প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য যে ৪ অবস্থায় শরীরের পক্ষে আদা ও অতিরিক্ত ঘুম ক্ষতিকারক

যে ৪ অবস্থায় শরীরের পক্ষে আদা ও অতিরিক্ত ঘুম ক্ষতিকারক

64
যে ৪ অবস্থায় শরীরের পক্ষে আদা ও অতিরিক্ত ঘুম ক্ষতিকারক

রান্নায় আদার ব্যবহার স্বাদে অন্য মাত্রা দেয়। একথা যেমন ঠিক, তেমনি আবার আদার রয়েছে বেশ কিছু ঔষধি গুণাগুণও।
ঠান্ডা লেগে গলা খুসখুস, কাশি, আর্থারাইটিস, বমি ভাবের ক্ষেত্রে এক টুকরো আদা মুখে রাখলে বেশ ভাল ফল পাওয়া যায়।

কিন্তু কথায় বলে, সব কিছুরই একটা খারাপ দিক রয়েছে। তেমনই আদা বেশি পরিমাণে খেলে তা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। শরীরের বিশেষ বিশেষ অবস্থার সময়ে আদা না খাওয়াই উচিত বলে উল্লেখিত হয়েছে বিভিন্ন গবেষণায়। সংক্ষেপে দেখা নেওয়া যাক, কি সেই চারটি শারীরিক অবস্থা-

১। যখন কোনও বিশেষ ধরনের ওষুধ খেতে হয়: যারা ডায়াবেটিস বা ব্লাড প্রেসারের ওষুধ খান, তাদের জন্য আদা বেশ ক্ষতিকারক। কারণ এই দুই অসুখের জন্য যে ওষুধ ব্যবহৃত হয়, তার সঙ্গে আদার রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটলে স্বাস্থ্যের ক্ষতিই হয়। যদিও রক্তের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণে রাখে আদা। যার ফলে রক্তের চাপও কম থাকে।

২। ওজনের সমস্যা: এমনিতেই যদি শরীরের ওজন কম হয়, সে ক্ষেত্রে আদার ব্যবহার খুবই কম করা উচিত। কারণ আদায় ফাইবার থাকে প্রচুর পরিমাণে, যা শরীরের পিএইচ লেভেল বাড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে হজমের প্রক্রিয়া খুবই ভাল হয়। ওজন বাড়াতে চাইলে আদা বাধ সাধে।

৩। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়: আদায় বেশ কয়েক ধরনের স্টিম্যুলেট রয়েছে যা শরীরের পেশী মজবুত করে। তাই অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন মহিলাদের আদা না খাওয়াই ভাল। বিশেষ করে প্রসবের আগের তিন মাস।

৪। রক্তের সমস্যা: শরীরে রক্ত চলাচলে সাহায্য করে আদা। ফলে, যাদের ওজন বেশি ও ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য আদা উপকারী। কিন্তু যাদের হিমোফিলিয়া রয়েছে, তাদের জন্য আদা প্রায় বিষের সমান।

অতিরিক্ত ঘুমে হারাবেন স্মৃতিশক্তি’

সুস্থ জীবনযাপনের জন্য ঘুম অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সেই ঘুম কতটুকু? এ নিয়ে আছে মতবিরোধ। সাধারণত শিশুদের ঘুম একটু বেশি দরকার হয়। বড়দের কম। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য দৈনিক অন্তত ছয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। এটা ক্ষেত্রবিশেষ দু’এক ঘণ্টা বেশি হতে পারে। তবে সেই বেশিটা যেন অতিরিক্ত হয়ে না যায়। কম ঘুম যেমন শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, বেশি ঘুমও তার ব্যতিক্রম নয়। গবেষণা বলছে, একটানা নয় ঘণ্টার বেশি ঘুম অকেজো করে দিতে পারে স্মৃতিশক্তি।

একটু বয়স্ক মানুষেরা অনেকটা সময় ঘুমিয়ে পার করেন। বিশেষ করে, রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ার একটা তাগিদও দেখা যায়। আর সকালে কাজে যাবার ব্যস্ততা না থাকলে হয়ত একটু বেলা করে উঠছেন ঘুম থেকে। অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের মধ্যে এমন প্রবণতা দেখলে কেউই তা অস্বাভাবিক মনে করবেন না হয়ত।

কিন্তু নতুন এক গবেষণা বলছে, বিষয়টি উদ্বেগজনক। কারণ ঘুমানোর এই প্যাটার্নই হতে পারে অ্যালঝেইমার রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। আক্রান্ত হতে পারেন ‘ভুলে যাওয়া’ রোগে।

গবেষণায় জানা গেছে, রাতে নয় ঘণ্টার বেশি ঘুমাচ্ছেন এমন ব্যক্তি, যারা আগে এর চেয়ে কম ঘুমাতেন, অন্যদের তুলনায় তাদের অ্যালঝেইমার রোগে আক্রান্ত হবার শঙ্কা দ্বিগুণ থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ষাটোর্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে গবেষণা চালিয়ে এমন ফলাফলে উপনীত হয়েছেন।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ঘুমের ভেতরে মানুষের স্মৃতি তৈরি হয়, বিশেষ করে হালকা ঘুমের সময়। কিন্তু একটানা দীর্ঘ ঘুম এক্ষেত্রে সে প্রক্রিয়ায় বাঁধা দেয়। অর্থাৎ, আপনি শরীর ও মনের বিশ্রাম দিতে ঘুমাবেন, কিন্তু সেই ঘুমটা যদি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত হয়ে যায় তবে ঘুমিয়ে পড়বে আপনার স্মৃতিশক্তিও।

অ্যালঝেইমার কী: ডিমেনশিয়া (Dementia) হল এক ধরনের মস্তিষ্কের ব্যাধি যা স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব ফেলে। অ্যালঝেইমার ডিজিজ হলো ডিমেনশিয়ার একটি সাধারণ রূপ। এই সমস্যা তীব্র অবস্থায় চলে গেলে এটি রোগীকে তার দৈনন্দিন কাজ করতে, বন্ধু-বান্ধব, আত্নীয়-স্বজনকে চিনতে এবং কোনো কথা বুঝতে বাধা দেয়। এটি একটি মারাত্নক রোগ যা সময়ের সাথে সাথে আরও খারাপ অবস্থার সৃষ্টি করে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। এই রোগের চিকিৎসা খুবই সীমিত, তবে প্রাথমিক অবস্থায় ওষুধের সাহায্যে এর চিকিৎসা করা হলে তা অত্যন্ত কার্যকর হয়। এ রোগ বয়স্কদের বেশি হয়ে থাকে। পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের অ্যালঝেইমার রোগ, দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপ এবং কোনো ধরনের মানসিক আঘাত পাওয়ার ঘটনা থাকলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।