প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় ১৪ দলের বৈঠকে ড. কামাল হোসেনকে তুলাধোনা

১৪ দলের বৈঠকে ড. কামাল হোসেনকে তুলাধোনা

59
১৪ দলের বৈঠকে ড. কামাল হোসেনকে তুলাধোনা

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কঠোর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪-দলের নেতারা। গতকাল রাজধানীর তোপখানা রোডে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪-দলের বৈঠকে নেতারা বলেন, মোহাম্মদপুরের একটি বাড়িতে বৈঠক ও ড. কামাল হোসেনের গুণ্ডাতন্ত্র এবং তাকে গুলি করে মারার আহ্বান- এই মুহূর্তে দেশের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র।

যিনি নিজেকে গুলি করে মারার কথা বলেন, তিনি জঙ্গির চেয়েও খারাপ। ড. কামাল গংরা দেশকে অন্ধকারে নিয়ে যেতে চান। ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিকের সভাপতিত্বে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪-দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া, জাসদ (একাংশ) শরীফ নুরুল আম্বিয়া, জেপির শেখ শহিদুল ইসলাম, গণতন্ত্রী পার্টির শাহাদাত হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, অসিত বরণ রায়, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, গণআজাদী লীগের এস কে শিকদার, বাসদের রেজাউর রশিদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, ড. কামাল হোসেন ইস্যুতে আলোচনার সূত্রপাত করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি গত সোমবার ড. কামাল হোসেনের দেওয়া বক্তব্য- ‘গণতন্ত্র নয়; দেশে আছে গুণ্ডাতন্ত্র, ‘আমাদের গুলি করে মারা হোক’-এর প্রতি ১৪-দলের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ষড়যন্ত্র আজকে কোথায় গেছে, ড. কামাল হোসেন যিনি নিজেকে সিনিয়র সিটিজেন দাবি করেন, তিনি কীভাবে এমন বক্তব্য রাখেন। কামাল হোসেন গুণ্ডাতন্ত্রের কথা বলে তিনি নিজেই গুণ্ডামি করছেন।

বাংলাদেশ নিয়ে যে ড. কামাল হোসেনরা দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, এর প্রমাণ তার আত্মাহুতি দিতে চাওয়া। আত্মাহুতি দিতে চাওয়া জঙ্গির চেয়েও খারাপ। তারা দেশকে অন্ধকারে নিয়ে যেতে চান। মোহাম্মদপুরে গোপন বৈঠক আর পরবর্তীতে এমন বক্তব্য প্রমাণ করে তারা কীভাবে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চান।

পরে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া এবং গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন ও ন্যাপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের সমালোচনা করেন। তারা বলেন, কেউ কারও বাসায় দাওয়াতে যেতেই পারেন। কিন্তু উনি তো একজন প্রভাবশালী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। তিনি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করে যেতে পারতেন। কেন উনি এভাবে প্রটোকল ভেঙে গেলেন? বাংলাদেশ সরকার উনার চলাচলের ওপর তো কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি? তাহলে এত লুকোচুরি কেন? এই গোপনীয়তাই প্রমাণ করে বৈঠকটি সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ ছিল।

সূত্র জানায়, বৈঠকে জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান নির্বাচনের আগে আরও আন্দোলনের আশঙ্কা করেন। গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন কাঠামো, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তারা বলেন, ‘গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতনের দাবি নিয়ে সরকারকে নির্লিপ্ত মনে হচ্ছে। সরকারের প্রতিশ্রুতিতে এমপিওভুক্তি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ঘরে ফিরে গেলেও তারা আউটপুট না পেলে আবারও রাজপথে নামতে পারে। আর সুযোগ সন্ধানীরা এসব ইস্যু কাজে লাগাতে পারে। নির্বাচনের আগে সরকারকে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

জানা গেছে, বৈঠকে শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে জোট নেতারা তাদের ক্ষোভের কথাও জানান। আইনে সর্বনিম্ন শাস্তি উল্লেখ না থাকাসহ বেশ কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকার কথা তারা বৈঠকে তুলে ধরেন। আইনটি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

মুখপাত্রের বক্তব্য: বৈঠক শেষে ১৪-দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের শক্তি ঐক্যবদ্ধ ছিল বলে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের কয়েকজন নামকরা রাজনীতিবিদ উসকানিমূলক কথা বলেছেন। একজন মানুষ যখন ব্যর্থ হন তখন তিনি আবোল-তাবোল কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তারা সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের সঙ্গে এক হয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অনেক চেষ্টা করেছে। এ ধরনের ব্যক্তিরা জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে জাতিকে ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত। তারা বার বার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে।’

জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রাস্তায় লাইসেন্স ছাড়া কোনো গাড়ি চলবে না। আমাদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করবেন। লাইসেন্স ছাড়া কোনো এমপি-মন্ত্রীর গাড়িও যাতে ছাড় না পায়, সেদিকে নজর দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।