প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য স্বর্ণ কেলেঙ্কারি নিয়ে বিপরীতমুখি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও শুল্ক গোয়েন্দা

স্বর্ণ কেলেঙ্কারি নিয়ে বিপরীতমুখি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও শুল্ক গোয়েন্দা

88
স্বর্ণ কেলেঙ্কারি নিয়ে বিপরীতমুখি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও শুল্ক গোয়েন্দা

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে স্বর্ণ গায়েবের অভিযোগ সত্য নয়। বরং স্বর্ণের ওজন ও মান নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দার প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিকেলে মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তবে শুল্ক গোয়েন্দার দাবি সব রকম নিয়ম মেনেই তদন্ত করা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার সত্যতা যাচাই করে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করার পক্ষে মত বিশ্লেষকদের। অন্যথায়, আস্থার সংকটে পড়তে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

শুল্ক গোয়েন্দা, কাস্টমসসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে আটক হওয়া অবৈধ স্বর্ণ নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হয়। রাজস্ব বোর্ড, শুল্ক গোয়েন্দাসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে স্বর্ণের মান ও ওজন যাচাই করে বিস্তারিত বিবরণীসহ প্রত্যয়ন পত্র দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত স্বর্ণের বিষয়ে তদন্ত করে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ২০১৭ এর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত গচ্ছিত ৯৬৩ কেজি স্বর্ণ যাচাই করে দেখা যায় ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের কয়েকটি স্বর্ণালঙ্কারে ৮০ শতাংশের বদলে স্বর্ণ রয়েছে ৪৬ শতাংশ। বাকিগুলোতে স্বর্ণের ক্যারেটের তারতম্য ধরা পড়ে। পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ বিষয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন রাজস্ব বোর্ড হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

পুরো ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংবাদ সম্মেলন ডেকে কেলেংকারি অস্বীকার করেন তারা। প্রশ্ন তোলে শুল্ক গোয়েন্দাদের তদন্তের প্রক্রিয়া নিয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে ছয়টি স্টেপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে। সমস্যা যেটা দেখা গেছে সেটা হলো, এই সোনা যখন রাখা হয়েছিল তখনকার গুণগত মান নিয়ে। এই গুণগত মানের যে পার্থক্য তা হলো ৪০ এবং ৮০।

তিনি আরও বলেন, আমাদের স্বর্ণকার যখন এটা পরীক্ষা করেছেন তখন ৪০ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা দেখেছেন কিন্তু লেখার সময় ৮০ হয়ে গেছে, এছাড়া কোনো ব্যত্যয় হয়নি।

এদিকে, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বলছে, সব রকম নিয়ম মেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই স্বর্ণ পরীক্ষা করা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওনারা বললেন যে, এই অভিযোগ সত্য নয়। তাদের দাবি স্বর্ণ যেমন ছিল, তেমনই আছে। আরেকটা তারতম্য হতে পারে যে, আপনারা আধুনিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন আর তারা যখন নিয়েছে তখন সনাতনী পদ্ধতিতে পরীক্ষা করেছে।’

তবে, দুইটি পরীক্ষার সময়ই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহিদুল ইসলাম আরো বলেন, ‘বিষয়টা কেমন হয়ে গেল না? ব্যাখ্যাটা উল্টো হয়ে গেল না?

তিনি বলেন, ‘আইনি-বেআইনি সবকিছুই ব্যাখ্যা করে সংবাদমাধ্যম বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে তারা একটা উল্টো ব্যাখ্যা দিল। তারা যে এটা বললো, কোন হিসেবে কীভাবে ব্যাখ্যা দিল, সেটা বুঝলাম না।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘটনা যা ই ঘটুক দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আস্থার সংকটে পড়বে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এরইমধ্যে, তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে এনবিআর এর চিঠির লিখিত জবাব পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।