প্রচ্ছদ রাজনীতি বুদ্ধিজীবী-মুক্তমনাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দূরত্ব বাড়ছে কেন?

বুদ্ধিজীবী-মুক্তমনাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দূরত্ব বাড়ছে কেন?

80
বুদ্ধিজীবী-মুক্তমনাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দূরত্ব বাড়ছে কেন?

লেখক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী এবং মুক্তমনা ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। আওয়ামী লীগের বিকাশ এবং আন্দোলনে লেখক, শিল্পী এবং বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে শিল্পী সাহিত্যিকদের আলাদা সখ্যতা ছিল। সময় পেলেই তিনি তাঁদের সময় দিবেন। গল্পে আড্ডায় তাঁদের উৎসাহিত করতেন।

৬৯-এর অসহযোগ আন্দোলন, ৭০-এর নির্বাচন এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে শিল্পী, সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন আওয়ামী লীগের বড় শক্তি। আবদুল জব্বার থেকে আবদুল গাফফার চৌধুরী সবার সঙ্গে জাতির পিতার ব্যক্তিগত সখ্যতা ছিল। এমনকি বিরুদ্ধ মতের সাংবাদিক বুদ্ধিজীবীদেরও জাতির পিতা ডেকে নিতেন পরম স্নেহে। নির্মল সেনের আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ ‘আমার জবানবন্দি’তে বঙ্গবন্ধুর ঔদার্য এবং ভালোবাসার অনেক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে।

জাতির পিতার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আগলে রাখার ক্ষেত্রে এদেশের প্রগতিশীল লেখক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবীদের অনেক বড় অবদান ছিল। নির্মলেন্দু গুণ, রফিক আজাদ, বেলাল চৌধুরীর কবিতায় জাতির পিতার হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শাণিত উচ্চারণ ছিল। প্রতিবাদ ছিল সাহিত্যে, নাটকে। জাতির পিতার পথ ধরেই শেখ হাসিনাও শিল্পী, সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে নৈকট্য অব্যাহত রাখেন। কবি, লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিকদের জন্য আলাদা করে সময় রাখতেন শেখ হাসিনা। সময় পেলেই, তাদের নিয়ে বসতেন, কথা বলতেন।

কিন্তু ইদানীং আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় শক্তি এই মুক্ত বুদ্ধির মানুষদের সঙ্গেই দলটির সম্পর্কের টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তমনা মানুষজন প্রায়ই হতাশার সুরে বলে, আওয়ামী লীগে এখন শিল্পী, লেখক, সৃষ্টিশীলদের কদর নেই। আওয়ামী লীগে এখন কদর শুধু চাটুকারদের।

সম্প্রতি সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি করেছিল বেশ ক’জন বুদ্ধিজীবী। এদের শীর্ষে যার স্বাক্ষর ছিল তিনি হলেন ড. আনিসুজ্জামান। এই প্রবীণ শিক্ষাবিদ কেবল মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালনই করেন না এখন প্রগতিবাদী মানুষ হিসেবেও প্রশংসিত। বর্তমান সরকারই তাঁকে ‘জাতীয় অধ্যাপক’ করেছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিক্ষকও। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ এবং সমন্বয় থাকলে তিনি সরকারের জন্য বিব্রতকর এরকম বিবৃতি দিতেন না হয়তো। মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ। বেগম সুফিয়া কামালের মেয়ে সুলতানা কামালের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক সখ্য রয়েছে। দুঃসময়ে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যাঁরা হৃদয়ে ধারণ করেছেন সবসময় তাদের একজন সুলতানা কামাল। কিন্তু নানা বিষয়ে সুলতানা কামাল সরকারের কট্টর সমালোচক।

এনজিও সেক্টরের খুশী কবিরকে আওয়ামী লীগ সরকারই ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে সোনালী ব্যাংকের পরিচালক করেছিল। এখন খুশী কবির নানা বিষয়ে সরকারের সমালোচক। সম্প্রতি আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তারের পর, তাঁকে আলম পরিবারের সঙ্গে দেখা গেছে। অধ্যাপক আবুল বারকাত প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন ছিলেন।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। কিন্তু ইদানীং তাঁর সঙ্গেও সরকারের দূরত্ব। অনেক লেখক, শিল্পী বলেন, যারা দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের পাশে থাকতেন, তাদেরই এখন দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ না হলে তাদের খোঁজও কেউ নেয় না। এই অবস্থা আওয়ামী লীগের জন্য মঙ্গলজনক নয়। আওয়ামী লীগের শুভাকাঙ্ক্ষীরা মনে করছে, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা আওয়ামী লীগের বড় শক্তি। দ্রুত উচিত তাদের সঙ্গে দূরত্ব ঘুচিয়ে ফেলা।