প্রচ্ছদ আইন-আদালত ড. কামালকে আইনজীবী চান খালেদা, বিএনপি রাজি নয়

ড. কামালকে আইনজীবী চান খালেদা, বিএনপি রাজি নয়

61
ড. কামালকে আইনজীবী চান খালেদা, বিএনপি রাজি নয়

বেগম জিয়া প্রশ্ন করলেন ‘শহীদুল আলমকে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দিলো কোর্ট। অথচ আমি হাসপাতালে যেতে পারছি না। আমার আইনজীবীরা আমার জন্য কিছুই করছে না।

ড. কামালকে আমার আইনজীবী করতে বললাম, সেটাও তারা করছে না।’ ক্ষুদ্ধ বেগম জিয়া গতকাল কারাগারে একজন ডেপুটি জেলারের কাছে এই মন্তব্য করেন। কারাসূত্রে এ খবর জানা গেছে।

কারাসূত্রের খবর অনুযায়ী, ইদানিং বেগম জিয়া কারারক্ষী, নার্স, ডাক্তার এবং কারা কর্মকর্তাদের পেলেই বাইরের খবর জানতে চান। জানতে চান আন্দোলনের কি অবস্থা। আন্দোলন থেমে গেছে, এই খবরে বেগম জিয়া বেশ হতাশ হয়ে যান। কিভাবে আন্দোলন থমকে গেল প্রশ্ন করেছেন অনেককে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানতে চেয়েছেন কারা গ্রেপ্তার হয়েছে, কেউ মারা গেছে কিনা ইত্যাদি।

এরমধ্যে একজন কারারক্ষী তাকে জানান, শহীদুল আলমের গ্রেপ্তারের খবর। শহীদুল আলমকে বেগম জিয়া চিনতেন না। প্রথমেই জানতে চান শহীদুল আলম কে। পরে একজন ডেপুটি জেলার তাকে শহীদুল আলম সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। ড. কামাল হোসেন তার জন্য হাইকোর্টে গেছেন, এটা জেনে বেগম জিয়া আদালতে কি হয় সে সম্পর্কে আগ্রহী হন। আজ সকালে পত্রিকা পড়ে জানতে পারেন, হাইকোর্ট শহিদুল আলমকে অবিলম্বে হাসপাতালে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই খবর পরে বেগম জিয়া কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

সকালে বেগম জিয়াকে দেখতে আসা একজন ডেপুটি জেলারকে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, শহিদুল আলমকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়, অথচ আমাকে নেয়া হয় না। আমার কি অপরাধ?

কারা কর্মকর্তা বলেন, শহিদুল আলমকে তো আদালত হাসপাতালে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত সবার জন্য মানা বাধ্যতামূলক। আপনার আইনজীবীরাও তো এরকম আদালতের নির্দেশনা চাইতে পারতো। কিন্তু তাঁরা তো এরকম নির্দেশনা আদালতে চায়নি।

বেগম জিয়াও এসময় স্বীকার করেন যে, তাঁর আইনজীবীরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। ‘ওরা শুধু পাবলিসিটি করে।’ এসময় একজন কারারক্ষী জানতে চান, ‘তিনি (বেগম জিয়া) কেন ড. কামালকে আইনজীবী হিসেবে নেন না।’ এর জবাবে বেগম জিয়া বলেন, ‘আমি তো তাঁকে নিতেই চাই কিন্তু দলের লোকজনই তো তাকে নেয় না।’

উল্লেখ্য, জিয়া এতিমখানা দূর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বেগম জিয়া কারাগারে। নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে ৬ মাসেরও বেশি সময় থাকা বিএনপির চেয়ারপারসন একাধিকবার উন্নত চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে যেতে চেয়েছেন। কিন্তু সরকার তাঁকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অথবা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিতে চাইলেও, তিনি সেখানে চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান।

সরকার তার চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের নিয়ে একটি, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকদের নিয়ে আরেকটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছিল।

এছাড়াও বেগম জিয়ার পছন্দের চিকিৎসকদের দিয়ে গঠন করা একটি মেডিকেল বোর্ড কিছুদিন আগে কারাগারে গিয়ে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানালেও বেগম জিয়াকে কারাগারের চিকিৎসকরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তিনি সুস্থ আছেন।