প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য “উইকিলিকসের নথিতে তারেকের নির্দেশে ২১ আগস্টে গ্রে’নেড হা’মলা”

“উইকিলিকসের নথিতে তারেকের নির্দেশে ২১ আগস্টে গ্রে’নেড হা’মলা”

17711
উইকিলিকসের গোপন নথিতে তারেকের নির্দেশে ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা

২১ আগস্ট গ্রেনে’ড হা’মলার গোপন নথি প্রকাশ করেছে উইকিলিকস। গো’পন নথিতে উঠে এসেছে নানা গো’পন তথ্য। ২১ আগস্ট গ্রে’নেড হা’মলার আগে হুজি নেতারা তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাত হয়েছিল।

২০০৪ সালে তারেক রহমান তাদের বলনে, একশন এবং বি’স্ফোরণে যাওয়ার জন্য এগিয়ে যান। লুৎফুজ্জামান বাবর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, হ্যারিস চৌধুরী, এরপর প্রধানমন্ত্রীর সচিব, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জামায়াত-ই-ইসলামি মহাসচিব, তারপর এনএসআই মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. আবদুর রহিম এবং ডিজিএফআই পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজাকুল হায়দার চৌধুরী ছিলেন। যে বৈঠকে রাজধানীর বনানী হাওয়া ভবনে অনুষ্ঠিত হয়।

হামিদ হুজি, প্রভাবশালী লিড এর মধ্যে সহযোগিতার ফলাফল ছিল বিএনপি ও জামায়াত জোট, এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা, পুলিশ, জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই), ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টিলিজেন সিই (এনএসআই) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও)।

এই তদন্তকারীদের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে ২১ আগস্ট হ’ত্যা মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র ডেইলি স্টার জুলাই মাসে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রের একটি কপি পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২১ আগস্ট বি’স্ফোরণে নি’হত ২৬ নেতাকর্মী ও আইভি রহমান। গুরুত্বর আ’হত হন শেখ হাসিনার সহ ৩০০ জন, এখন প্রধানমন্ত্রী।
চার্জ অনুযায়ী, নি’ষিদ্ধ জঙ্গি গ্রুপ হারকাতুল জি’হাদ (হুজি) নেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়া ও তারেকের বৈঠক হয়।

প্রথম সভায় ২০০৪ সালের প্রথম দিকে, হুজি নেতারা নির্বাহীদের পরিকল্পনা ছিল শেখ হাসিনা ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের হ’ত্যা করা। এতে তারেক রহমান হুজি নেতারা নির্বাহীদের সর্বসম্মত সমর্থনকারীকে আশ্বাস দেন। ২১ আগস্ট হা’মলার তিন দিন আগে ১৮ আগস্ট হুজি নেতারা বাবরকে নিয়ে মিটিং করেন সাবেক বিএনপির উপ-পরিচালক আবদুস সালাম পিন্টুর বাসভবনে।

১৪ আগস্ট ২০০৪- হাওয়া ভবনে বৈঠক উপস্থিত ছিল তারেক রহমান বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফজ্জামান বাবর বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর নুর জামায়াতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান মুজাহিদ খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু হরকাতুল জি’হাদের নেতা মুফতি হান্নান, তাজউদ্দীন।

– আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে হ’ত্যার নি’র্দেশ দেয় তারেক রহমান। – আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সাহায্য করবে, তারেকের নিশ্চয়তা।
১৬ আগস্ট: মিন্টু রোডে বাবরের বাসায় বৈঠক। – পুর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি, আ’ক্রমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

১৮ আগস্ট: আবদুস সালাম পিন্টুর বাসায় বৈঠক। – পিন্টুর ভাই তাজউদ্দীন, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ডিউক ও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। -হরকাতুল জি’হাদের কাছে ১২টি আর্জেস গ্রে’নেড হস্তান্তর করে বাবর।

২১ আগস্ট: – বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় হরকাতুল জি’হাদের গ্রে’নেড হা’মলা
– দলের ২৬ জন নেতা-কর্মী নি’হত হন। – পুলিশের সহায়তায় পালিয়ে যায় হাম’লাকারীরা। – আ’হতদের হাসপাতালে নিতে বাধা দেয় পুলিশ। – ঘটনাস্থলে সকল প্রমাণ নিশ্চিহ্ন করতে পানি ছোড়া শুরু করে পুলিশ।

তারপর আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই, হামলার মূল হোতা তাজউদ্দীনকে গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় পাকিস্তান পাঠিয়ে দেয় তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ডিউক। হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ ও বিএনপির ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফ সভায় উপস্থিত ছিলেন। বাবর এবং পিন্টু জ’ঙ্গি নেতাদের আশ্বাস দেন যে সমস্ত প্রশাসনিক সহায়তা দিবেন।

এই হামলায় ব্যবহৃত আর্জেড গ্রেনে’ডগুলি পাকিস্তান থেকে চোরাচালান করা হয়েছিল। ডিন, সালাম পিন্টুর ভাই, গ্রে’নেড সরবরাহ করেছিলেন, যা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ২০ আগস্ট পিন্টুর ধানমন্ডি বাসভবন থেকে মুফতি হান্নানের বাড্ডা অফিসে । তারপর তৎকালীন পুলিশ কমিশনার আশরাফুল হুদা আওয়ামী লীগের সভা ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নিয়ে ঘট’নার দিন তড়ি’ঘড়ি বিদেশে চলে যান।

গ্রে’নেড হা’মলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও গ্রে’নেড সরবরাহকারী মাওলানা তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) জ’ঙ্গি দমন-সংক্রান্ত ব্যুরো, যা জানতেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও।