প্রচ্ছদ স্পটলাইট ইউনূস-ফখরুল টেলি আলাপ, শিগগির বিশেষ সাক্ষাত

ইউনূস-ফখরুল টেলি আলাপ, শিগগির বিশেষ সাক্ষাত

120
ইউনূস-ফখরুল টেলি আলাপ, শিগগির বিশেষ সাক্ষাত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎকার চান। শান্তিতে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ ব্যক্ত করে ফখরুল টেলিফোন করেছেন।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ড. মুহম্মদ ইউনূসের একটি লেখা ‘তুমিই বাংলাদেশ’ পড়ে মির্জা ফখরুল অভিভূত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন। ড. মুহম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত সপ্তাহে প্রথমে ড. মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তখন তিনি ড. ইউনূসকে পাননি।

গত শনিবার ইউনূস সেন্টার থেকে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তখন মির্জা ফখরুল টেলিফোনে শান্তিতে নোবেল জয়ীর সঙ্গে কথা বলেন। তবে, ইউনূস সেন্টারের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিএনপি মহাসচিব শুধু ড. ইউনূসের লেখার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ফোন করেছিলেন।

ইউনূস সেন্টারের ঐ কর্মকর্তা জানান, গণমাধ্যমে ঐ লেখার বিপুল প্রতিক্রিয়া হয়েছে। দেশে বিদেশে অনেকেই লেখাটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম তাদের একজন।

বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও ড. কামাল হোসেন, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও ঐ লেখার জন্য ড. মুহম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য গত ৬ আগস্ট এই লেখাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। যেখানে গ্রামীণ ব্যাংকে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ঐ লেখাতেই তিনি শিক্ষার্থীদের বড়দের উপদেশ না শোনারও পরামর্শও দেন।

ড. মুহম্মদ ইউনূসের এই বিবৃতিটি নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় নি। তবে, রাজনৈতিক সচেতন মহল, তাঁর এই লেখায় একটু অবাকই হয়েছে।

ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক ইস্যুতেই কথা বলতে পছন্দ করেন। দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি নিস্পৃহ এবং উদাসীন থাকেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, গণ আদালত, ব্লগার হত্যা কিংবা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এসব নিয়ে তাঁকে কোনো কথা বলেতে দেখা যায়নি। এমনকি বাংলাদেশ যখন মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলো, তখনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

অনেকের প্রশ্ন, হঠাৎ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আবেগাপ্লুত হলেন কেন ইউনূস? বাংলাদেশের রাজনৈতিক ডামাডোলে আলোচিত থাকার জন্যই কি ওই বিবৃতি তিনি দিয়েছেন? এমন প্রশ্ন অনেকের। বিশেষ করে, এ বিবৃতি বা লেখার পর হঠাৎ করেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাজনীতিবিদদের যোগাযোগ বেড়েছে।

বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে, ড. মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে মির্জা ফখরুল দেখা করতে চান। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি ইউনূসের অভিভাবকত্ব আশা করেন।

উল্লেখ্য, নোবেল জয়ের পর পরই ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০০৬-এর রাজনৈতিক অস্থিরতায় তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ওয়ান ইলেভেনের ঘটনার ক্ষেত্রে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে অনেকে মনে করেন।

বয়স অতিক্রান্ত হওয়ায় সরকার তাঁকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দিলে তিনি আইনের আশ্রয় নেন। আদালতে হেরে গিয়ে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নালিশ করেন। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধে ড. ইউনূসের হাত রয়েছে বলে সরকার অভিযোগ করে আসছে।