প্রচ্ছদ খেলা ক্রিকেট কনিষ্ঠ আঙ্গুলের ব্যথা আর সইতে পারছেন না সাকিব

কনিষ্ঠ আঙ্গুলের ব্যথা আর সইতে পারছেন না সাকিব

18
কনিষ্ঠ আঙ্গুলের ব্যথা আর সইতে পারছেন না সাকিব

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ত্রি‌দেশীয় সিরিজের ফাইনালে ফিল্ডিংয়ের সময় বাঁহাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলে ব্যথা পান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

সেই ব্যথা আর সইতে পারছেন না তিনি। তাই যতদ্রুত সম্ভব অস্ত্রোপচার করে ব্যথামুক্ত হতে চাইছেন তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দেশে ফিরে হযরত শাহজহালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে সাকিব জানান, ‘এটা তো সবাই আমরা জানি এখন যে, সার্জারি করতে হবে। ওটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে কোথায় করলে ভাল হয়, কবে করলে ভাল হয়। তবে আমি মনে করি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করে ফেলা ভাল।’

তবে সাকিব চাইলেই অস্ত্রোপচার করাতে পারবেন কী না সেটা নিয়ে যথেষ্টই সন্দেহ আছে। কেননা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এশিয়া কাপ। সাকিব যদি এই মুহূর্তে তার কনিষ্ঠায় অস্ত্রোপচার করিয়ে ফেলেন, তাহলে নুন্যতম ২ মাস তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে। ফলে অবশ্যম্ভাবী ভাবেই এশিয়া কাপ তিনি খেলতে পারবেন না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মেডিকেল বিভাগে দেয়া তথ্যসূত্রে এমনটাই জানা গেছে।

এদিকে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাকিব আরও জানান, তিনি পুরো ফিট না হয়ে এশিয়া কাপে খেলতে চান না। সাকিব বলেন, ‘আমি তো তাই মনে করি এমন হওয়া উচিৎ। কারণ চাই না যে ফুল ফিট না থেকে খেলতে। কাজেই সেভাবে যদি চিন্তা করি, তাহলে এশিয়া কাপের আগে অস্ত্রোপচার হবে এটাই নরমাল।’

সাকিব আল হাসানের মতো নির্ভরযোগ্য একজন খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে এশিয়া কাপে টাইগারদের পাঠাতে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট মনে হয় না সম্মত হবেন। তবে কি হবে বা না হবে সেই বিতর্কে এখনই না যাওয়াই ভাল। বিষয়টি বোর্ড, সাকিব ও বিসিবি মেডিক্যাল বিভাগের আসন্ন সভার দিকে নজর রাখাই শ্রেয়।

সাকিবের অস্ত্রোপচার নিয়ে দোটানায় বিসিবি

প্রায় ছয় মাস আগে পাওয়া বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুলের ইনজুরি এখনো ভোগাচ্ছে সাকিব আল হাসানকে। বোলিংটা ঠিকঠাক করতে পারলেও সমস্যা হচ্ছে ব্যাটিংয়ে। উইন্ডিজ সফরে খেলতে হয়েছে ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে। আর ইনজুরি কাটিয়ে উঠতে অস্ত্রোপচার ছাড়া গতি নেই।

বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব আঙুলে অস্ত্রোপচার করিয়ে ফেলতে চান তিনি। সম্ভব হলে সেটা এশিয়া কাপের আগেই। কিন্তু এশিয়া কাপের আগেই অস্ত্রোপচার করানোর পক্ষে নন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

এই ধরনের অস্ত্রোপচারের পর মাঠে ফিরতে সাধারণত ছয় সপ্তাহ সময় লাগে। আর সেটা হলে এশিয়া কাপ সাকিবকে ছাড়া খেলতে হবে বাংলাদেশকে। কিন্তু এশিয়া কাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে সাকিবকে হারাতে চান না পাপন। অন্য কোনো সময় সাকিবের অস্ত্রোপচার করানোর পক্ষে তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান কোচ স্টিভ রোডসসহ বোর্ডের পরিচালকদের নিয়ে বৈঠক করেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সেখানে সদ্য শেষ হওয়া উইন্ডিজ সিরিজ, সাকিবের ইনজুরির বর্তমান অবস্থা, আসন্ন এশিয়া কাপ ও ক্রিকেটারদের অসদাচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠক শেষে সাকিবের অস্ত্রোপচারের সম্ভাব্য সময় জানাতে গিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘সাকিব আমাকে বলেছিল হাতে অপারেশন করাতে হবে। হেড কোচও ওখান থেকে ফোন করেছিল। কারণ যে স্ট্রেন্থ ওর দরকার, সেটা পাচ্ছে না ব্যাটিংয়ে। ইনজেকশন নিয়ে খেলছে। কিন্তু অপারেশন হলে অন্তত ছয় সপ্তাহের বিরতি দরকার। এত লম্বা বিরতি পাওয়াটা কঠিন। চেষ্টা করা হচ্ছে যদি কোনো খেলার মাঝখানে করা যায়। আর তা না হলে একটা সিরিজই বাদ দিতে হবে। কিন্তু ওকে ছাড়া খেলা আমরা চিন্তাই করতে পারছি না।’

সাকিবের অস্ত্রোপচারের জন্য পাপনের ভাবনায় জিম্বাবুয়ে সিরিজ। কিন্তু সেটাও নিশ্চিত নয়। সাকিবের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্তের কথা জানালেন বিসিবি প্রধান, ‘এশিয়া কাপের আগেও হতে পারে, পরেও হতে পারে। আজকে কোচের সঙ্গে যে কথা হয়েছে, ও বলেছে এশিয়া কাপের কথাই। আমি বলেছি, এশিয়া কাপের চেয়ে ভালো হয় আমরা জিম্বাবুয়ে সিরিজের সময় করি। নতুন কিছু ক্রিকেটারও দেখতে পারব আমরা। এশিয়া কাপ এমনিতেই এবার কঠিন হবে। তার ওপর সাকিবের মতো একজন ক্রিকেটার না খেললে দলের মনোবল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। আরও কথা হবে। সাকিবের সঙ্গে কথা বলব। তবে আমার মনে হয়, অন্য সময় করাটাই ভালো হবে।’

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ত্রি‌দেশীয় সিরিজের ফাইনালে ফিল্ডিংয়ের সময় বাঁহাতের কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যথা পান সাকিব। ইনজুরিতে প্রায় এক মাস মাঠের বাইরে ছিলেন বাংলাদেশের বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। সেই ইনজুরির কারণে ঘরের মাঠে লঙ্কানদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজটা খেলা হয়নি। শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত নিদাহাস ট্রফির প্রথম তিনটি ম্যাচেও খেলতে পারেননি বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরলেও পুরনো ব্যথা ফিরে এসেছে আবার। তাই ক্যারিবীয়দের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে মাঠে নামতে হয়েছিল ব্যথা প্রশমনকারী ইনজেকশন দিয়ে।