দোজা চৌধুরীর জন্য কঠিন হবে না।

এছাড়া আবার বিএনপির প্রার্থীদের তারেক জিয়া মনোনয়ন দেবেন। ফলে যারা টাকাপয়সা দিতে পারবে না এমন অনেক সম্ভাবনাময় ক্যান্ডিডেট বাদ পড়ে যাবেন। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্বের একটা অংশ বিএনপির দুর্নীতি-অপরাজনীতিতে বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এই নেতারাও জাতীয় ঐক্যে যাবেন।

এসব কারণে আওয়ামী লীগ, বিএনপি দুই দলই এই ঐক্য নিয়ে অস্বস্তিতে আছে। এই নতুন ঐক্য কার ভোট ব্যাংকে হাত দেবে তাই নিয়ে ভাবছে দেশের প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দল।

ড. কামাল ও বি. চৌধুরীর দল নির্বাচনে জিতবে না সেটি সবাই জানে কিন্তু এই ঐক্যের ফলে মনোনয়ন বঞ্চিতরা দল ত্যাগের প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পাবেন যা আওয়ামী লীগ, বিএনপির দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া এই ঐক্যের পেছনে আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে যা আওয়ামী লীগ, বিএনপি ভালো চোখে দেখছে না।

আওয়ামী লীগ, বিএনপির মধ্যে যতই রেষারেষি থাক রাজনীতির ময়দানে তৃতীয় শক্তির উত্থানে দু দলেরই আপত্তি রয়েছে যেটি ওয়ান ইলেভেন এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় দেখা গেছে। তাই লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া টেলিফোন করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সতর্ক করে দিয়েছেন পর্যবেক্ষণ না করে ড. কামাল ও বি. চৌধুরীদের সঙ্গে মেলামেশা না করার জন্য। আওয়ামী লীগও সাম্প্রতিক সময়ে ড. কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরী বিরোধী একটি অবস্থান নিয়েছে।

ড. কামাল ও বি. চৌধুরীর নতুন ঐক্য ক্ষমতায় আসতে পারবে না সেটি সর্বজনবিদিত। কিন্তু এই ঐক্য ক্ষমতায় রদবদলের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। কার পক্ষে ভূমিকা রাখবে ড. কামাল ও বি. চৌধুরীর নতুন ঐক্য, এটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের বড় প্রশ্ন।