প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য ভল্টের স্বর্ণে কোনো ধরনের হেরফের হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক

ভল্টের স্বর্ণে কোনো ধরনের হেরফের হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক

59
ভল্টের স্বর্ণে কোনো ধরনের হেরফের হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা স্বর্ণে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, ভল্টে রক্ষিত স্বর্ণে কোনো ধরনের হেরফের হয়নি, স্বর্ণকারের ভুলে ভাষার গণ্ডগোলে ৪০ হয়ে গেছে ‘৮০’।

মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রবিউল হোসেন এবং ভল্টের দায়িত্বে থাকা কারেন্সি অফিসার আওলাদ হোসেন চৌধুরী এ দাবি করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্ট থেকে স্বর্ণ চুরি হওয়ার তথ্য দিয়ে মঙ্গলবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনটি ডাকা হয়।

আওলাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রুটি বলতে যা আছে, নথিভুক্ত করার সময় ইংরেজি-বাংলার ভুল। এর বাইরে অন্য ত্রুটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই।”

নির্বাহী পরিচালক রবিউল হাসান বলেন, স্বর্ণ হেরফের হওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। ভল্টে স্বর্ণ যেভাবে রাখা হয়েছিল সেভাবেই আছে। কোনো প্রকার হেরফের হয়নি। হেরফের করার কোনো সুযোগও নেই। ভল্টের ছয় স্তরের নিরাপত্তা আগের মতই খুব সুরক্ষিত আছে।

তিনি আরও বলেন, ভল্টে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুলিশের আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। আদালতের নির্দেশে যেভাবে ভল্টে স্বর্ণ বা অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ রাখা হয়, ঠিক একইভাবে আদালতের নির্দেশেই বের করা হয়। সুতরাং ভল্ট থেকে কোনো কিছু হেরফের করা কোনো রকমেই সম্ভব নয়।

নিলামে তোলা উচিত: সালেহ উদ্দিন আহমেদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, হলমার্ক একটি বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা। কিন্তু ব্যাংকের টাকা হওয়ায় তাদের বিভিন্ন মর্টগেজ রয়েছে, কারখানা বা বিভিন্ন সম্পদ আছে। এগুলো এখন নিলাম করে অর্থ আদায় করা যেতে পারে। বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখলে তো সম্পদ নষ্ট হবে। এটা তো বাড়বে না। তাই আইনগত প্রক্রিয়াগুলোকে দীর্ঘায়িত না করে আদালতের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা যায়। দ্রুত এটা করা উচিত।

তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে ডেসটিনি, যুবকের। তাদের সম্পদ দীর্ঘদিন থেকে অব্যবস্থাপনায় নষ্ট হচ্ছে। গ্রাহকরা কোনো টাকা ফেরত পাচ্ছে না। রাষ্ট্র কোনো অর্থ পাচ্ছে না। এটা যদি একটি কমিটির মাধ্যমে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায় তাতে গ্রাহককে যদি দ্রুত দেওয়া নাও যায় রাষ্ট্র অনেক টাকা পাবে। কিন্তু আমরা দেখছি তার কোনোটাই করা হচ্ছে না। অ্যাডহক ভিত্তিতে দায়িত্ব দেওয়া আছে। কিন্তু সেটা এতদিন ধরে কেন চলবে। একটি কমিটির মাধ্যমে সব সম্পদ অধিগ্রহণ করে যতদিন এর গ্রাহকদের ফেরত না দেওয়া যায় ততদিন আয় করা যায় এমন কিছু করা উচিত। শুধু ফেলে রেখে নানাভাবে ক্ষতিই করা হচ্ছে। অ্যাডহকভাবে কাউকে দায়িত্ব দিয়ে এভাবে চলতে পারে না। কোথায় কীভাবে সম্পদগুলো আছে তারও কোনো সঠিক তথ্য নেই। বিভিন্ন ভবন আছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা তো আছে। তাহলে কেন এগুলো এভাবে পড়ে থাকবে।