প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত জামায়াতের নাস্তিক শাখা | মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ

জামায়াতের নাস্তিক শাখা | মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ

937
জামায়াতের নাস্তিক শাখা | মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ

দেশে নাস্তিকতার জোয়ার বইছে। বহু ধার্মিক এখন নাস্তিক হচ্ছে। রাজনীতিবিদেরা ক্ষমতার স্বার্থে সব করতে পারে। সুতরাং বাতাস যেদিকে পাল পুরোটা বা পালের অংশবিশেষ সেদিকে হেলিয়ে দেয়াটা তাদের নৈমিত্তিক কর্মের মধ্যেই পড়ে। প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলের ওলামা শাখা অছে, অাবার সেকুলার শাখাও অাছে। জামায়াত ও অস্তিত্ব সংকটে পড়ার পর সেকুলার শাখা খুলেছে।

জামায়াত যতটা না ইসলামি দল তারচেয়ে অনেক বেশি তারা ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দল। অাবার একই সাথে উগ্র মৌলবাদীরা চরমভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। অা.লীগ যতটা না ধর্মনিরপেক্ষ দল তারচেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দল। ফলাফল দাঁড়াচ্ছে কি তাহলে?

ফলাফল- জামায়াত ভোট এবং সুনাম ধরে রাখতে নাস্তিক শাখা খুলেছে। অর্থাৎ অামরা নাস্তিক দাবিদার কতিপয় ইসলামপন্থী দেখতে পাচ্ছি যারা উগ্র অাওয়ামী বিদ্বেষী এবং পাকিস্তান পন্থী। (অাওয়ামী বিরোধী মানেই স্বাধীনতা বিরোধী কিংবা পাকপন্থী তা কখনো মনে করি না।)

এই সেকুলার জামায়াতীরা অাল তাকিয়ার অংশ হিসেবে ঘাপটি মেরে থেকে জামায়াতের পক্ষে কাজ করছে। অাবার একই সাথে অা.লীগের মধ্যেও দেখতে পাচ্ছি মৌলবাদীদের শক্ত অাসন। বহু অা.লীগার এখন প্রকাশ্যে ব্লগার হত্যার হুমকি দিচ্ছে। সংখ্যালঘুদেরকে ইসলামের নামে উচ্ছেদ করছে। এটাকে বলা হয় ভোটের সমীকরণ।

ভোটের সমীকরণের চিপায় পড়ে জামায়াত হাঁটছে নাস্তিকতার পথে, অার অা.লীগ হাঁটছে মৌলবাদের পথে। অা.লীগ যেমন কোনোদিনই পূর্ণ জিহাদী দল হতে পারবে না, জামায়াতও তেমনি কোনোদিনও সেকুলার দল হবে না। ভোটের এবং ইমেজ উদ্ধার প্রোগ্রাম হিসেব করে উভয় পক্ষই মাঝেমাঝেই খোলসের রং বদল করে।

জামায়াতের নাস্তিক এবং হিন্দু শাখায় কাজ করছে পিনাকী, নয়ন চ্যাটার্জী, ব্রাত্য রাইসু, নকুল কুমারসহ অারো অনেকে। এমনকি কিছু নাস্তিক দাবিদার ব্লগারও অাছে।

অা.লীগের মধ্যে এখন সালমান এফ রহমান, শামীম ওসমান, তাহের, বদি, অাসাদুজ্জামান কামালের অনুপ্রেরণায় জিহাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা চলছে। অা.লীগের জিহাদী অংশ এখন খুবই শক্তিশালী। তারা বঙ্গবন্ধুর নামে দরুদ পাঠ করে, বঙ্গবন্ধুকে ইসলামিক নেতা হিসেবে প্রচার করে। এই জিহাদী শ্রেণিকে স্বয়ং শেখ হাসিনাও ভয় পান!

শুধু এক শাহজাহানকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা ভয় পান, তত ভয় বোধহয় অশিক্ষিত বৌয়েরা ও তাদের হাজবেন্ডকে পায় না! অাসলে চারদিকের পুরুষতান্ত্রিকতা দেখে শেখ হাসিনা পুরুষভীতি দূর করতে পারেননি। অার খালেদার কথা কি বলবো; সে তো অাগাগোড়া সৌদি-পাকি মৌলবাদী।

মৌলবাদের সাথে অাপোষ করার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অা.লীগ। কারণ, মৌলবাদের উষ্ণ পরশে অা.লীগ ক্রমেই হয়ে উঠছে স্বেচ্ছাচারী, কিন্তু পুরোপুরি ধার্মিক হতে পারছে না। পুরোপুরি ইসলামিক দল হতে হলে অা.লীগের বঙ্গবন্ধুকে ত্যাগ করতে হবে। চাটার দল যতই ঘষামাজা করে বঙ্গবন্ধুকে ইসলামি বিপ্লবের নেতা বানানোর চেষ্টা করুক না কেন, তা অাসলে বিফলে যাবে। পূর্ণ ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করলে ক্ষমতায় টিকে যাবে অা.লীগ, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে তখন দেশদ্রোহী অাখ্যা দিতে হবে।

অার শেখ হাসিনা যতই অাপোষ করেন না কেন, তিনি কখনো তার বাবাকে দেশদ্রোহী অাখ্যা দেবেন না। তিনি সত্যিই তার বাবাকে অসম্ভব ভালোবাসেন। অার তার বাবা ভালোবাসা পাবার মতোই একজন অসাধারণ মানুষ ছিলেন। অাংশিক ইসলাম অাংশিক সেকুলারিজম- যা চাপিয়ে দিয়েছে অাওয়ামী পুরুষেরা শেখ হাসিনার ওপর- এর ফলাফল সুখকর হবে না।

বরং নাস্তিক শাখা খুলে জামায়াত রাজনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। নাস্তিক শাখা খোলার কারণে দেশের বুদ্ধিজীবী এবং অা.লীগের একটা অংশও জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করার বিরুদ্ধে। এজন্যই জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করতে সক্ষম হননি শেখ হাসিনা।

জামায়াতের নাস্তিক শাখা মূলত একটি নতুন ধরনের ইসলামের কথা বলে, সে বিষয় নিয়ে পরে কথা বলবো, অাপাতত এটুকুই চলুক।

ভিডিও:

…………………………………………………………………………………………
মুক্ত মতামত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত ও মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। shompadak.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে shompadak.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।