প্রচ্ছদ স্পটলাইট আল জাজিরাতে দেয়া ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমের বিতর্কিত সাক্ষাৎকার

আল জাজিরাতে দেয়া ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমের বিতর্কিত সাক্ষাৎকার

154
আল জাজিরাতে দেয়া ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমের বিতর্কিত সাক্ষাৎকার

মামলা সূত্রে জানা যায়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত শনি ও রবিবার জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলে কয়েকবার ফেইসবুক লাইভে আসেন শহিদুল।

এছাড়া ওই আন্দোলনের বিষয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের সমালোচনাও করেন। এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামি ‘কল্পনাপ্রসূত তথ্যের’ মাধ্যমে জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে ‘মিথ্যা প্রচার’ চালানো, উসকানিমূলক তথ্য উপস্থাপন, সরকারকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর’ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে উপস্থাপন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘অবনতি ঘটিয়ে’ জনমনে ‘ভীতি ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে’ দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং তা বাস্তবায়নে ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ‘অপপ্রচারের’ চালিয়েছেন। শহিদুল আলমের বিতর্কিত সাক্ষাৎকার:

আল জাজিরা: এই আন্দোলন তো শুরু হয়েছে দুটো স্কুলছাত্রকে সড়ক দুর্ঘটনায় হত্যার মধ্য দিয়ে। আপনি কী মনে করেন আন্দোলনটা কেবল নিরাপদ সড়ক নিয়েই না এরচেয়েও অনেক বড় কিছু?

শহীদুল: অনেক বেশি বড়, সরকারের হঠকারিতা চলে আসছে অনেক অনেক সময় ধরে। এই সরকার গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় নেই, তবু টিকে আছে কেবল শক্তির অপব্যবহার করে। ব্যাংক ডাকাতি, মিডিয়া ব্ল্যাক আউট, ক্রসফায়ারে হত্যা, গুম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সর্বক্ষেত্রে ঘুষপ্রথা, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি- এটা একটা তালিকা যার শেষ নেই। তুমি মাত্রই নিজে বললে মোবাইল নেটওয়ার্ক-এর কথা। তাহলেই দেখো।

এটা সেই সমস্ত চেপে রাখা ক্ষোভের একটা সম্মিলিত বহিঃপ্রকাশ। এই সড়ক দুর্ঘটনা, দুঃখজনক বটেই, কেবল এই জমে থাকা ফুলকি তে আগুন জ্বেলেছে। এই কিছুদিন আগেই আমাদের কোটা প্রথা নিয়ে আন্দোলন হল। কেননা প্রথাটি এমনভাবে তৈরি করা যেন সরকারের পা চাটা কাছের লোকেরা ই সরকারি চাকরি ও সুযোগ সুবিধাগুলো পায়। একটা অন্যায়সম অনুপাতের চাকরি তারাই পাচ্ছে এই ব্যবস্থায়। তাই, সাধারণ মানুষ আন্দোলন করেছে যেটা নৃশংস ভাবে দমানো হয়েছে। চাপে পড়ে প্রধানমন্ত্রী এর সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েও পরে কথা ফিরিয়ে নেন। এটাও একটা কারণ এত বিশালাকায় আন্দোলনের। তাই, সব মিলিয়েই ছাত্ররা আন্দোলনে নেমেছে। একইভাবে, সরকার পরিস্থিতি সামলাতে পারেনি এবং প্রধানমন্ত্রী এর প্রতিশ্রুতি পেয়েও স্বাভাবিক ভাবেই কেউ তা বিশ্বাস করেনি। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের সমর্থনযোগ্যতা খুইয়েছেন নিজেই, কেননা আগেও প্রতিশ্রুতি দিয়ে না রাখার দৃষ্টান্ত সে দেখিয়েছে।

কিন্তু আমার মনে হয় আমাদের আজকে রাস্তায় যা হয়েছে তার দিকে ভালোমত দৃষ্টিনিপাত করা, কেননা আমাদের পোলিস ফোর্স অস্ত্রসজ্জিত বেনামী বাহিনীর সহায়তা চেয়ে নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়েছে। অথচ শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ ভাবে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন করছিলো। চিন্তা করো, কী হাস্যকর! আজকে, আমি রাস্তায় স্বচক্ষে চাপাতি হাতে নিরস্ত্র ছাত্রদের ধাওয়া দিতে দেখেছি। অথচ পুলিশ কেবল তাকিয়ে দেখছিল। কিছু ক্ষেত্রে, পুলিশ সেই বাহিনীকে সহায়তাও করছিল। আজ সকালেই টিয়ার গ্যাস দিয়ে পুলিশ নিরস্ত্র ছাত্রদের ধরার চেষ্টা করেছে পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী লাঠি, রড ও চাপাতি নিয়ে ঘুরাঘুরি করেছে। আর পুলিশ তাদের পাশেই কেবল দাঁড়িয়ে আছে।

আল জাজিরা: আপনার কী মনে হয়? আন্দোলন এখান থেকে কোথায় যাবে? কারণ দেখা যাচ্ছে এই আন্দোলন সারা দেশেই ছড়িয়েছে কোনো ধরনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়াই। এটা সরকারের একটা চ্যালেঞ্জও বটে, কেননা বাংলাদেশের গহীন শেকড়ে ও এই আন্দোলনের বীজ দেখা যাচ্ছে।

শহীদুল: আমার মনে হয় সরকার এই ক্ষেত্রে হিসেবে ভুল করেছে। তারা ভেবেছিলো, সবাইকে ভয় দেখাতে পারলেই হবে, দমিয়ে রাখলেই চলবে, কিন্তু আমার মনে হয় না এমন দামাল একটা দেশকে এভাবে দমিয়ে রাখা সম্ভব। এবং অবশ্যই, সামনেই নির্বাচন আসছে। তাই, তারা যত কাছাকাছি যাবে নির্বাচনের তত বেশি বেপরোয়া আচরণ করবে। কারণ তারা জানে একটা সুষ্ঠু মুক্ত নির্বাচনে তারা হারবে। অথচ তাদের কোনো পালাবার পথ নেই। কেননা তারা এতকাল ধরে নোংরা নেতৃত্ব দিয়ে আসছে যে, যদি তারা হারে, তাদেরকেই সবাই ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলবে। অর্থাৎ, তাদের টিকে থাকতেই হবে। এবং তারা ঠিক সেটাই করছে। তারা সিস্টেমের ক্ষমতা আর নিজস্ব বেপরোয়া গুন্ডাদের সহায়তায় নিজেদের কোনোমতে টিকিয়ে রেখেছে যেকোনো মূল্যে।”